আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক পর শুরু হবে পুরো দমে আমন ধান কাটা-মাড়াই। কৃষকের গোলায় উঠবে নতুন আমন ধান। এরই মাঝে মাজরা ও কারেন্ট পোকা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আমন চাষিরা। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ছে কৃষক।
উপজেলার অধিকাংশ মাঠেই পোকার আক্রমণ বেড়েছে। বেশ কিছু জমিতে ধান গাছ শুকিয়ে গেছে। কৃষকরাও ফসলের মাঠে মাঠে ওষুধ স্প্রে করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ফসল ঘরে তোলার কিছু সময় আগে এমন পোকাঁর আক্রমনে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। বুধবার (২২সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা মেলে।
কৃষকরা বলছেন,কারেন্ট পোকা ধানের নিচের অংশে কেটে দিচ্ছে। ফলে পাতা শুকিয়ে ধানের গাছ মরে যাচ্ছে । অপরদিকে মাজরা পোকার আক্রমনে পরিপক্ক হওয়ার আগেই পাতানে পরিণত হচ্ছে ধানের শীষ। এছাড়া কিছু কিছু ধানের গোড়া পচে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে গাছ। এমন অবস্থায় চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের।
মাদিলা হাট এলাকার কৃষক আবু সালে ও আলাদীপুর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, জমিতে পোকার আক্রমনে আমরা চরম সমস্যায় পড়েছি। ধানের শীষ বের হয়েছে এসময় জমিতে এখন কীটনাশক ছিটানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্নরকম কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে, তবুও পোকার হাত থাকে রেহাই মিলছে না। ফলে কাক্সিক্ষত ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
তারা অভিযোগ করে বলেন, তালিকাভুক্ত কিছু নিদৃষ্ট কৃষক ছাড়া কৃষি কর্মকর্তা কিংবা মাঠ কর্মিরা তাদের তেমন খোঁজ রাখেন না। ফলে কীটনাশকের দোকানদাররা যা ঔষুধ দেয়, তা দিয়ে জমিতে স্প্রে করছি।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় ১৮ হাজার ১৪৮ হেক্টর জমিতে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ও উপশি জাতের তেজগোল্ড, ব্রি-৯০, বিনা-১৭, সম্পা কাটারি,জাঁপাড়ি, ধানি গোল্ডসহ বিভিন্ন আগাম জাতের ধান ৩ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। আগাম জাতের এসব আমন ধান কাটা-মাড়াই প্রায় শেষ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সাইফ আব্দুল্লাহ বলেন,আবওহাওয়ার কারনে এবার একটু বেশি পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠকসহ কৃষকদের সচেতন করতে আমরা কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে (৩৪) সুগন্ধি ধান যেহেতু শেষে পাকে তা নিয়ে একটু বেশি চিন্তিত।
কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন,কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে মাঠকর্মিরা সার্বক্ষণিক মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে কাজ করছে। কৃষকদের ভালো মানের কিটনাশক ব্যবহার করতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।










