, , ,

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • মৌলভীবাজার-৪ আসনে পাত্তা পাবেন না ‘অতিথি পাখিরা’




মৌলভীবাজার-৪ আসনে পাত্তা পাবেন না ‘অতিথি পাখিরা’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : নভেম্বর ২২ ২০১৮, ১৮:০২ | 878 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

অনলাইন ডেস্কঃ- মৌলভীবাজার-৪(শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে নির্বাচনকে সামনে রেখে অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। এরা আবার নৌকা ও ধানের শীষের হাল ধরতে চান।

উভয় দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক মাঠে সরব না থাকলেও ভোটের মাঠে উপস্থিত হয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে নতুন অনেক মুখ মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় দলের ফরম কিনেছেন। ফলে দলে নানা কাজে বিতর্কিতরাও এখন মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন।

তবে ভোটের মাঠের জরিপে জানা যায়, সাধারণ মানুষের ধারণা, এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি এবং বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরীর (হাজি মুজিব) বিকল্প কেউ হয়ে উঠতে পারেননি।

অবশ্য জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হকও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি নৌকার টিকিট পাচ্ছেন দাবি করে তাকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ মাঠ গরম করে রেখেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মোট ছয়জনের মনোনয়ন কেন্দ্রে জমা পড়েছে। এরা হলেন- এই আসনে টানা পাঁচবারের বর্তমান সংসদ সদস্য ও বর্তমানে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক ও জেলা পাবলিক প্রসিউকিউটর এডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান।

নৌকা মার্কার তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানান, বর্তমান এমপি উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি ছাড়া আর কেউই এই দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের ভোটারদের মাঝে সুপরিচিত নন।

এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কেনা কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী ভোটের রাজনীতির মাঠে একেবারেই অচেনা। দলের অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও উভয় উপজেলায় তৃণমূলে একেবারেই নতুন। তাছাড়া গত ১৪ নভেম্বর সকালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা গণভবনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন না বলে ঘোষণা দেয়ার পর শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব ও কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে তাদের প্রার্থিতা পাওয়া না পাওয়া নিয়ে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তবে টেনশন থাকলেও তাদের সমর্থকরাও আশা ছাড়ছেন না। সে কারণে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হককে নিয়ে দলীয় মনোনয়ন তিনি পাচ্ছেন বলে তার বলয়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাজনীতির মাঠ সরগরম রেখেছেন।

অন্যদিকে মাঠে ছিলেন না অথচ এ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন একাধিক ব্যক্তি। তাদের নিয়েও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তাছাড়া দুই উপজেলার চা বাগানের শ্রমিক ভোটার ও গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষজনের কাছেও তারা ততটা সুপরিচিতি নন।

এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে ফরম কিনেছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজি মুজিব) ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও লন্ডন প্রবাসী জালাল উদ্দিন আহমেদ জিপু।

দলীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, এদের মধ্যে জালাল উদ্দিন আহমেদ জিপু সাধারণ নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের কাছে অপরিচিত। তিনি লন্ডনে বসবাস করেন। বিগত এক বছর যাবত দুই তিন বার দেশে এসেছেন। জেলে যাবার আগে বেগম জিয়ার সিলেটে আগমনের প্রাক্কালে শ্রীমঙ্গলে পুলিশ আসল্ট মামলার আসামি হয়ে কয়েক সপ্তাহ জেলহাজতে ছিলেন তিনি। লন্ডনে বসে জিপু তার অনুসারীর মাধ্যমে দলীয় ফরম কিনেছেন।

রোববার দুপুরে সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে কথা হয় রাজমিস্ত্রি উমর আলীর সঙ্গে। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর গ্রামের বাসিন্দা। আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

