‘নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হাঁচি দেয়ার সময় টিস্যু, রুমাল বা মাস্ক ব্যবহার করুন।
সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন। চোখ, নাক ও মুখে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন, বিশেষ প্রয়োজনে ফ্রি কল করুন ১৬২৬৩ নাম্বারে’-যে কোন সিম নাম্বারে কল করলে প্রথমেই এরকম সচেতনতামূলক কথা শোনা যায়। এরপরই অপরপ্রান্তে রিং বেজে উঠে।
কল রিসিভের পরই প্রয়োজনীয় সব কথা সারেন দুই প্রান্তে থাকা মানুষ।
গত কয়েকদিন ধরে এমন সচেতনতামূলক তথ্য প্রচার করছে রবি, গ্রামীণফোন, এয়ারটেল, বাংলালিংক ও টেলিটকসহ সিম কোম্পানীগুলো।
এমন প্রচারকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষিত ও সচেতন মহলসহ সর্বশ্রেণীর মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বে মহামারাী আকার ধারণ করেছে নভেল করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনই ইতালী ও স্পেনসহ মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চলে প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৪ জনের।
এমন তথ্য জানিয়েছে করোনা ভাইরাসের সর্বশেষ তথ্য প্রদানকারী ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ও মিটারস।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮০ জন।
আর এর মধ্যে ১ লাখ দুই হাজার ৪২৩ করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে ৬ হাজার ৭৭ জনের। এরপরে চীনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৭৭ জন।
তৃতীয় সর্বোচ্চ মারা গেছে স্পেনে দুই হাজার ৩১১ জন। করোনা ভাইরাসের থাবায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া লোকের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি উত্তরাঞ্চলীয় শহর লম্বার্ডিয়ায়। অঞ্চলটি এখন মৃত্যুপুরী। যত দিন যাচ্ছে বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। যে দিকে যদি তাকানো যায়, সেখানে একই অবস্থা।
বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩। ইতোমধ্যে প্রবাস ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সতর্কতায় ১০ দিনের সাধারণ ছুটিসহ সারাদেশে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। লকডাউন করা হয়েছে অনেক অঞ্চল ও ভবন। এক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়া দিয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল।
করোনা ভাইরাস নিয়ে ভীত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেওয়া কিছু পরামর্শ মেনে চলতে সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে সরকার। পরামর্শগুলো হলো;
১. নিয়মিত জীবণুনাশক বা সাবান বা হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়া উচিত।
২. কাশি বা হাঁচি দিচ্ছেন এমন ব্যক্তি থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।
৩. হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু বা হাতের কনুই দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে।
৫. যেখানে সেখানে থুথু নিক্ষেপ করা যাবে না।
৬. রান্না করার আগে ভালো করে খাবার ধুয়ে নিতে হবে।
৭. যে কোনো খাবার ভালো করে সিদ্ধ করে রান্না করতে হবে।
৮. অসুস্থ ব্যক্তি বা প্রাণীর সংস্পর্শে আসা যাবে না। ৯. কাপড় একবার ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন।
১০. বাড়ি এবং কর্মক্ষেত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
১১. বাইরে ব্যবহৃত জুতা ঘরে ব্যবহার করা যাবে না। খালি পায়ে হাঁটা যাবে না।
১২. পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
১৩. জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে দ্রæত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অন্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে।
১৪. স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুসরণ করে নিরাপদ থাকাই উত্তম পন্থা।
১৫. অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতে অবস্থান করা উত্তম।
১৬. জনাকীর্ণ স্থানে সতর্ক থেকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
১৭. শিশু, বৃদ্ধ ও ক্রণিক রোগীদের অধিকতর সতর্ক থাকতে হবে।
১৮. নিজেকে নিরাপদ রাখতে বিদেশ ভ্রমণ না করাই ভালো।
এছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জাতীয় রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। বরং বাড়িতে থেকে হটলাইন নম্বরে ফোন করলে তারাই বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে বলে জানানো হয়েছে।








