এলাকাবাসী জানান, প্রভাষক মনিরুজ্জামান মনিক এর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল পার্শ্ববর্তী ফজলুল হকের পরিবারের । এই বিরোধের জের ধরে প্রায়ই দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এর নেপথ্যে কে এর সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি দাবি করেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ফজলুর মেজ ভাইয়ের স্ত্রী নাজমা খাতুন চোর চোর করে চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শুনে ছুটে যায আশপাশের লোকজন । এ সময় গিয়ে মামুন হোসেনের স্ত্রী রাশেদা ইসলামের গলায় কাটা রক্তাত্ব অবস্থায় ছটফট করছে। তাকে স্থানীয়রা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে কারা মেরেছে জানতে চাইলে সে জানায় দুই জন মুখোশধারী লোক আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।
পার্শ্ববর্তী সাইদুল ইসলাম এর ছেলে ছাদেক জানান, মনিরুজ্জামান মনিকের কাছে আমরা টাকা হাওলাদ করতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি সাড়ে চারটা থেকে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ মনিরুজ্জামান মনি ভাইয়ের কাছে ফোন আসে সে আমাদের বলেন বাড়িতে সমস্যা হয়েছে। বাড়ি যেতে হবে। আমিও ভাইয়ের পেছন পেছন যায়। সেখানে গিয়ে শুনি মামুনের স্ত্রীকে কারা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে।
সোন্দাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আসলাম উদ্দিন এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আসরের নামাজ পড়েই আমি মনিরুজ্জামান মনিকের সাথে ছিলাম। এই খবর শোনার পর আমরা একসাথে মনিরুজ্জামান মনিকের বাড়িতে যায়। তবে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে রাশেদা ইসলাম এর সাথে কুমারখালী হাসপাতালে গিয়ে দেখা করলে সে জানান, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় আমার দুলাভাই পার্শ্ববর্তী ছাত্তার বিশ্বাসের ছেলে মনিরুজ্জামান মনি, তার ভাই কামরুজ্জামান মিলন ও চাচাতো ভাই আক্তার বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রশিদ। আমি সকলকে চিনে ফেলেছিলাম। আমার আত্মচিৎকারে আমার শাশুড়ি ও শশুর ছুটে আসলে তারা বেড়া ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। এবিষয়ে আমার স্বামী বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে রাশেদা ইসলামের মা মাহমুদা বেগম ও ভাই মারুফ ইসলাম রিদুয়ান ২৫ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে কুমারখালী বাস স্টান্ড সংলগ্ন কাঙ্গাল হরিনাথ প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন করেন।
উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে মাহমুদা বেগম জানান, আমার ছোট মেয়ে রাশেদা ইসলাম অনিয়া তার বড় দুলাভাই মনিরুজ্জামান মানিকের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাতের যে অভিযোগ এনেছে তা ভিত্তিহীন। তিনি আরো জানান,প্রকৃত পক্ষ্যে আমার ছোট মেয়ে অনিয়া ও তার স্বামী মামুন বিবাদ মান জমি সংক্রান্ত জেরে বড় জামাই মানিককে ফাঁসানোর জন্য তারা নিজে নিজে গলা কাটার ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য গত সোমবার ২৩ ডিসেম্বর সন্ধায়কুমারখালীর নন্দনালপুর ইউনিয়নের চকরঘুয়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুলাভাই মনিরুজ্জামান মানিক (৩৮) কর্তৃক শালী রাশেদা ইসলাম (১৯) কে ছুরিকাঘাত করে হত্যা চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া যায়।এঘটনায় রাশেদা ইসলাম অনিয়ার স্বামী মামুন বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলা ১৫,তাং-২৪/১২/২০১৯।









