রাশিদা বেগমের বাস্তবধর্মী উপন্যাস “ইউটোপিয়া” রাশিদা বেগমের বাস্তবধর্মী লেখা উপন্যাস “ইউটোপিয়া”। ১৬০ পৃষ্ঠার এই বইটি প্রকাশ করছে অনিন্দ্য প্রকাশ। উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু সমাজের সকল সুবিধাবঞ্চিত অথচ অস্তিত্বসন্ধানী মানুষদের নিয়ে শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। যুগ যুগ ধরে সমাজের ধণিকশ্রেণির মানুষ কর্তৃক শোষিত বঞ্চিত হয়ে আসছে নিচুস্তরের মানুষ। উপেক্ষা, অবহেলা আর অমানবিক শোষণ বঞ্চনার শিকার হচ্ছে কলকারখানার শ্রমিক। শিশুশ্রম বন্ধের আইনও পুঁজিগঠনে ব্যস্ত মানুষগুলোকে দমাতে পারেনি। সমাজের পতিত, নিঃস্ব, অসহায় মানুষকে তারা দূরে ঠেলে রাখে। তাদের কাছে কেবল স্বীয়স্বার্থ বড় হয়ে উঠে। ধনী গরিবের মধ্যে এই বিভাজন সমাজের ভিতকে দুর্বল করে দেয়। শোষণের এই চিত্র লেখক গভীর অন্তরদৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করেছেন এবং অসাধারণ শব্দশৈলী, উপমা প্রয়োগে বিশেষ পারঙ্গমতায় উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। “ইউটোপিয়া” সম্পর্কে লেখক বলেন, “ইউটোপিয়া ” শব্দের অর্থ কল্পরাজ্য। আমি কার্ল মার্কসের সমাজতত্ত্ব দ্বারা কিছুটা প্রভাবিত হয়েছি। আমি এমন এক বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছি যেখানে ধনী গরিবের মধ্যে অর্থে, খাদ্যে, বস্ত্রে, শিক্ষায়, চিকিৎসায়, বাসস্থানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সেই উদ্দেশে মূলত গড়ে উঠেছে ” ইউটোপিয়া”। উপন্যাসের পাত্রপাত্রী সম্পর্কে লেখক বলেন, উপন্যাসজুড়ে বিচরণ করেছে বঞ্চিত শ্রমিক, উচ্চশিক্ষিত বেকার, বেদেবেদেনী, ডিভোর্সী, হিজড়া, ধর্ষিতা। তাদের প্রাত্যহিক জীবনের টানাপড়েন, প্রেমবিরহ,সন্দেহ,অবিশ্বাস,একাকীত্ব,সম্পর্কের নানামুখী জটিলতা আমার চিন্তায় সবসময়ই ক্রিয়াশীল ছিল। তাদের দুঃখকষ্ট,অভাব- অনটন,ক্ষুধাদারিদ্র্য নিরসনই এ উপন্যাসের অন্বিষ্ট। তবে নানামুখী জটিলতা,হতাশার মাঝে তাদের জীবনে আনন্দের ঢেউ জাগে। ধসে যাওয়া জীবনে ও আনন্দের সঞ্চার হয়।জীবনের বাকি দিনগুলো আশাতীত সুখে রাখতে গড়ে উঠে “ইউটোপিয়া”। বইটি বইমেলায় অনিন্দ্য প্রকাশনীর স্টল ছাড়াও রকমারি ডট কম এর অনলাইন থেকে ক্রয় করা যাবে।








