২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • তাহিরপুরে দেশের বৃহত্তর জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগানেও ফুটেছে শিমুল ফুল – পর্যটকের মিলন মেলা




তাহিরপুরে দেশের বৃহত্তর জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগানেও ফুটেছে শিমুল ফুল – পর্যটকের মিলন মেলা

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৬ ২০২০, ০১:৩৯ | 1188 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

মৃদুমন্দ বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। বসন্ত তারুণ্যেরই ঋতু। স্বাগত বসন্ত। প্রাণ খুলে তাই যেন কবির ভাষায় বলা যায়, ‘আহা আজি এ বসন্তে/ এতো ফুল ফোটে/এতো বাঁশি বাজে/এতো পাখি গায়’। বাঙালির জীবনে বসন্তের উপস্থিতি অনাদিকাল থেকেই। কবিতা,গান, নৃত্য আর চিত্রকলায় আছে বসন্তের বন্দনা। ষড়ঋতুর দেশে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিতেই মূলত বসন্ত জানান দেয় তার আগমনী বার্তায়। গ্রামের মেঠোপথ, নদীর পাড়, গাছ, মাঠভরা ফসলের ক্ষেত বসন্তের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। তেমনি এবারও মেঘালয় পাহাড় ও যাদুকাট নদীর তীরে প্রাকৃতির অপরুপ এক অনবদ্র কাব্যবিক ভাবনায় প্রান্তর দেশের বৃহত্তর জয়নাল আবেদিন শিমুল বাগানেও ফুটেছে শিমুল ফুল। প্রতি বছরের মতই শীতের শেষে ফাল্গুনের আবাশে প্রয়াত বৃক্ষপ্রেমী জয়নাল আবেদিনের হাতে লাগানো সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো ৩হাজারের অধিক শিমুল গাছে সবুজের আবৃত্ত বেধ করে রক্তিম লাল শিমুল ফুল ফুটতে শুরু করে। আর ইতিমধ্যে প্রতিটি গাছের ডালে ডালে শিমুল ফুলের পাপড়ি মেলেছে। যার ফলে বাগানটাকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় লাল ফুলের গালিছা বিছিয়ে ডাকছে দেশ-বিদেশের প্রকৃতি প্রেমী,পর্যটক ও সৌন্দর্য পিপাসুদের।
শিমুল বাগানে প্রকৃতি প্রেমী,পর্যটক ও সৌন্দর্য পিপাসুদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন বাগান মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাগন। আর আগত দেশ-বিদেশের পর্যটক,দর্শনার্থী ও প্রকৃতি প্রেমীদের নিরাপত্তা সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি।  তিনি জানান,আগত সকল পর্যটকদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ
থেকে সর্বাত্নক সহযোগীতা করা হবে। সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থান মানিগাওঁ গ্রাম সংলগ্ন শিমুল বাগানটির অবস্থান।
এদিকে,আগতদের সুবিধার্ত্বে সম্প্রতি বাগানের মালিকদেরপক্ষ থেকে একটি খাবার হোটেল নির্মান এবং বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা উপকৃত হবে বলে জানান,শিমুল বাগানের প্রতিষ্টাতা জয়নাল আবেদিনের ছেলে সাবেক বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিনবলেন,বাবার রেখে যাওয়া এই দৃষ্টি নন্দন শিমুল বাগানটি দেখা শুনা করার পাশা পাশি আরো কি ভাবে ভাল রাখা যায় সৌন্দর্য ভাড়ানো যায় সে চেষ্টা আছে।
এছাড়াও বাগানে প্রতিদিনেই হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আসছে তাদের খাবার সুব্যবস্থার জন্য হোটেল,বসার স্থান নির্মান