তিনি বলেন, নৌকার যারা এবার মনোনয়ন চেয়েছেন এদের অনেকই অতিথির পাখির মতো। শীতের সময় যেভাবে আসে অতিথি পাখি। ঠিক ভোটের সময় এ রকম কিছু প্রার্থী আসে। ভোট শেষ হলে তারা চলে যায়।

তিনি মনে করেন, এই আসনে আওয়ামী লীগের এমপি শহীদ সাব (সাহেব) আর বিএনপিতে হাজি মুজিব দলের টিকিট পাবেন। এ রকমই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ভাবনা।

সাতগাঁও ইউনিয়নের কৈরী পাড়ার বাসিন্দা দিলীপ কুমার বলেন, ভোট আইসে তো এখন কত প্রার্থী আইব, শুনছি আওয়ামী লীগ থাইক্যা ছয়জন প্রার্থী নৌকা চাইসে। এরা কারা?। আওয়ামী লীগের শহীদ এমপি, বিএনপির হাজি মুজিব ছাড়া আর কাউরেই বাগানিওয়লারা (শ্রমিকরা) চিনে না।

গান্ধীছড়া চা বাগানের চা শ্রমিক নেতা ইউপি সদস্য মিলন তংলা বললেন, ‘ইবার যদি শহীদ সাব ছাড়া অন্য কেউ নৌকার প্রার্থী হয়ে আসে তাহলে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হাজি মুজিব এইবার বিপুল ভোটে জয়ী হবে।’

শতভাগ চা শ্রমিক অধ্যুষিত সাতগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মিলন শীল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দাবিকারী ছয়জন প্রার্থীর মাঝে অনেকেই সাধারণ মানুষের কাছে সুপরিচিত নয়। যদি এই আসনে সাবেক চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ ছাড়া অন্য কেউ আসে তাহলে শ্রীমঙ্গলের শ্রীটাই নষ্ট হয়ে যাবে। উনার কাছে কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির প্রশ্রয় নেই।’

শ্রীমঙ্গলের শ্রী আর মঙ্গল থাকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যক্তি হিসেবে আব্দুস শহীদ চা শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের কাছে অতি সমাদৃত ও সুপরিচিত।

চা শ্রমিক নেতা সিতারাম অলমিক বলেন, ‘যেসব প্রার্থী মনোনয়ন চাচ্ছেন এমপি শহীদ সাব ছাড়া আর কারোরই শ্রমিকদের সাথে এতো নিবিড় সম্পর্ক নেই। আমার তো মনে হয়, আওয়ামী লীগে আব্দুস শহীদ আর বিএনপিতে হাজি মুজিব টিকিট পাবেন।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, হাজি মুজিবের বিকল্প এই আসনে বিএনপির আর কেউ নেই। ভোটের মাঠে তাকে নিয়েই আওয়ামী লীগের যত ভয়।

তার দাবি, বিগত ১০ বছরে হাজি মুজিবের বিরুদ্ধে অনেক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। দুই উপজেলায় দলের কয়েক শত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা-মোকদ্দমা দেয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরও যুবদলের একাধিক নেতাকে গায়েবি মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা কেউ বাড়িতে ঘুমাতে পারছে না। এতো হয়রানির পরও এসব মামলা মাথায় নিয়ে হাজি মুজিব বেগম জিয়াকে কারগার থেকে মুক্তির আন্দোলন বেগবানের জন্য ভোটের মাঠে নেমেছেন। শুক্রবার দুপুরে হাজি মুজিব কমলগঞ্জে উভয় উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রথম নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা করেন।

তিনি বলেন, চা শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কাছে হাজি সাবের পরিচিতি ও ব্যক্তি ইমেজ অনেক বেশি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মানুষ এবার বিএনপিকে ভোট দিবে। মামলা হামলা যতই হোক, তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, হাজি মুজিব এই আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মো. ইলিয়াসের ভাতিজা। ২০০১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে নিজস্ব সংগঠন হাজী মুজিব ফাউন্ডেশনের ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদের কাছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এর পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহীদের কাছে আবারো পরাজিত হন।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET