৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • দেশজুড়ে
  • রাজশাহীতে বিচারকের ছেলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু




রাজশাহীতে বিচারকের ছেলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী, করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : নভেম্বর ১৪ ২০২৫, ২২:৫৬ | 646 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমানের ছেলে নবম শ্রেণির ছাত্র তাওসিফ রহমান সুমনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে তাওসিফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. কফিল উদ্দিন জানান, তাওসিফের ডান উরু, ডান পা ও বাম বাহুতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই তিনটি স্থানের রক্তনালী কেটে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, যা তার মৃত্যুর কারণ। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে তাওসিফের গলায় কালশিরা দাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে ডা. কফিল উদ্দিন বলেন, নরম কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে চেষ্টা করা হলে এমন দাগ হতে পারে। তবে এটি মৃত্যু প্রধান কারণ নয়।
ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তাওসিফের মরদেহ দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। নগরীর রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী নগরীর ডাবতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় হামলার শিকার হয় তাওসিফ। হামলাকারী লিমন মিয়ার (৩৫) আঘাতে তাওসিফের মা তাসমিন নাহার লুসীও গুরুতর আহত হন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল ও উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, হামলাকারী লিমন মিয়াও ঘটনার সময় আহত হয় এবং বর্তমানে সে পুলিশের পাহারায় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লিমনের বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায়। বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারের সাথে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে লিমনের পরিচয় হয়। বিভিন্ন সময়ে তাসমিন নাহার লিমনকে আর্থিক সহায়তা করতেন। সম্প্রতি লিমন বড় অঙ্কের টাকা দাবি করে এবং টাকা না পেয়ে হুমকি দিচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই হুমকির ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় তাসমিন নাহার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন পুলিশের কাছে হত্যাকা-ের স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং বিচারকের স্ত্রীর সাথে তার ৫বছরের সম্পর্কের কথা দাবি করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে ব্যক্তিগত দ্বন্দ ওথবা, আর্থিক লেনদেনের জের ধরে এই হত্যাকা- ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন মিয়া সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বিচারকের স্ত্রী লুসির সঙ্গে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তার পরিচয় এবং বিগত পাঁচ বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার ভাষ্যমতে, সম্প্রতি লুসি সম্পর্কটি অস্বীকার করে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে হয়ে পড়েন।
এই আকুতি নিয়ে লুসির সাথে দেখা করতে রাজশাহীর বাসায় যান তিনি। সঙ্গে নিয়ে যান গোলাপ ফুল, বাদাম ও পপকর্ন। তার দাবি, লুসির সাথে বাইরে বসে কথা বলার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে লুসি পাশের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে পুলিশে খবর দেন। এতে আগের একটি ঘটনায় জেল খাটার অপমান মনে পড়ায় এবং বাবার সম্মানের কথা চিন্তা করে তিনি রাগান্বিত হয়ে দরজা ভাঙেন।
লিমন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি যদি পরকীয়া করি, ওনিও পরকীয়া করেছে… উনারও সাজা হওয়া উচিৎ। তিনি ন্যায়বিচার দাবি করে বলেন, বিচারে তার ফাঁসি হলেও তিনি তা মেনে নেবেন। লুসির প্রতি তার ভালোবাসা জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বলব, লুসি আমি তোমাকে ভালবাসি।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET