৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • রাজনীতি
  • বাগেরহাটে বিএনপিকে ডুবিয়ে দিল সেলিম সালাম দুই সহোদর




বাগেরহাটে বিএনপিকে ডুবিয়ে দিল সেলিম সালাম দুই সহোদর

কামরুজ্জামান শিমুল, বাগেরহাট জেলা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৮ ২০২৬, ২২:১৪ | 712 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

বাগেরহাটে বিএনপিকে ডুবিয়ে দিয়েছে সেলিম সালাম দুই সহোদর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনে পরাজিত হয়েছে বিএনপি। আর এ পরাজয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, তিনটি আসন নয় পুরো চারটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করার লক্ষ্যে সকল কৌশল ও সর্বশক্তি ব্যয় করেছেন বাগেরহাট ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম এবং তার ভাই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট ২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী এম এ সালাম। নির্বাচনে এম এ এইচ সেলিম প্রচুর টাকা ব্যয় করলেও কৌশলী ভূমিকায় ছিলেন এম এ সালাম।

মোঃ আব্দুল হাকিম সেলিম (এম এ এইচ সেলিম) একজন শিল্পপতি। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ স ম  মোস্তাফিজুর রহমানের হাত ধরে বাগেরহাট জেলা বিএনপিতে আসেন। এরপর তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি মনোনীত হন। ২০০১ সালে চার দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনে তিনি বাগেরহাট ২ (সদর কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১/১১ সরকারের সময়ে তিনি বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করে নেতাকর্মীদের ফেলে রেখে ঢাকাতে তার ব্যবসায়ে মনোযোগী হন। এরপর তিনি নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কেউ ফোন দিলে তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন। বাগেরহাটে বিএনপির রাজনীতি থেকে এভাবেই হারিয়ে যান এম এ এইচ সেলিম। নিজের প্রতিষ্ঠানে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন করে নির্দ্বিধায় চালিয়ে যান তার ব্যবসা-বাণিজ্য।

২০০৮ সালে বিএনপি’র সভাপতি মনোনীত হন তারই আপন ভাই ব্যবসায়ী এম এ সালাম। রাজনীতিতে প্রবেশ করেই শুরু করেন গ্রুপিং। তাকে প্রণাম না করলেই দুর্ব্যবহার করে দূরে সরিয়ে দেন নেতাকর্মীদের। নিজের খেয়াল খুশি মত সিদ্ধান্ত দিয়ে বেকায়দায় ফেলে দিতে থাকেন দলীয় কর্মীদের। টাকা ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণে নেন বাগেরহাট জেলা বিএনপি। একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে যান তিনি। সে সময়ে নেতাকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার করলে বলার কোন জায়গা ছিল না। নেতাকর্মীদের ইচ্ছার কোনো দামই ছিল না তার কাছে। মাইম্যান হলেই পদ পেতেন, নির্দেশ না মানলে সরিয়ে দিতেন। স্বেচ্ছাচারিতা, মাই ম্যান তৈরি, নেতাকর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার সহ বিভিন্ন অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বাগেরহাট জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০১৮ সালে ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিমকে আহবায়ক করে ঘোষণা করা হয় বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি। ওই কমিটিতে এম এ সালামকে সদস্য করা হয়।

ক্ষীপ্ত সালাম জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির বাইরে গিয়ে তার মাইম্যান নিয়ে আলাদা পথ চলতে থাকে। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও কখনোই ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি বাগেরহাট জেলা বিএনপি। বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতির পদ ফেরত সহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট ২ (সদর কচুয়া) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি।

৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর বাগেরহাটে ফিরে আসেন এম এ এইচ সেলিম। বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজে দেওয়া হয় সংবর্ধনা। এলাকায় নির্বাচনের ঘোষণা দিলে তারই আপন ছোট ভাই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বাধা হয়ে দাঁড়ান। বাগেরহাটে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় তোলপাড়। ১২ই ডিসেম্বর মাজেদা বেগম কৃষি প্রযুক্তি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে এম এ সালাম এর নেতৃত্বে বাগেরহাট জেলা বিএনপির একটি সমাবেশ ডাকা হয়। প্রশাসন বিষয়টি পর্যালোচনা করে ১৪৪ ধারা জারি করে। ঐদিনই বেলা ১১ টায় সংবাদ সম্মেলন এর মাধ্যমে তার ভাই এম এ সালামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ দায়ের করেন এম এ এইচ সেলিম। বৃদ্ধি পায় দু ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।

২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাগেরহাট -২ আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করা হলে তালিকা থেকে বাদ পড়েন দুই সহোদর এম এ এইচ সেলিম এবং এম এ সালাম। বাগেরহাট ২ সংসদীয় আসনে মনোনয়ন পান বাগেরহাট জেলা বিএনপি নেতা সুপ্রিম কোর্টৈর সিনিয়র আইনজীবী এবং বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন ফিরিয়ে আনার মূল নায়ক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন। আবারো ক্ষিপ্ত হয়ে বাগেরহাট ১, ২ ও ৩ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন এম এ এইচ সেলিম এবং বাগেরহাট ২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এম এ সালাম। এম এ এইচ সেলিম প্রত্যেকটি নির্বাচনী সভায় বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে থাকে।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে শেষ সময়ে এম এ সালাম তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। কিন্তু আপন বড় ভাই এম এ এইচ সেলিমকে বাগেরহাটের প্রত্যেকটি আসনে জয়ী করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। অফিসে ডেকে নিয়ে নেতাকর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক ঘোড়ার পক্ষে কাজ করতে চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি টাকা পয়সা দিয়েও নেতাকর্মী সমর্থক ও ভোটারদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। বাগেরহাট জেলা, সদর উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি’র অনেক নেতা তার সাথে কাজ এবং টাকা পয়সার সুবিধা গ্রহণ করেন। তারা ধানের শীষে ভোট না দিতে হুমকি ধামকি ও চাপ প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনে বাগেরহাট ৩ (রামপাল মংলা) আসনে জামানত হারান এম এ এইচ সেলিম। বাগেরহাট ১ আসনে ৩,৭৫,৫৬০ টি ভোটের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ৩শ ৯৯ ভোট পান তিনি। বাগেরহাট ২ আসনে দুই ভাই মিলে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, নগদ অর্থ বিতরণ এবং নেতাকর্মী ও ভোটারদের চাপ প্রয়োগ করে ৪৮ হাজার ৯শ ৬৫ ভোট পেয়ে ৩য় হন এম এ এইচ সেলিম। এম এ সালাম জেলার নেতা হলেও বাগেরহাট ৪ আসনের কোথাও কখনো প্রচার প্রচারণায় গিয়েছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিএনপি’র তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৭ বছর পর বাগেরহাট এসে এম এ এইচ সেলিম বিএনপিকে হারানোর উদ্দেশ্যে এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তার ভাই এম এ সালাম এম এ এইচ সেলিমকে সমর্থন করে নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও বিপুল অর্থ বিতরণ করেছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রচারনা না করে তার আপন ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তাদের দুই ভাইয়ের অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাগেরহাট -২ সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীক হারিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET