বাগেরহাট রামপালের আবুল কালাম (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১ টায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের আয়োজনে গিলাতলা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা ৮টি পদের ৮ টিতেই জামাতের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিজাত কুমার পালকে আওয়ামী দোসর আখ্যা দিয়ে তদন্ত-পূর্বক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষ যাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে পরীক্ষার দিনে সকলের মোবাইলে উত্তরপত্রের মেসেজ দিয়েছে। অনেকে টেবিলের উপর লিখে রেখেছে। ৮টি পদের বিপরীতে ৮৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। পরীক্ষার দিনেই উত্তীর্ণ নিয়োগপ্রাপ্তদের জানিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজনের কাছে বিষয়টি গোপন রেখেছে। ১০-১৫ দিন পরে তাদেরকে জানিয়েছে। নৈশো প্রহরী পদে উত্তীর্ণ ব্যক্তিকে নিয়োগ না দিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত অনেকে বলেন, উপাধ্যক্ষ, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক, ল্যাব সহকারি ও নৈশ প্রহরী পদে মোট আটজনকে অবৈধ পন্থায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিজাত কুমার পাল আওয়ামী দোসর। এলাকায় সে আওয়ামী লীগের একজন ভাল কর্মী হিসেবে পরিচিত। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সে ব্যাপক লুটপাট করেছে। সে এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্যগণ মিলে অনেক টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বাস্তবায়ন করেছেন। এসব বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
তারা আরো বলেন, আবুল কালাম (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়ের আটটি পদের আটটিতেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসা করলে তারা বলছে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা জানতে চাই ৮৪ জন লোকের মধ্যে জামায়াতের ৮ জন লোকই মেধাবী? কলেজ কমিটির সভাপতি জামায়াতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম থাকায় তিনি জামায়াতের কর্মীদের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা এই নিয়োগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে নিয়োগ বাতিল করে নতুন ভাবে পরীক্ষা নেওয়া হোক।
আবুল কালাম (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয় এর অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) পরিজাত কুমার পাল জানান, গত মাসের ৩০ সেপ্টেম্বর ৮টি পদের বিপরীতে ৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি, বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একজন ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও ফলাফল ঘোষণা করেছে। মেধা অনুযায়ী তারাই সিলেক্ট করেছে। আমি বা আমার পরিচালনা কমিটির কেউ এখানে হস্তক্ষেপ করে নাই। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে।
জানতে চাইলে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, উপাধ্যক্ষ, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক, ল্যাব সহকারি ও নৈশ প্রহরী নিয়োগে কোন দুর্নীতি হয় নাই। জামায়াতের লোক নিয়োগ পেয়েছে এটা ঠিক না, তারা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে কিংবা তদবির করে চাকরি পাওয়ার কোন সুযোগ নাই।










