আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থী, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান জননেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়ার আগমন উপলক্ষে গুইমারায় অনুষ্ঠিত হলো এক ঐতিহাসিক নির্বাচনী পথসভা।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধায় গুইমারা কলাবাজারে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে এলাকা পরিণত হয় উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা সমন্বয়ক এডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।
পথসভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ পরিবর্তনের জন্য উদগ্রীব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি মাঠে নেমেছে।
তারা বলেন, জনগণের রায় ধানের শীষের পক্ষে -ওয়াদুদ ভূঁইয়ার জয় মানেই গণতন্ত্রের জয়।
‘মা মাটি ডাকছে, ওয়াদুদ ভূঁইয়া আসছে’—এই শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা কলাবাজার এলাকা। হাজারো মানুষের ঢলে পথসভা রূপ নেয় বিশাল জনসভায়। ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন ওয়াদুদ ভূইঁয়া।।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জননেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন,আমরা অনেক নির্যাতিত হয়েছি, তবুও জনগণের কল্যাণে কাজ করেছি। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সালাম নিন,ধানের শীষে ভোট দিন, পরিবর্তনের পথে হাঁটুন।
তিনি বলেন,আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন কৃষি, পশু, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ নানা খাতে উন্নয়ন করেছি। আজ তার সুফল আপনারা নিজেরাই পাচ্ছেন। শান্তিবাহিনীর দস্যুতার হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করেছি। নিহত বাঙালিদের গণকবর দিয়েছি। ছাত্রজীবন থেকেই আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি। আর কত পরিক্ষা দিতে হবে?
ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন,ঢাকা–খাগড়াছড়ি সরাসরি পরিবহন চালু করেছি, মসজিদ-মন্দির-কেয়াং-প্যাগোডা নির্মাণ করেছি—সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি উন্নয়ন ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকতে চাই।
হাস্যরস মেশানো কটাক্ষে তিনি বলেন,দাড়ি-পাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাবে! তাহলে মানুষ নামাজ কেন পড়বে? বেহেশতের টিকিট বিক্রি করছে জামায়াত।
তিনি আরও বলেন,হাতপাখা ১৫ বছর আওয়ামী লীগকে বাতাস দিয়েছে, এখন আবার জামায়ত কে বাতাস দিচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে জামানত হারিয়ে এখন এমপি প্রার্থী হয়েছে—এটাই তাদের রাজনীতির নমুনা।
সম্প্রতি রামসু বাজারে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে উল্লেখ করে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন,ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা পাহাড়ে শান্তি চায় না। এখন সিএসটি নামে নতুন দল বেরিয়েছে। জনগণের কল্যাণের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পাহাড়ী বাঙ্গালীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরী করতে হবে।
তিনি আহ্বান জানান,পাহাড়ি-বাঙালি মিলেই ধানের শীষে ভোট দিন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হবে জনগণের সরকার—এ দেশ আবারও ফিরে পাবে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার।
এসময় কলাবাজার ও আশপাশের রাস্তাজুড়ে ছিল জয়ধ্বনি ও শ্লোগানের গর্জন।
বৃদ্ধ থেকে তরুণ, নারী থেকে শিক্ষার্থী—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে গুইমারা যেন রূপ নেয় এক রাজনৈতিক উৎসবে।
Please follow and like us:










