খুলনার ডুমুরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত ও ৪০ জনের মত আহত হয়েছে। বুধবার দুপুর দুটোর দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গিরপার নামক স্থানে এই দূর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানা যায়, দুপুর দুটোর দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা বেপরোয়া গতিসম্পন্ন যাত্রীবাহী বাস (সাতক্ষীরা জ-১১-০০৯৬) সাতক্ষীরা অভিমুখে যাচ্ছিল। বাসটি খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গিরপার নামক স্থানে পৌঁছুলে বিপরীত দিক থেকে ক্রাউন সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের (নারায়ণগঞ্জ উ-১১-০০২৬) মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায় এবং ট্রাকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। দূর্ঘটনায় ৪০/৪২ জন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলার জিন্নাত আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দূর্ঘটনা কবলিত ট্রাক চালক মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, খাদে পড়ে যাওয়া বাসের নিচ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিস। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খাদে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছিল। তবে উদ্ধারকারীদের ধারণা বাসের নীচে বা ভিতরে আরও মৃতদেহ থাকতে পারে। অপরদিকে পরিবহন ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরো ২ আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার আঠারোমাইল বাসষ্ট্যান্ডে এই মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনাটি ঘটে। একটি মোটরসাইকেলে ২জন যুবক আঠারোমাইল বাজারের পাইকগাছা রোড থেকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে উঠছিলেন। তারা কামরুলের মিষ্টির দোকানের সামনে পৌঁছামাত্রই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বেপরোয়া গতি সম্পন্ন বাস (যার নং-ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১২৫৯) তাদেও স্বজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে তারা দুজনেই মহাসড়কের উপর ছিটকে পড়ে তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়, এবং তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদেরকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ২ যুবক হলেন, উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারী গাজীর ছেলে রফিউর রহমান রউফ (৪৩) এবং একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস আলী (২৫)।
এব্যাপারে জানতে চাইলে খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই মুন্সি পারভেজ হাসান বলেন, ঘাতক বাসটিকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারের আবেদনের পেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Please follow and like us:








