একটি জাতিকে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে প্রয়োজন দেশপ্রেম, সততা ও আত্মমর্যাদাবোধ। দেশপ্রেম মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, জাতীয় পরিচয়কে দৃঢ় করে এবং দেশের প্রতি গর্ববোধ জাগিয়ে তোলে। যে নাগরিক নিজের দেশকে ভালোবাসে, সে দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও অগ্রগতির জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে-এমনটাই ইতিহাসের শিক্ষা। দেশপ্রেমিক মানুষেরাই দুর্নীতি, অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথম আওয়াজ তোলে। ত্যাগ, সততা ও সাহসিকতার এই মূল্যবোধই একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ দেশের ভিত্তি।
এমনই আদর্শবোধের উজ্জ্বল উদাহরণ সিরাজগঞ্জের কৃতি সন্তান, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক পরিচালক গোলাম রসূল। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সৎ থাকা যে কত বড় চ্যালেঞ্জের, তা তিনি জীবনের নানা সময়ে হামলার মুখে পড়ে উপলব্ধি করেছেন। তবুও এক চুল নড়েননি তার নীতিবোধ। সাদামাটা জীবনযাপন, দেশপ্রেম ও নিঃস্বার্থ সেবার মানসিকতা এই তিন বৈশিষ্ট্য তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আপন করে তুলেছে।
এই সৎ ও সাহসী ব্যক্তিত্বের অনুকরণে এগিয়ে যাচ্ছেন তার পুত্র সাব্বির আহমেদ তামিম। সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনে এবি পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নতুন আশা জাগিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কুড়ালিয়া গ্রামের সন্তান তামিম বর্তমানে পেশাজীবনে সফল একজন উদ্যোক্তা। মেডিএইডার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি চিকিৎসা খাতকে মানুষের দ্বারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে তিনি কর্মজীবনে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।
মানবসেবা তার কাজের মূল লক্ষ্য। এক যুগ ব্যাংকিং খাতে চাকরি করার পর তিনি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার তৈরির উদ্দেশ্যে ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেন দাতব্য সংস্থা, ডোনেট ফর গুড, যার মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে প্রায় তিন কোটি টাকার খাদ্য বিতরণ এবং ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে।
সিরাজগঞ্জের কুড়ালিয়া গ্রামের প্রবীণ সমাজসেবক রশিদুল আলম বলেন,
গোলাম রসূলকে আমরা ছোটবেলা থেকেই চিনি তিনি সততার প্রতীক ছিলেন। তার ছেলেও সেই পথেই হাঁটছে। তামিম দাতব্য কাজগুলো দেখলে মনে হয়, এলাকায় নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় কলেজছাত্রী ফারহানা হক বলেন,
আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যিনি শিক্ষার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান আর প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি নিয়ে কাজ করবেন। তামিম ভাইয়ের পরিকল্পনাগুলো যুবসমাজকে আশাবাদী করেছে।
অন্যদিকে কাজিপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান মন্তব্য করেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা আর বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ দরকার। এই বিষয়ে তিনি যে উদ্যোগ নিতে চান, তা এলাকাবাসীকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে নিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা, বেকারদের কর্মসংস্থান, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ,রপ্রযুক্তিনির্ভর কৃষির উন্নয়ন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে হাওয়া, তা আরো দৃঢ়ভাবে টের পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। রাজনীতি আর পেশিশক্তি ও টাকার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না এই বিশ্বাস এখন অনেকের মনে। সৎ, শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক নেতৃত্বই সময়ের দাবি।
আজকের প্রজন্ম যদি দেশপ্রেমকে অন্তরে ধারণ করে, তবে জাতি এগিয়ে যাবে সম্মানের সঙ্গে এটাই তামিমের বার্তা। তার ভাষায়, সবার আগে বাংলাদেশ এই মূল্যবোধ মানুষকে বদলে দিতে পারে। দেশপ্রেম জাগ্রত হলে সৎ নেতৃত্বকেই মানুষ এগিয়ে নেবে। তিনি বলেন, সত্যি বলতে, আমাদের এই সুজলা সুফলা দেশের অভাব সম্পদের নয়, অভাব সৎ নেতৃত্বের। আর সেই নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগানোই প্রধান শর্ত।










