২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-




জীবন যেখানে যেমন শেষকথা ওদের একটাই কি হবে তাদের চাল-ডালের-কিইবা হবে কিস্তির?

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : এপ্রিল ০৯ ২০২১, ২২:৪২ | 925 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

জীবন যেখানে যেমন।বিচিত্র দুনিয়া-বৈচিত্রময় মানবকূল। মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের এইসময় গাইবান্ধার প্রবেশদ্বার ব্যস্ততম পলাশবাড়ী পৌরশহরের জিরোপয়েন্ট চৌমাথা মোড়। চিরায়ত আলো ঝলমল চিরচেনা গুরুত্বপূর্ণ মোড়টি যেন প্রাণ হারিয়ে ফেলেছে।
আলো-আঁধারি শহরে পরিণত। দোকানপাট বন্ধ।পথচারিদের কোলাহল তেমন চোঁখে পড়ার মত নয়।যেন অন্যরকম একটি চৌমাথা মোড়। তুলনামূলক অনেকটা নীরব নিস্তব্ধ সুনসান পরিবেশ। স্বাভাবিকের চেয়ে কোলাহল মুক্ত। গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল রয়েছে অহরহ। দৈনন্দিনের তুলনায় কাজকর্ম অনেকটা কম।অলস সময় কাটছে মালামাল লোড আনলোড কাজে নিয়োজিত স্থানীয় শ্রমজীবি ডে-লেবারদের।
২৫/৩০ জনের লেবার টীমটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে রাত-দিন এই মোড়টিতেই কাজ করেন। এখানেই তাদের জীবন- জীবিকা। কাজের শেষে যা পান তা দিয়েই তাদের পারিবারিক ভরন পোষন।
দ্বিতীয় দফায় এক সপ্তাহের করোনা লক-ডাউনের চলমান সময়ের দ্বিতীয় দিন অতিবাহীত হতে চলেছে। দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমজীবি শ্রেনীর এমন পারিবারিক কর্তারা যেন তাদের আয়ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেনা। দুর্মূল্যের বাজারে পারিবারিক ব্যয় যেন তাদের অনেকটাই সংকুচিত করতে হয়েছে। এতে করে তাদের চিরদিনের দুঃখ-কষ্টের উপরন্তু আরো কিছুটা জেঁকে বসেছে।
নিজসহ গ্রুপের সকল সদস্যদের এসব দুঃখ-কষ্টে অনেকটাই চিন্তিত একাংশের লেবার সর্দার আমিনুল। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় দু’টা এসময় পর্যন্ত তাদের প্রত্যেকের ভাগে পঞ্চাশ টাকাও মেলেনি। আরমাত্র কয়েকঘন্টা রাত পোহালে সকাল ৮টার দিকে তারা নিজ নিজ বাড়ী ফিরবেন। লেবার সর্দার বলেন অন্যান্যদিন তারা একই সময় একেকজন অন্ততঃ দেড়-দু’শো টাকা আয় করতেন।
সকাল পর্যন্ত খুউব বেশি হলে আরো পঞ্চাশ-ষাইট টাকা ভাগে পেতে পারেন। সর্বসাকুল্যে ১’শ টাকা আয় করে কিভাবে তাদের পরিবারের ব্যয় মেটাবেন!চোঁখে মুখে হতাশার ছাপ। এমন চিন্তায় সর্দার আমিনুল যেন অনেকটা মর্মাহত হয়ে পড়েছেন। না কাজের চাপে নয়! অর্থ-উপার্জন নেই সেই চিন্তায় লেবার আমিনুল যেন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়েছেন রাত পোহালে চাল-ডাল ও কাঁচাবাজার ছাড়াও পারিবারিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে নেয়া সাপ্তাহিক ঋণের কিস্তিইবা পরিশোধ করবেন কোন পন্থায়।
যার-যার ব্যথা এবং দুঃখ-কষ্ট কেবল সেই-ই বুঝেন। সবমিলিয়ে হযবরল। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোন মিল নেই। দিনের পর দিন বিচ্ছিন্ন ধারদেনার আবর্তে যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে পড়ছেন। চোঁখে যেন ওরা সরষে ফুল দেখছেন। প্রতিক্রিয়ায় এমনটিই জানালেন সহকর্মি শ্রমজীবি খাজা মিয়া, শাহ আলম, রেজাউল, আব্দুর রউফ, আয়ুব আলী ও চেংটুসহ সতীর্থ অন্যান্যরা। ওদের শেষকথা একটাই কি হবে চাল-ডালের-কিইবা হবে রাত পোহালে তাদের কিস্তির?

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET