সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত আসবে এবার নব প্রভাত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও আজ শুক্রবার মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় বিভাগীয় শ্রম দপ্তর চত্বরে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাফুজুর রহমান রিটন। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তেরখাদিয়াস্থ জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নোস্ট্রি) প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সকাল ৯টায় নোস্ট্রি সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন এবং শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাসিক প্রশাসক মোঃ মাফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ এরশাদ আলী ঈশা, পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হাসান, আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মারুফ হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
বিভাগীয় কমিশনার ড. বজলুর রশীদ বলেন, দেশের সব জায়গায় এখনও শ্রমিকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শ্রমিকদের নিজেদের পরিবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে তাদের প্রতি নৈতিক, আইনগত ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। সঠিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের কাছ থেকে শতভাগ কর্মদক্ষতা পাওয়া সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু বেতন দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়েও নজর দিতে হবে। সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
রাসিক প্রশাসক মোঃ মাফুজুর রহমান রিটন বলেন, শ্রমিকরাই উন্নয়ন ও দেশ গঠনের মূল চালিকাশক্তি। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মর্যাদা এবং ঘাম শুকানোর আগেই ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা গেলে শ্রমের প্রকৃত মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশার শ্রমিক, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









