করোনা ভাইরাস সংক্রমণে চীনে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। সোমবার শুধু হুবেই প্রদেশে মারা গেছেন ১০৮ জন। প্রতিদিন এ ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে এটা রেকর্ড। এর আগে একদিনে এত মানুষ মারা যান নি। সব মিলিয়ে সোমবার দিনশেষে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১৬। তবে এদিন নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা শতকরা ২০ ভাগ কমেছে। ওদিকে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তব্যে অবহেলার কারণে বেশ কিছু সিনিয়র কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন হুবেই হেলথ কমিশনের পার্টি সেক্রেটারি ও কমিশনের প্রধান।
এ ছাড়া পদ হারিয়েছেন আরো অনেক কর্মকর্তা। করোনা ভাইরাস নিয়ে এ পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় পদের কোনো কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা। সরিয়ে দেয়া হয়েছে রেডক্রসের উপপরিচালককে। তিনি দাতব্যকাজে ব্যবহারের দান পরিচালনায় কর্তব্যে অবহেলা করেছেন বলে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার মতে, হুবেই ও অন্যান্য প্রদেশে শত শত মানুষকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে। কাউকে সতর্ক করা হয়েছে। এসবই করা হয়েছে এই মহামারি চলাকালীন। শুধু যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এমন নয়। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি থেকে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন রেডক্রসের উপপ্রধান ঝাং কিন। তাকে আন্তঃপার্টির তরফ থেকে সিরিয়াস সতর্কতা দেয়া হয়েছে। এ মাসের শুরুর দিকে উহানে পরিসংখ্যা ব্যুরোর উপপ্রধানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। মুখের মাস্ক বিতরণে সংশ্লিষ্ট বিধি লঙ্ঘনের জন্য তার বিরুদ্ধে গুরুত্বর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উহানের হুয়াংগাংয়ের স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিশনের প্রধানকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা নিয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে রয়েছে চীন কর্তৃপক্ষ। যে চিকিৎসক প্রথম দিকে করোনা ভাইরাস ইস্যুতে সতর্কতা দিয়েছিলেন, কর্তৃপক্ষ তাকে চাপ প্রয়োগ করে নিষ্পেষণ করেছে। তার মৃত্যুতে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী এখন চীনে আক্রান্তের সংখ্যা কমপক্ষে ৪২ হাজার ২০০। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ হাজার ৭২৮। সেখানে মারা গেছেন কমপক্ষে ৯৭৪ জন। মোট মৃত্যুর তিন-চতুর্থাংশ মারা গেছেন হুবেইয়ের রাজধানী উহানে। এই উহান থেকেই করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি। এখানে বসবাস করেন এক কোটি ১০ লাখ মানুষ। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই শহরটি অচল হয়ে ভৌতিক রূপ নিয়েছে।
ওদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে সোমবার চীন পৌঁছেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি টিম। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রুস অ্যালিওয়ার্ড। ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় যখন ইবোলা মহামারি দেখা দেয় তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হয়ে সেখানে এ বিষয়টি দেখাশোনা করেন তিনি। ওদিকে দেশে এত বড় মহামারির প্রায় দুই মাস পরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং সোমবার বেইজিংয়ের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এসব কর্মকর্তা নতুন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন তখন। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মুখে মুখোশ পরেছিলেন। সি জিনপিং বেইজিং সফরে গেলেও করোনা ভাইরাসের যে উৎপত্তিস্থল উহান, সেখানে এখন পর্যন্ত যান নি। বেইজিংয়ে সাক্ষাতের সময় তিনি এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। বলেছেন, অবশ্যই আমরা এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ী হবো।








