প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোন ১৬ই মার্চ সোমবার ৮ টায় জাতির উদ্দেশ্যে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদানকালে বলেন আমরা এখন যুদ্ধ অবস্থায় আছি, স্বাস্থ ব্যবস্থা রক্ষার যুদ্ধ। আমরা কোনো আর্মির বিরুদ্ধে নয় , কোনো জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি না, আমাদের শত্রু শক্তিশালী অদৃশ্য জীবাণু।
.
সরকার করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কিছুদিন আগে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। তার সরকার গত শনিবার থেকে রেষ্টুরেন্ট, ক্যাফেবার এবং স্বল্প প্রয়োজনীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। তবে কিছু রেষ্টুরেন্ট দরজা বন্ধ রেখে খাবার ডেলিভারি করতে পারবেন।
১০০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেন। তিনি আরো বলেন ফ্রান্স এর ইতিহাসে এমন বিরল সিদ্ধান্ত নিতে হয়নি, আর এইসব সিদ্ধান্ত গুলো নেয়া হয়েছে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া জীবাণু থেকে আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য।
আমাদের সব শক্তি এবং মনোযোগ থাকা উচিত করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে। আর এই জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে, মানুষের সাথে চলাফেরা সীমিত করতে হবে, ডাক্তার এর পরামর্শ মেনে চলতে হবে, সবার সাথে ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, হ্যান্ডশেক এড়িয়ে চলতে হবে।
ইমানুয়েল মাক্রোন ঘোষণা দেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা থেকে কমপক্ষে ১৫ দিনের জন্য খুব প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাহিরে চলাফেরা না করার, বাহিরে মানুষের জমায়েত, ঘরে, রাস্তাঘাটে, পার্কে পারিবারিক বা বন্ধু বান্ধবদের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছেন। কোনো ধরণের আইন ভঙ্গ করলে সবাইকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি সকল ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল অধিকার রক্ষার নির্দেশ দেন। সরকার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সকল ধরনের সহযোগিতা করবেন বলে জানান। ছোট বড় সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৩০০ বিলিয়ন ইউরো আর্থিক সহযোগিতা করবেন। তার ২০ মিনিট এর বক্তব্যে বার বার সবাইকে নিজ বাসস্থান থেকে বের হতে নিষেধ করেন।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এর নেতারা ইউরোপ এর বর্ডার এবং সেনজেন ভুক্ত দেশ গুলো নিজেদের মধ্যে বর্ডার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপিয়ান এবং নন ইউরোপিয়ান সহ সব ধরণের ভ্রমণ ৩০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করার নির্দেশ প্রদান করেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোন।
কিন্তু সকল ফরাসি যারা বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বা ভ্রমণরত তারা যেকোনো মূহর্তে দেশে ফেরত আসতে পারবেন এবং তাদেরকে অবস্থানরত দেশের ফ্রান্স এম্বেসীতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তার বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন বিষয় ছিল মিউনিসিপাল ইলেকশন নিয়ে। তিনি তার বক্তব্যে ১৫ তারিখ এর প্রথম পর্বের মিউনিসিপাল ইলেকশন এর রেজাল্টকে বাতিল না করার ঘোষণা দেন।
অ্যাসেম্বলি জেনারেল এর প্রেসিডেন্ট, সিনেট এর প্রেসিডেন্ট এবং ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্টদের পরামর্শে ২২ তারিখ এর দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান। এদিকে তিনি সব ধরণের সংস্কার বাতিল করার ঘোষণা দেন। যার মধ্যে অবসর সংক্রান্ত সংস্কার উল্লেখযোগ্য। এই অবসর সংক্রান্ত সংস্কার এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে রেল কর্মচারী সহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা আন্দোলন করে আসছিল।
Please follow and like us:








