গাজীপুরের শ্রীপুরে টুনটুনি নামে বিস্ময়কর ছোট গরুর সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশি জাতের এ গরুটির বয়স বছর পার হলেও ছোট রয়ে গেছে। গিনেজ বুক অব ওয়াল্ডে রাণী নামের গরুর স্বীকৃতির রেকর্ড ভেঙ্গে দিতে পারে টুনটুনি নামের বকনা গরুটি। মা আদর করতে চাইলে দৌঁড়ে দুরে সরে যায় দুষ্ট টুনটুনি। মা মুখ নাড়তেই ফের মায়ের গা ঘেঁষে দাঁড়ায় সে। এমনি খুঁনসুটিতে সকাল গড়িয়ে বিকাল পর্যন্ত মায়ের চার পাশে ঘুরাফেরায় মত্ত থাকে এক বছর বয়সের দেশের সব চেয়ে খর্বাকৃতির ছোট গরু টুনটুনি। পরিবারের দাবি এটিই হতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট গরু। যার ওজন একুুুশ বাইশ(২১/২২) কেজি হবে বলে জানান গরুর মালিক। এমনি একটি ছোট্ট (খর্বাকৃতি) গরুর সন্ধান পাওয়া গেছে উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের হায়ারখার চালা আড়ালিয়া ভিটা গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে কৃষক আবুল কাশেমের পালিত একটি গাভীর গর্ভে কাজলা সাদা রঙের খর্বাকৃতির এ বকনা বাছুরের জন্ম।
গরুর মালিক আবুল কাশেম জানান, তাঁর সাতটি গরু রয়েছে। তার মধ্যে তিনটি গাভী এবং চারটি ষাঁড়। গাভী তিনটির মধ্যে একটি গাভী বেশ বয়স্ক হয়ে পড়েছে । সে গাভীটি আটটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে। গত বছর সে গাভীটি হিটে (গর্ভ ধারনের সময়) আসলে ষাঁড়ের মাধ্যমে বীজ দেওয়া হয়। পরে মা গাভীটি খুবই ছোট আকারের একটি বাচ্চা প্রসব করে। যা দেখতে হয়েছে খরগোশের বাচ্ছার মতো । জন্মের সময় বাছুরের লিঙ্গ নির্ণয় করা যায়নি। কদিন পর সেটি একটি বকনা (মাদি) বাছুর তা চোখে পড়ে।
কাশেমের স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, আমরা কৃষক পরিবার। নিয়মিত গরু লালন পালন করি। সব সময় আমাদের গোয়ালে ৭/৮ টি গরু থাকে। এ গাভীটির গর্ভে গত বছর অদ্ভুত এক বকনা বাছুর জন্ম নিছে। বাছুর এতো ছোট ছিল যে গাভীর ওলানে মুখ লাগাতে পারতো না। পরে কোনো উপায়ন্তর না দেখে তাড়াতাড়ি করে বোতলে দুধ ভরে বান দিয়ে খাওয়ানো হতো বাছুরকে। পরে কুলে তুলে উঁচু করে গাভীর ওলানে ধরলে সে নিজে নিজেই দুধ খেতে পারতো। সকাল দুপুর রাত করে দুধ খাওয়ানো হয়েছে। এরি মধ্যে এক বছর বয়স হলো বাছুরটির। কিন্তু গায়ে গতরে বড় হচ্ছে না। তিনি বলেন এখন এ বাছুরকে সন্তানের মত আদর করি। অন্য রকম আনন্দ লাগে। গ্রামের মানুষ দেখতে আসে ছবি তুলে দেখতে ভালো লাগে। যদি এটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু হয় তাহলে আমাদের গর্ব আমাদের দেশের গর্ব।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান পলাশ জানান, খবর পেয়ে সে খর্বাকৃতির গরুটি দেখতে গিয়েছিলাম। আসলেই বিস্ময় দেখতে দারুন। আশা করি এটি রের্কড করতে পারে গিনেজ বুক অব ওয়াল্ডে। যাচাই বাছাই করে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু এটি তবে গিনেজ বুক অব ওয়াল্ডের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করবো।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। খুবই ছোট গরুটি। ওজনও খুব কম। প্রাণী সম্পদ বিভাগের সাথে কথা হয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।









