অবারিত জোছনার হাট
তাজওয়ার মুনির
আকাশে উর্বশী চাঁদ।
জানালার ফাঁক গলে সে আলো এসে পড়ছে
আমার ফুলতোলা চাদরের উপর।
চারদিকটা কেমন ফকফকা।
হঠাৎ বিজলি বাতি চলে গেলো।
জোছনায় ভিজতে ভিজতে চলে গেলাম অজানায়…
বিদ্যুৎ বিহীন শুনশান নীরব প্রান্তর।
প্রান্তর জুড়ে জোছনা। সে জোছনা হা করে গিলছি গোগ্রাসে।
মৃদুমন্দ সমীর গায়ে হালকা পরশ বুলিয়ে যায়।
দূরের ঝোপ থেকে ডেকে উঠে হুক্কাহুয়া রবে বুনো শেয়াল।
হুতোম প্যাঁচাটা ডেকে উঠে করুণ সূরে।
ডাহুকতার সঙ্গীর সঙ্গ পাবার আশে অনবরত
ডাকতে ডাকতে গলায় উঠে গেছে রক্ত।
সহসাই খেয়াল হলো, চাঁদের আলো তোমার সুন্দর
নিটোল চিকন কপোলের উপর লুকোচুরি খেলছে।
নারকেল পাতারা কাপছে দখিনা সমীরে।
চাঁদ আর নারকেল পাতার মধ্যে একটা মৃদু অথচ
দৃঢ় ধস্তাধস্তি হয়ে গেল অবস্থান করা নিয়ে।
কে কার আগে কতক্ষণ তোমার সুন্দর
মুখখানির সুধা উপভোগ করতে পারে।
হালকা বায়ে কেশগুলো বারবার উড়ে এসে
একটা অবস্থান নিতে চাচ্ছে তোমার মুখশ্রীতে।
যেন আমার সাথে ওদের জনম জনমের শত্রুতা!
আমি অপলক তাকিয়ে এসব দেখতে থাকি।
হঠাৎ ফোনের ভাইব্রেশনে কেটে যায় তন্দ্রা।
কোথাও কেউ নেই। শুধু আছে আমার এক ফালি চাঁদ
আর চাঁদের স্নিগ্ধ আলো।
আমি এই চাঁদের আলো নিয়েই থাকতে চাই।
পান করতে চাই অবারিত জোছনা একাকীত্বে। নীরবে।







