দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. তৌহিদুজ্জামান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম এবং রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমীন নেলীসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, দেশে মাদকসেবীদের প্রায় ৯৮ শতাংশই ধূমপানের মাধ্যমে আসক্তির পথে যাত্রা শুরু করে। ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
তারা আরও বলেন, তামাক শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে না, এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন ধূমপায়ী প্রতিদিন তামাকের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করেন, তা দিয়ে একটি পরিবারের দৈনন্দিন সবজি বাজার করা সম্ভব।
বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তারা বলেন, অনেক অভিভাবক সন্তানদের সামনে ধূমপান করেন, ফলে শিশুরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত ধোঁয়ার শিকার হচ্ছে।
আলোচনা সভায় তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, বিশেষ করে ১৮ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তির কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় বন্ধে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।
এছাড়া তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সরকারি চাকরিতে ধূমপায়ীদের অযোগ্য ঘোষণার দাবিও উত্থাপন করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।