করা হয়েছে। যাতে করে আগতরা কষ্ট করতে না হয়। এছাড়াও এই বাগানটিকে ঘিরে পর্যটকদের স্বার্থে ও জেলার একটি আত্নর্জাতিক মানের রিসোর্স করা যায় সে চেষ্টাও আমরা পারিবারিক ভাবে করছি।
পর্যটক মেডিক্যাল ছাত্র মাহদী হাসান রাহাত  বলেন, এই বাগানটি দেখতে অসাধারন,এত বড় শিমুল বাগান দেশের কোথাও আর দেখে নি। যার ফলে বাগানের ভিতরটায় গেলে এক অন্য রখম ভাল লাগার জন্ম নেয়। হারিয়ে যায় অন্য এক অজানা ভুবনে। নদী,পাহাড় আর শিমুল বাগান প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলন মেলা এখানে। শুরু থেকে এপর্যন্ত ১৮বছরের ব্যবধানে শিমুল চারা এখন ডালপালা পুষ্প পল্ববে এক অতুলনীয় দৃষ্টি নন্দত বাগানে পরিনত হয়েছে। শুধু তাই নয় এই বাগানে বিভিন্ন ছবি,নাটক ও গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং হচ্ছে।
বসন্তের এ দিনে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/আজ বসন্তৃ। ঋতুরাজ বসন্তের ফুল ফোটানোর পুলকিত সময় আজ। মাতাল হাওয়া, উড়াল মৌমাছিদের গুঞ্জরন, গাছের কচিপাতা আর কোকিলের কুহুতানে জেগে ওঠার দিন আজ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে আধুনিককালের বাউল কবির মনকেও বারবার দুলিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। চোখ বুজলেও টের পাওয়া যায় এসব দৃশ্যপট। তবে নগর জীবনেও বসন্ত ছন্দ তোলে মৃদু হিল্লোলে। কংক্রিটের নগরীতে কোকিলের
কুহুস্বর ধ্বনিত হয় ফাগুনের আগমন সামনে রেখে। ফাগুন হাওয়ার দোল লেগেছে বাংলার নিসর্গ প্রকৃতিতেও। ফুলে ফুলে রঙিন হয়ে উঠছে প্রকৃতির সবুজ অঙ্গন। মাঘের শেষ দিক থেকেই গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। শীতে খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে।
এই বাগানে বেড়াতে আসা স্থানীয়  ডাঃ এহসানুল হক মিলন, কামরুজ্জামান কামরুল, ডাঃ হুমায়ুন ফারুক আলমগীর, ডাঃ দিদার আলম সহ  অনেকেই বলেন, দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা শিমুল বাগানে শীত,বর্ষায় সব সময় দল বেঁধে  ছুঠে আসে সৌর্ন্দয উপভোগ করতে। ফলে হাওর,পাহাড়,নদীর পাশেই শিমুল বাগান সব মিলে মিশে
মানিগাঁও গ্রামটি গড়ে উঠেছে প্রাকৃতির কাব্যবিক ভাবনায় প্রান্তরে।
জানাযায়,২০০২সালে বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত জয়নাল আবেদীন উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মানিগাঁও গ্রামে বালু আবরিত ৯৮বিঘা অনাবাদী জমি ক্রয় করে বানিজ্যিক ভাবেই এই শিমুল বাগান তৈরী করার জন্য তিনি প্রাথমিক ভাবে
চিন্তার করেন। এই চিন্তা থেকেই তিনি এবাগানে সারিবদ্ধ ভাবে ৩হাজারের অধিক শিমুল চারা রোপন করেন।
কিভাবে যাবেন :-
 ঢাকা থেকে সরাসারি বিভিন্ন ধরেনের বাসে সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ আব্দুল জহুর সেতু থেকে সিএনজি বা মটর সাইকেল জন প্রতি একশত টাকা লাউড়েরগড় বাজার। বাজার পার হয়ে যাদুকাটা নদী আর নদী পার হলেই শিমুল বাগান। আবার সুনামগঞ্জ আব্দুল জহুর সেতু পাড় হলে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দিয়ে তাহিরপুর উপজেলা এরপর বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার হয়ে শিমুল বাগান।
Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET