নজরুল ইসলাম চৌধুরীঃ
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের মধ্যম শিলুয়া মাহেন্দ্র কবিরাজ বাড়ীতে অগ্নিকান্ডে তিন হিন্দু পরিবারের সর্বস্ব আগুনে পুঁড়ে ছাই হয়েগেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২ টার সময়। খবর পেয়ে ছাগলনাইয়া ফায়ারসার্ভিস কর্মিরা ঘটনাস্থলে পৌছলেও ততক্ষণে আগুনে পুঁড়ে ছাই হয়ে যায় সব। তবে সঠিক সময়ে ফায়ারসার্ভিস কর্মিরা ঘটনাস্থলে না পৌছলে পাশের কয়েকটি ঘরেও আগুনের সুত্রপাত হতো বলে জানায় স্থানীয়রা।

এতে হারাধন চন্দ্র দাস, মায়া রানী শীল ও রাখাল চন্দ্র শীল এ তিন পরিবারের বসত ঘর, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ঘরের আসবাবপত্র সহ মোট ১৬ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তিন পরিবার। তবে হারাধন চন্দ্র শীলের এককভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয় ১৫ লাখ টাকার সম্পদ। অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তিন হিন্দু পরিবারের সদস্যরা। এদিকে বুধবার বেলা ১২ টা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে কেউ আসেনি বলে জানায় তারা।

খবর পেয়ে বুধবার বেলা দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটের সময় চাল,ডাল, তেল, চিনিসহ শুকনো খাবার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ তিন পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে শিলুয়ায় পৌছান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিদা ফাতোমা চৌধুরী ও পাঠাননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল হায়দার চৌধুরী জুয়েল। এসময় ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্থদের বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সবসময় কিছু ত্রাণ হাতে রাখি সেখান থেকে আজ আপনাদের ত্রাণ দিয়েছি। ঘর মেরামতের জন্য টিন এবং নগদ টাকা পাওয়ার জন্য আপনার আবেদন করলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিবো। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, আগুন কুভাবে লেগেছে তা আমরা তদন্ত করে দেখবো। যদি কেউ শত্রুতাবসত আগুন লাগায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল এ অগ্নিকান্ডের বিষয়ে জানতে পেরে প্রতিবেদককে জানান, ক্ষতিগ্রস্থ তিন পরিবারের পুনর্বাসনে আমি আমার উপজেলা পরিষদ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। সোহেল চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ যতদ্রুত আমার পরিষদে আসবে আমি ততদ্রুত তাদের সাহায্য করতে পারবো।
সরকারি ভাবে সকল প্রকার সাহায্য তাদের করে হবে বলে জানায় ফেনী-১ আসনের সাংসদ শিখতারের প্রতিনিধি জাসদ নেতা কাজী আবদুল বারী।









