এম এ মালেক,সিরাজগঞ্জ থেকেঃ- সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি,লুটপাটসহ সংশিষ্ট সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের বিরুদ্ধে নাম মাত্র কাজ করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
কোথাও শ্রমিক নিয়োগে অনিয়ম, কোথাও ভুয়া প্রকল্প গঠন ও কোথাও নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প সংশিষ্টরা বরাদ্দ টাকা আত্মসাৎ করছে।
অতি দরিদ্রদের ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের আওতায় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ২য় পর্যায়ের বরাদ্দে, রায়গঞ্জ উপজেলায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে শ্রমিক সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ২,৬৬৪ জন। যার বরাদ্দের পরিমান ২ কোটি ১৩ লক্ষ ১২ হাজার টাকা।
স্থানীয় লোকের অভিযোগ পেয়ে সোম,মঙ্গল ও বুধবার (৭,৮ও ৯ মে ২০১৮) অত্র উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন গুলোতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, প্রকল্পগুলোতে মোট শ্রমিকের মধ্যে অর্ধেক সংখ্যাক শ্রমিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
৯ মে পাঙ্গাসী ইউনিয়নের শ্রী-দাসগাতী পাকা রাস্তা হইতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শ্রীদাসগাতী চাঁনের বাড়ী হইতে সাইফুল খলিফার বাড়ী এবং ডাঙ্গারপাড়া মাদ্রাসায় মাটি ভরাটের কাজে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন পুরুষ ৩৪ জন নারী ২৬ জন মোট ৭০ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা কাগজে থাকলে ও বাস্তবে পাওয়া যায় পুরুষ ২২ জন আর নারী ১৩ জন।
৭ও ৮ মে ব্রক্ষগাছা,ধানগড়া ও নলকা ইউনিয়ন ঘুরে ঠিক একই দৃশ্য চোখে পড়ে। আবার কোথাও কোথাও অতিদরিদ্রদের দিয়ে বা নিয়ম মাফিক শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো তো দূরের কথা তাদের রাস্তা যে প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সেটাও স্থানীয় লোককে বুঝতেই দেওয়া হয়না বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে প্রথম পর্যায় বিগত নভেম্বর মাসে কাগজ-কলমে কাজ শেষ হলেও বাস্তবে অনেক প্রকল্পের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাঙ্গাসী ইউনিয়নে প্রায় প্রকল্প গুলোতে ২০ ভাগও কাজ হয়নি বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় স্কুল শিক্ষক।
প্রকল্প সংশিষ্টদের লোকজনের ছবি দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলে টাকা উত্তোলন করে। এ ক্ষেত্রে সংশিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপককেও টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করা হয়ে থাকে । তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এ বছরের ২য় পর্যায়ের কাজে প্রতিটি প্রকল্প থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) ১০ থেকে ১৫ ভাগ উৎকোচ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে, অভিযোগে জানা যায়।
সরকারি নির্দেশনা কাগজে থাকলেও বাস্তবে কতটুকু প্রয়োগ হচ্ছে এটা যেন সত্যিই দেখার কেউ নেই। এ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে অত্র উপজেলায়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়নে একজন করে ট্যাগ অফিসার থাকে।
সেই ধারাবাহিকতায় থাকলেও তারা জানেন না- কবে কোথায় কাজ শুরু হয়েছে । পাঙ্গাসী ইউনিয়ন সচিবের কাছ থেকে একটি প্রকল্পের সভাপতির নাম জানা গেলেও কোথায় প্রকল্প নেয়া হয়েছে সে সমপর্কে তথ্য দিতে ব্যর্থ হন তিনি।
এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না,তিনি উপ-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল করিমের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরে উপ-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল করিম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই উপজেলায় কমবেশি সব ইউনিয়নে দুর্নীতি হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে আমরা শতভাগ শর্তক আছি, আপনাদের এ বিষয়গুলো পত্রিকায় তুলে ধরা উচিত ।









