একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজাকারের নামের তালিকা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ৮ জনের নামের তালিকা উঠে আসে, তারা হলেন মাওলানা সাইফুদ্দি ইয়াহিয়া দরগাপাড়া, পোষ্ট অফিস. শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ (পাবনা)। মৌলভী মোঃ আসরাফ আলী দরগা রোড সিরাজগঞ্জ পাবনা, সিরাজগঞ্জ । মৌলভী এস মজিবুর রহমান জগৎগাঁতী সিরাজগঞ্জ (পাবনা), সিরাজগঞ্জ। মিষ্টার এম এ মতিন, গ্রাম শোহাগপুর পোষ্ট অফিস বেলকুচি। মোঃ আলতাফ হোসেন ভূঁইয়া গ্রাম রশিদপুর হাটিকুমরুল , পোষ্ট অফিস (পাবনা) সিরাজগঞ্জ। মোঃ আব্দুল মজিদ গ্রাম কুশাল পোষ্ট অফিস শাহজাদপুর (পাবনা) সিরাজগঞ্জ। মোঃ আবু মূসা মূল্লিক গ্রাম রশিদপুরা পোষ্ট অফিস উল্লাপাড়া (পাবনা) সিরাজগঞ্জ। তবে গোলাম আজম তালুকদার মোক্তার পাড়া (পাবনা) সিরাজগঞ্জ এর নামটি নথিতে প্রত্যাহার দেখা গেছে।
প্রথম পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের নামের তালিকা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধিনতাবিরোধীরা রাজাকার-আল বদর নামে সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের আগে তাদের নামের তালিকা প্রণয়ন করা ছিল। সংসদেও এ বিষয়ে কথা হয়ে ছিলো । এরই আলোকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রেকর্ড সংগ্রহ করে রাজাকারদের তালিকা করা হয়েছে । বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় অনেক রাজাকার-আলবদরের রেকর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রাজাকারদের নাম-পরিচয় নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্যই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন করে কোনো তালিকা করিনি। পাকিস্থান সরকার কর্তৃক যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং যেসব পুরনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল সেটুকু প্রকাশ করেছেন। তৎকালীন বিভিন্ন জেলার রেকর্ড রুম থেকে এবং বিজি প্রেসে ছাপানো তালিকাও সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে। যাচাই-বাচাই করে ধাপে-ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে। সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিল। ওই সময় গ্রামে-গঞ্জে বেসিক ডেমোক্রেসি মেম্বার ছিল, তাদের রাজাকার বাহিনীতে লোক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। গ্রামের এসব মেম্বার এবং বিভিন্ন দল (যেমন জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, জামাতে ওলামা, কনভেনশন মুসলিম লীগ) যারা পাকিস্থানের সমর্থক- ওই রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়। এসব দলের নেতা রাজাকার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তবে রাজাকার বাহিনী তৈরির পেছনে ছিল পাকিস্থানের গোয়েন্দা বাহিনী এবং তাদের জেনারেলরা। ওই সব বেতনভুক্ত রাজাকার এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যাদের বিরুদ্ধে দালাল আইনে মামলা হয়েছিল, তাদের নিয়েই রাজাকারের তালিকা চূড়ান্ত করেছে সরকার।









