এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর) থেকে ॥
যশোর জেলা বিএনপির সহসভাপতি কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪র্থ বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু বকর আবু ঢাকায় অপহরণ হয়েছে। রোববার রাত ৮টার পর রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। দুই দফায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপোন দিয়েও জনপ্রীয় এই নেতার মুক্তি মেলেনি। এ ঘটনায় তার অনুসারী নেতাকর্মীরা উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছে।
তার পারিবারিক ও ঢাকায় অবস্থানরত বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবু বকর আবু গত ১২ নভেম্বর ঢাকায় যান। পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলের ৪র্থ তলায় ৪১৩ নং রুমে থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে ও জমা দিয়ে সোমবার সাক্ষাৎকার বোর্ডে অংশ নেওয়ার জন্য ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। রোববার রাত ৮টার দিকে তার সঙ্গী মজিদপুর ইউপি মেম্বার সাইফুল ইসলাম ওষুধ কিনে ফিরে এসে তাকে আর রুমে পায়নি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে কেশবপুরে অবস্থানরত তার এক ভাগ্নের মোবাইলে কয়েকবার মিসকল আসে। প্রত্যেকবার ব্যাক কলে শুধু হ্যালো হ্যালো ছাড়া কোন কথা হয়নি। এরপর ০৯৬৩৮৮৮৮২০২ নম্বর মোবাইল থেকে ওই ভাগ্নের কাছে ফোন দিয়ে তার মামার জন্য দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ জন্য ওই রাতে কয়েকটি বিক্যাশ নম্বরও সরবরাহ করেন তারা। কিন্তু রাত ১২টার পর বিক্যাশের ট্রানজিট বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার সকালে অপহরণকারীরা ০১৭৪৮১১০৫৭৭ নম্বর মোবাইল থেকে যোগাযোগ করায় দেড় লাখ টাকা বিক্যাশ করা হয়। এরপর সকাল ৯টার দিকে অপহরণকারীরা দেড় লাখ টাকার প্রাপ্তি স্বীকার করে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। বহু অনুরোধের পর অপহরণকারীরা ২০ হাজার টাকা বিক্যাশ করার জন্য ২টি নম্বর সরবরাহ করে বলেন ওই টাকা পাওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে আবু বকর আবুকে ওই হোটেলের সামনে ছেড়ে আসা হবে। সাড়ে ১০টার দিকে ২০ হাজার টাকা বিক্যাশ করার পরও তাকে ছাড়া হয়নি এবং তারা আর মোবাইল রিসিভ করেনি। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে অপহরণকারীদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এ খবর লেখা পর্যন্ত আবু বকর আবুর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
৭০ বছর বয়সী আবু বকর আবুর ছোট বোন আঞ্জুমানারা বলেন, আমার ভাই কেশবপুরের বিএনপি নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ছিল। সোমবার বিএনপির সাক্ষাৎকার বোর্ডে হাজির হতে না দেওয়ার জন্য তার প্রতিদ্বন্ধীদের কেউ তাকে অপহরণ করিয়েছে।









