নয়া-আলো ডেস্ক:
অভিনয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন থেকেই দেশের প্রায় সব রকম সামাজিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলনে তার উপস্থিতি। ফেনী-৩ আসন (দাগনভূঁঞা-সোনাগাজী) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। নির্বাচনের পূর্বেই তিনি স্থানীয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক ব্যস্ততা নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- রুহুল আমিন ভূঁইয়া
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ কীভাবে?
রাজনীতি দেখেই বড় হয়েছি। বাবা আওয়ামী লীগ করতেন, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ছিলেন। আমরাও সেই রাজনৈতিক আদর্শের আবহের মধ্যেই বড় হয়েছি। আমি অভিনয় করি ছোটবেলা থেকে, আর রাজনীতিতে সক্রিয় হই পারিবারিকভাবে। পারিবারিক আবহেই আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। আমাদের বাড়িতে আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিং হতো। বাবা আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। আমি যখন অভিনয় করছি তখনো রাজনীতি করছি। আমি যখন নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছি রাজনীতি করছি, রাজনীতির কথাই বলেছি। মুক্তিযুদ্ধের কথাই বলেছি। রাউন্ড টেবিল, সভা-সমিতি কিংবা সেমিনার করেছি সেখানেও নিজেকে রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় দিয়েছি। আমি মানববন্ধন-সমাবেশ করেছি, যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি জানিয়ে রাজপথে নেমেছি। অপরাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। দেশের সব তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছি। বক্তব্য দিয়েছি, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কাজ করছি।
দলের জন্য ব্যস্ততা কেমন?
আমার সব ব্যস্ততা দলের জন্য। এখন আর আমি অভিনয় করছি না। আমার রুটি রুজির জন্য যে নির্দেশনা ব্যবসা বাণিজ্য সেগুলো করি। এটা তো রুটিরুজি আমাকে খেতে হবে, সংসার চালাতে হবে। রাজনীতি আমার সামাজিক কর্মকাণ্ড, বড় প্রেক্ষাপট। আমি ১০০% সময়টাই রাজনীতিতে দেই। আমার বড় মেয়ে দেশের বাইরে। ছোট একটা মেয়ে আছে পরিবারের জন্য তেমন জটিলতা নেই। আমি পুরোটাইমই রাজনীতিবিদ। আমি সপ্তাহে দুইবার এলাকায় যাই। শ্রমিক পরিবহন ফেডারেশন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী গণবিচার আন্দোলন এগুলো পুরোটাই রাজনীতি। আমরা ছয় দফার দাবি তুলে ধরেছি। যা কিছু বলছি, করছি সবই রাজনীতি।
মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন- এটা কি আগে থেকেই পরিকল্পনায় ছিল?
অবশ্যই। এটা পরিকল্পনা নয়, দীর্ঘদিনের ফিল্ড ওয়ার্কেরই অংশ। কারণ আপনি হুট করে কিছু করতে পারবেন না। আমি খুবই কৃতজ্ঞ আমাকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেয়ার জন্য। দলের জন্য এবং এই দেশের মানুষের জন্য কাজ করার জন্যই আমাকে নেত্রী এই সুযোগটি করে দিয়েছেন। আমি দলের গঠনতন্ত্রের যে শৃঙ্খলা আছে সেটা মেনে কাজ করার চেষ্টা করি।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভাবনা কী?
আমি অবশ্যই নির্বাচন করতে চাই, কিন্তু ব্যাপারটা এমন না। আমি নির্বাচন করব বলেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় তা কিন্তু নয়। আমি নির্বাচন করতে চাই একজন কর্মী হিসেবে, এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি রোকেয়া প্রাচী কাজ করছি দলের জন্য।
আপনার রাজনৈতিক এলাকা নিয়ে বলুন-
আমার এলাকা ফেনী-৩ সোনাগাজী-দাগনভূঞা দুটি উপজেলা নিয়ে। যেখানে কেউ শুনেছে আমি সোনাগাজীর মেয়ে সেখানেই বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে স্বপ্ন দেখি এবং নিজেকে রাজনীতির জন্য প্রস্তুত করেছি, নির্বাচন করতে চাই। আমি মনে করি একজন রাজনৈতিক কর্মীর স্বপ্ন থাকা উচিত নির্বাচনের। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, স্বপ্নের বাস্তবায়নের প্রস্তুতি থাকতে হবে। নির্বাচন করা অনেক বড় একটি বিষয়। এটা ব্যক্তি রোকেয়া প্রাচীর ইচ্ছে না আমি একটি দলকে উপস্থাপন করব। আমি নির্বাচন করতে চাই দলকে জিতিয়ে আনতে হবে। সেই রকম প্রস্তুতি থাকতে হবে।
অভিনয়ের জগৎ থেকে রাজনীতির মাঠে- দুটি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন, কেমন লাগছে?
অভিনয় একেবারেই আলদা। সেখানে আমি একটা চরিত্রকে নিয়ে ভাবছি। সেখানে অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার কিছু নেই। তবে আমার কাছে দেশ আশা করে, সমাজ আশা করে। আমাকে দিতে হবে, নিতে নয়। অভিনেত্রীর সবটাই প্রাপ্তি। রাজনীতিবিদের প্রাপ্তি নেই বরং ত্যাগ স্বীকার করা। আমি যেখানেই কাজ করতে গিয়েছি মানুষ আমাকে দারুণভাবে নিয়েছে।
অভিনেত্রী, রাজনীতিবিদ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড- কোন পরিচয়টা আপনার কাছে বড়?
রাজনীতি। সৎভাবে যদি রাজনীতি করা যায় তাহলে সাধারণ মানুষের যে সম্মান ভালোবাসা এটা অনেক বড়। মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি, দেশের জন্য কিছু করতে পারছি, ফাইট করছি এটাই অনেক বড় পাওয়া। রাজনীতি এক প্রকারের যুদ্ধ। রাজনীতি আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়, শক্তি দেয়। যে রাজনীতি বঙ্গবন্ধু করছেন সেটা আমি করতে পারছি। যে দেশ রক্ষা করার জন্য বঙ্গবন্ধুসহ তিশ লাখ মানুষ রক্ত দিয়েছে আমি সেই রাজনীতি করছি। এটা আমার কাছে অনেক অনুপ্রেরণার। প্রতিদিন নতুন করে স্বপ্ন দেখায়। আমি মনে করি যিনি কাজ করতে পারেন তিনি সর্বাবস্থায় করতে পারেন।









