ইমরান খান রাজ, দোহার প্রতিনিধি:- ঢাকার দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়নের সাতভিটা এলাকা ক্রমেই মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। মাদক বেচাকেনা সহজলভ্য হওয়ায় হাতের নাগালেই মিলছে গাঁজা, মদ, ফেন্সিডিল ও ইয়াবা। ফোন করলেই মদ, ইয়াবা দিয়ে যায় ডিলাররা। সাতভিটার বলারভিটা, কামালের মোড়, সাতভিটা ব্রিজ, নারিশা উত্তর চক, চৈতাবাতর প্রাইমারী স্কুলের মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে চলে মাদক বেচাকেনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতভিটা এলাকার এক প্রবীণ বলেন, এই অঞ্চলের মাদকের আসরের বিষয়টি সবারই জানা। কিন্তু কেউ মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায় না। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার শিকার হতে হবে। মাঝে মধ্যে পুলিশ ২-১ জনকে ধরলেও কোন এক অজানা শক্তির মাধ্যমে তারা ছাড়া পেয়ে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জরিয়ে পড়ে। দোহারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবিষয়ে জেনেও চুপ রয়েছে। সর্ষের মধ্যেই যদি ভুত থাকে, তাহলে ভুত তাড়ানো যায় না।
এবিষয়ে শাইনপুকুর তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইন-চার্জ জনাব এমারত হোসেন বলেন, মাদকসেবন ও মাদকবিক্রী ঠেকাতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। দোহার পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সকলের সহযোগিতা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব না।
এবিষয়ে জানতে চাইলে নারিশা ইউপি সদস্য ৯ নং সাতভিটা ওয়ার্ড মেম্বার জনাব আব্দুল মজিদ মোড়ল বলেন, যারা মাদক বেচাকেনার সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছে দোহার থানা প্রশাসন। এসময় তিনি মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাদের ধরিয়ে দিতে এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাতভিটা এলাকার বলারভিটা অবস্থিত পরিত্যক্ত সানরাইজ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ভেতরে সন্ধ্যা নামলেই হয়ে উঠে মাদকসেবীদের নেশাখানা। নেশার টানে দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসে অসংখ্য তরুণ-যুবক। কারণ এখানে এসে সহজেই পেয়ে যায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও মাদকদ্রব্যসহ সব উপকরণ। স্কুলের মেইন গেট ও শ্রেণী কক্ষের গেট বন্ধ থাকায় খুব সহজেই ভেতরে প্রবেশ করে তারা এধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এমতাবস্থায় দোহার উপজেলা প্রশাসনের নিকট সাহায্য দাবী করেন এলাকার সাধারণ জনগণ। অতি দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অত্র এলাকাকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে চান সাতভিটাবাসী।









