৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-




ইতালিতে অনিশ্চয়তা আতঙ্ক

নয়া আলো অনলাইন ডেস্ক।

আপডেট টাইম : মার্চ ২০ ২০২০, ০৪:২৪ | 960 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সব মানুষের বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়ে ক্যামিপং শুরু হয়েছে ইতালিতে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রোগটি ইতালিতে ছড়িয়ে পড়লেও, ২৩শে ফেব্রুয়ারি দেশটির সরকার জরুরি
নির্দেশনা জারি করেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে নির্দেশনা বাড়তে থাকে, কঠোর হয় নিয়মাবলী।
বর্তমানে ইতালি সরকার সমস্ত জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। বিশেষ করে বয়স্ক জনগণকে ঘরে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারবে, কেবল কাজে যাওয়ার জন্য, মেডিসিন/ডাক্তার, বাজার করা ও অন্য অতি প্রয়োজনীয় কারণে। ইমারজেন্সি কিছু হলে আপনাকে ঘরে ডাক্তার কল করতে হবে। স্বাভাবিক সময়ের মতো হাসপাতালে যেতে পারবেন না।
সরকার বলছে, ব্যায়াম, শরীর চর্চা, পোষা প্রাণীকে হাঁটানো, সিগারেট নিউজ পেপার কিনতে বের হতে পারবে।

তবে, বন্ধুর বাসায় ঘুরতে যাওয়া যাবে না। বাজার করতে এক পরিবারের দু’জন একত্রে বের হতে পারবে না। রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকলেও হোম ডেলিভারি সার্ভিস খোলা। সেক্ষেত্রে নিয়ম হলো, বাসার মেইন গেইট থেকে খাবার বুঝে নিতে হবে। দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দেবে না। সুপারমার্কেট, ফার্মেসি সহ সকল জায়গায় নির্দিষ্ট পরিমাণ লোক প্রবেশ করতে পারবে। এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এক মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে আরেক এলাকায় বিশেষ কারণ ছাড়া যেতে পারবে না। যে সকল কাজেই আপনি ঘরের বাইরে যান না কেন, আপনার নিজেকেই কারণ উল্লেখ করে সেল্ফ সার্টিফিকেট দিতে হবে। একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনি কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত নন। যদি কোনো প্রকার মিথ্যা কারণ দেখানো হয়, তবে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে, জেল ও জরিমানা সহ শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া, ইতালিতে কভিড-১৯ রোগটির সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে যা কিছু করতে বলা হচ্ছে, তা হলো-
অধিক লোক সমবেত না হওয়া। লোক সমাগম হতে পারে এমন পরিবেশ এড়িয়ে চলা।
ন্যূনতম এক মিটার দূরত্ব রেখে একজন আরেকজন মানুষ থেকে অবস্থান নেয়া।
করমর্দন, কোলাকুলির মতো সামাজিক কুশল বিনিময় এড়িয়ে চলা। না করা।
বার বার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া। হাত জীবাণুমুক্ত করা।
হাত দিয়ে নাক, মুখ, চোখ না ছোঁয়া।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নিজ বাসাতেই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ইতালিতে প্রতিদিন মৃত্যুর হার ও কঠোর নির্দেশনা জনজীবনেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। পথঘাট জনশূন্য। মানুষ মানুষ হতে দূরত্ব রেখে চলছে। জীবাণুনাশক সরঞ্জাম ও মাস্ক ইত্যাদির ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ইনটেনসিভ কেয়ারের স্বল্পতা সেই সঙ্গে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার যন্ত্র কম থাকায় মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বেশকিছু অস্থায়ী হাসপাতাল করা হচ্ছে। কিছু বৃদ্ধাশ্রমকেও হাসপাতালে রূপ দেয়া হয়েছে।
ডাক্তার নার্সের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যারা গত দুই বছরে পেনশনে গিয়েছেন, এবং যারা সদ্য পাস করে বের হবেন তাদের সকলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে এই দেশের সংকটকালীন সময়ে সহায়তা করার। ইতালির ম্যাসিভ ইমারজেন্সি চিফ কন্ট্রোলার অ্যাঞ্জেলো বোরেল্লি রক্ত সংকটের কথা জানিয়েছেন। রেডক্রস থেকে শুরু করে সকলের কাছে ব্লাড ডোনেট সহ চিকিৎসা সামগ্রীর জন্য সহায়তা চেয়েছেন। ইতিমধ্যে চীনা ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞ দল দুই দফায় ব্যাপক চিকিৎসা সামগ্রী সহ সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশটির প্রতি। আগামীতে আরো নির্দেশনা আসবে এমনটি বলেছেন প্রধানমন্ত্রী সিনিওর জুসেপ্পে কন্তে।
গতকাল পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৫৭১৩ জন, মারা গিয়েছেন ২৯৭৮ জন। ৪০২৫ জন ভালো হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। ইতালির সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী দুই মাস কারো কাজ করা লাগবে না। কর্মজীবীদের সম্পূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা দেয়া হবে। শিল্প কলকারখানার মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষকে সহায়তার কথা বলেছেন সরকার। লকডাউন আগামীতে আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে। ঘরে থাকার বিকল্প নেই। সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে, সমগ্র ইতালিবাসীর মতো বাংলাদেশি অভিবাসী মানুষগুলোও অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে সময় পার করছে।সূত্র-মানবজমিন

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET