, , ,

শিরোনামঃ-




শীতজনিত রোগ: লক্ষ্মীপুরে ৮ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৪৮ শিশু।

আউয়াল হোসেন পাটওয়ারী, রামগঞ্জ,লক্ষীপুর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ২৩ ২০১৯, ২১:৩৪ | 1005 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীপুরে ঠান্ডাজনিত কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এক মাস বয়সী থেকে ৪ বছর পর্যন্ত শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়েছে। গত ৮ দিনে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ১৪৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত এসব শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এতে করে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সরা।
অপরদিকে বেড সংকট থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগীকে সুস্থ্য করে তুলতে তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হলে অভিভাবকদের সচেতন থাকার জন্যই চিকিৎসকগণ অনুরোধ করেন।
এছাড়াও জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হসপিটাল সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১৫টি বেড রয়েছে। শনি ও রবিবার নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত ৩১ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও প্রায় ৩০ জন শিশু ভর্তি ছিল। এতে নতুন রোগীদের বেডে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ রোগীকে বেড শেয়ার করতে হয়েছে। আবার অনেককেই মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেড শেয়ার করে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে অনেক রোগীর স্বজনদের।
ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু আবিরনগর গ্রামের দেড়বছর বয়সী রিফাত হোসেন, রাজীবপুর গ্রামের একবছর বয়সী রোহান, টুমচর গ্রামের পাঁচ মাস বয়সী হাফছা ও চরভূতা গ্রামের ছয় মাস বয়সী মো. ওমরসহ প্রায় ৭০ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে তাদেরকে অন্যান্য ওয়ার্ডের বেডে ও মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বেশ কয়েক জন্য রোগীর আত্মীয়রা জানান, হাসপাতালে বেড সংখ্যা কম। অসুস্থ্য শিশুকে নিয়ে মেঝেতে থাকা কষ্টসাধ্য। একই কারণে মাঝে মাঝে বেডও শেয়ার করতে হয়। এতে শিশুকে চিকিৎসা করাতে এসে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মোরশেদ আলম হিরু বলেন, গত কয়েকদিন লক্ষ্মীপুরে প্রচন্ড শীত পড়ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ভাইরাসের আক্রমণ বেড়ে যায়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এজন্যই শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই ৫০-৬০ জন শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তবে ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৩-৪ দিনে ঠান্ডাজনিত কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্য বেশিরভাগই শিশু। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে দেড় শতাধিক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোগীকে সুস্থ্য করে তুলতে আমাদের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন আবদুল গফ্ফর জানান, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত পরিমানে ঔষধ সরবরাহ রয়েছে। মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বাচ্চাদের কোনভাবেই ঠান্ডায় বের করা যাবে না, বিশেষ করে সন্ধার পর গরম জামা গায়ে রাখলে শিশুরা শীতজনিত রোগ বালাই থেকে রক্ষা পাবে।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET