, , ,

শিরোনামঃ-




নাম তার ‘দুধফল’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : জুন ১৯ ২০১৮, ১৮:৫৭ | 1079 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

নয়া আলো ডেস্কঃ-  কবে কি ভাবে বেড়ে উঠেছে, সে কথা কারও সঠিকভাবে জানা নেই। পুকুরের পাড়ে দিনে দিনে বেড়ে উঠেছে।

 

দিন ও কাল পেরিয়ে এখন তার বয়স প্রায় ২০০ বছর। এ গাছের প্রকৃত কোন নাম কেউ বলতে পারে না। গাছটি শুরুতে অচিন হিসেবে থাকলেও, ফল ধরার পর সে গাছের নাম দেয়া হয়েছে দুধফল। এ গাছের ফল ভাঙলে ভেতরে দুধের মত রস বের হয়। সে কারণেই স্থানীয়রা গাছের নাম দিয়েছে দুধফল। বগুড়ার আদমদীঘির উপজেলা সদরের চড়কতলা এলাকার নিয়োগী বাড়ির পুকুরপাড়ে দুধফল গাছটি প্রায় ২০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

জানা গেছে, বগুড়ার আদমদিঘি উপজেলার দুধফল গাছটি প্রায় তিন কালের সাক্ষী হয়ে আছে। বৃটিশ, পাকিস্থান ও বাংলাদেশ এই তিনকালের সাক্ষী দুধফল গাছটি নিয়ে বছরের পর বছর এলাকার মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। স্থানীয়দের দেওয়া ‘দুধফল’ নামেই এটি পরিচিত।

 

এর ফল ছোট আকারের সবুজ বর্ণের। এটির বৃন্ত ছোট, ফুল লম্বাকৃতির ও ফল ডিম্বাকার। ফলটি পাকলে সম্পূর্ণ হলুদ বর্ণের হয়ে যায়। আর এ ফলের ভিতর ঘন সাদা ধপধপে দুধের মত আঠালো এক ধরণের রস রয়েছে। যা খেতে খুবই সু-স্বাদু। স্থানীয়রা ফল পাকলে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে থাকে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সদরের চড়কতলা গ্রামের নিয়োগী বাড়ির পুকুর পাড়ে এই দুধফল গাছটির ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে আজ পর্যন্ত কেউ এর নতুন চারা উৎপাদন করতে পারেনি। তবে ওই গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি সত্যেশ চন্দ্র নিয়োগী (ভানু) বাবু শখ করে ২০১৭ সালে বাড়ির আঙিনায় একটি চারা উৎপাদন করে গাছ লাগান। কিন্তু সেই গাছ এখন মোটামুটি বড় হয়েছে। তবে এলাকার অনেকেই বলেন, এর আগে যারা গাছের ছোট চারা এনে লাগিয়েছেন কেউই গাছটি বড় করতে পারেননি।

 

বগুড়ার আদমদীঘির উপজেলা সদরের চড়কতলা এলাকার আব্দুল মান্নান জানান, জৈষ্ঠ্য মাসে গাছটির ফল পাকে। ফল ভাঙলে তার ভেতরে দুধের মত সাদা রস পাওয়া যায়। সেটি খুবই মিষ্টি এবং ভিন্ন একটি স্বাদ রয়েছে। তিনিও প্রায় ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে গাছটি দেখছেন। তিনিও তার বড়দের কাছে গাছটির শুধু নামই শুনেছেন দুধফল গাছ। কিন্তু প্রকৃত কি নাম সেটি জানতে বা তাকে কেউ বলতে পারেনি।

 

নিয়োগী পরিবারের সদস্য প্রবীন সত্যেশ চন্দ্র নিয়োগী (ভানু) জানান, তার দাদা এই পুকুর পাড়ে শখের বসে গাছটি লাগিয়েছিলেন। এই গাছের ফল পাকলে খেতে বেশ ভারী মজা। তাঁরা স্থানীয় ভাষায় গাছটির নাম দিয়েছে ‘দুধফল’ গাছ। শুধু তাই নয়, এটি সৃষ্টিকর্তার এক অলৌকিক সৃষ্টির দান বলেও মনে করেন অনেকে। বছরের বৈশাখ মাসে ডালে শোভা পায় ফুল, তারপর কিছুদিন যাওয়ার পর গাছে ফলের আকৃতি ধারণ করে। তারপর মধু মাস জৈষ্ঠ্যের শুরুতেই এই ফলটি আবরণ আর রং বদলে এটি ধারণ করে হলুদ বর্ণের। এই ফলটি হলুদ বর্ণে পাকলেই এলাকার ছোট, বড়, আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা সকলেই যেন এক বার দুধে ভরা মধুর মিষ্টি এই ফলটি খাওয়ার জন্য গাছ তলায় যায়। তবে গাছটির প্রকৃত পরিচয় না জানার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে এটি নিয়ে প্রচুর কৌতূহলও রয়েছে। এলাকার সবাই এটিকে ‘দুধফল’ গাছ নামেই চেনে। এই গাছের গুণগত মান, ফলের খাদ্যমান, ওষুধি গুণ এবং চারা তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করা দরকার।

 

গাছটির প্রকৃত নাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘এটির বৈজ্ঞানিক কোনো নাম তারা এখনো জানতে পারিনি। ’ তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলে এই ২শ বছর বয়সী গাছ চোখেই পড়েনা। এদিক থেকে এ গাছের গুরুত্ব অনেক। খুব চেষ্টা করছি গাছটিকে টিকিয়ে রাখতে। ‘

 

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা গাছটি সম্পর্কে কোন তথ্য দিনে পারেনি। কর্মকর্তারা বলেন, তারা এলাকায় গিয়ে গাছটি দেখতে চান।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET