১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, ২৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-




শীতের অতিথি পাখির কলকাকলি ও ডুংকর

সৈয়দ মুন্তাছির রিমন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,ফ্রান্স।

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ১৯ ২০১৯, ২০:৫২ | 921 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

? বিশ্বে পাখির অন্তত হাজার দশেক প্রজাতি আছে। এদের কেউ আকাশে বেশিরভাগ সময়টা কাটায়, কেউ বা মাটিতে চড়ে বেড়ায়। কেউ জলচর তো কেউ পরিযায়ী, কেউ পতঙ্গভোজী তো কেউ ফলভোজী বা মাংসখেকো। এক কথায় পাখিদের বৈচিত্র্য। আর পাখিদের কলকাকলি ভালো লাগে না পৃথিবীতে এমন মানুষ নেই। আর আমাদের সবুজের প্রকৃতিতে অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর।
আমাদের হাওর-বাওর, বিল-ঝিল ও অজস্র নদী খাল নিয়ে এই বাংলাদেশ। ভৌগলিক অবস্থান বা এলাকার বৈশিষ্টের দিক থেকে বিবেচনা করে এ দেশের হাওরকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এই তিন শ্রেণীর হাওর এলাকা মৎস্য সম্পদ, পানি সম্পদ, কৃষি এবং আর্থ সামাজিক শর্ত গুলো ভিন্ন রুপে প্রতীয়মান।
হাকালুকি হাওরের ভূ-তান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য উজানে রয়েছে উচু পাহাড় শ্রেণী । মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে মাদার ফিসারী নামে খ্যাত হাকালুকি হাওর অবস্থিত।
এ হাওরের আয়তন ১৮, ১শ ১৫ হেক্টর তার মধ্যে শুধু মাত্র বিলের আয়তন ৪ হাজার ৪ শত হেক্টর এবং জল মহালের সংখ্যা মোট ১শ ৩১ টির মাঝে ২০ একরের উর্ধ্বে ৫০ টি ও নীচে ৮১ টি বিল বিদ্যমান রয়েছে। হাওরের বুকচিরে সুনাই, জুড়ী, দর্শনা, বালিছা, নদীসহ মোট ১৩ টি নদী ও ছড়া প্রবাহিত হয়েছে। তাই এখানে প্রাকৃতিক ভাবে পাখিদের বিশাল খাদ্য ভান্ডার গড়ে উঠায় প্রতি বছর এই হাওরে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
পৃথিবীর প্রাায় ৫ লাখ প্রজাতির পাখির মধ্যে অনেক প্রজাতিই বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় অন্য দেশে চলে যায়। ইউরোপ আর এশিয়ায় আছে প্রায় ৬শ প্রজাতির পরিজায়ী পাখি। এসব পাখির মধ্যে প্রায় ১শ ৫০ প্রজাতির পাখি আমাদের দেশে আসে। কিন্তু এর দুই তৃতীয়াংশেরই অবস্থা বিপন্ন ও নাজুক।
সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে ঝাঁকে ঝাঁকে দল বেধে অতিথি পাখি আসে। উত্তর গোলার্ধ অর্থাৎ বরফাচ্ছন্ন শীত প্রদান দেশ থেকে কনকনে ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আবহাওয়ায় সুখ অনুভব করতে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আসে অতিথি পাখি এই হাওরে।
সূর্যোজ্জল, রৌদ্রজ্জল পরিবেশ ও ঠান্ডা রোদের হিমেল আবহাওয়ার দেশ বাংলাদেশ। শীতের প্রারম্ভেই এদের পাখনার ঝাপটায় সৃষ্ট নান্দনিক ছন্দে মুখরিত হয় ওঠে বাংলার প্রত্যন্ত জনপদ, নদনদী, খালবিল, হাওর, বিল, জলাশয় ও বিভিন্ন চরাঞ্চল। অতিথিদের গুঞ্জনে কুঞ্জনে সবুজ বন-বনানি পরিবেষ্টিত রুপসি বাংলার নির্জন প্রান্তর তখন সেজে উঠে নতুন সাজে।
এখানে গরম আবহাওয়ায় খাদ্যের নিশ্চয়তা পেতে পুরো শীত মৌসুমে এরা উড়ে বেড়াবে হাকালুকি হাওর এলাকায়। আর বসন্তের শুরুতেই তাদের অস্থায়ী নিবাস গুটিয়ে নিজ নিজ দেশের উদ্দেশ্যে পারি জমায় । শীত মৌসুম এলেই অতিথি পাখির আগমনের অপেক্ষায় থাকেন পাখি প্রেমিরা। পাখিদের এমন মুখরিত দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য দেখতে অনেককেই দেখা যায় হাওরের আশে পাশে।
পাখিরা হাওর পাড়ের হিজল, করচ, বরুণ, আড়াং গাছেই গড়ে তুলে তাদের অস্থায়ী নীড়। দুপুর বা বিকেলে হাকালুকির কয়েকটি বিলে পাখিদের খাবার নিয়ে ঝগড়া কিংবা খাদ্য সংগ্রহের দৃশ্য এখন নিত্য ব্যাপার। ইতোমধ্যে বড় বড় দলে হাওরের পিংলা, চাতলা, পরতি, চৌকিয়া, হাওরখাল, মালাম, গৌড়কুড়ি, নাগুয়া, তুরল, ফুটবিলে বিভিন্ন জাত ও রঙের অতিথি পাখির দেখা পাওয়া যায়। পাখিদের কিঁচিরমিচির আওয়াজে হাওরপাড়ের চার পাশ মুখরিত হয়ে উঠছে।
পাখিদের মধ্যে একটি জাত হলো ডুংকর।কোদালিয়া বিলের কিনারায় ভূমিতে যে কাঁটাওয়ালা বৈচিগাছ রয়েছে সেগুলোকে স্থানীয়রা ডুংকর নামে চেনে।
এই পাখি ডুংকর গাছের ঘন ঝোপেও বাসা বাঁধে। এ কারণেও পাখিটির নাম ডুংকর হয়ে থাকতে পারে। ডুংকরের ইংরেজি নাম Common Moorhen, Moorhen বা Indian Moorhen। Rallidaeপরিবারের জলজ পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম gallinula chloropus. ডুংকর ডাহুক আকারের পাখি। ঠোঁটের আগা থেকে লেজের ডগা পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ৩২-৩৬ সেন্টিমিটার, ওজন ২০০-৩৪০ গ্রাম। পিঠ জলপাই-বাদামি। মাথা, চিবুক, ডানা ও বুক কালচে, তাতে ধূসরের আভা। ডানায় কিছু সাদা দাগ রয়েছে। লেজের তলা সাদা। প্রজনন মৌসুমে ঠোঁটের রং হয় কমলা লাল, আগাটা থাকে হলুদ।
পা ও আঙুল ধূসরাভ সবুজ হয়ে যায়। অন্য সময় ঠোঁট ফ্যাকাশে হলুদ এবং পা ও আঙুল। অনুজ্জ্বল হয়। অপ্রাপ্তবয়ষ্ক পাখির প্রায় পুরো দেহ বাদামি এবং বুক ও বগলে ধূসর আভা থাকে। পেট সাদাটে। ঠোঁট অনুজ্জ্বল সবুজ। সদ্য ফোটা
বাচ্চাগুলো কালচে। সারা দেশের হাওর, বিল, পুকুর, বাদা ও জলজ উদ্ভিদসমৃদ্ধ জলাশয়ে এদের দেখা যায়।
সচরাচর জোড়ায় বা ছোট দলে বিচরণ করে। এরা ভালো সাঁতারু, পানিতে ডুবে থাকতেও ওস্তাদ। সাঁতার কেটে বা ভাসমান জলজ উদ্ভিদের ওপর হেঁটে হেঁটে ফল, বীজ, কীটপতঙ্গ, শামুক-গুগলি, ব্যাঙ, ছোট মাছ ইত্যাদি খায়। সাঁতার কাটা ও হাঁটার সময় মাথাটা চমৎকার ভাবে আগে-পিছে দোলায়। ডাহুকের মতো সারাক্ষণই ছোট্ট লেজটি নাড়াতে থাকে। প্রজননকালে দিনে-রাতে ডাকতে থাকে।
মে থেকে সেপ্টেস্বর প্রজননকাল। এ সময় জলার কিনারের ঘন ঝোপালো গাছে বা জুতসই নলখাগড়ার ওপর
লতাপাতা, শিকড় ইত্যাদি দিয়ে বড় আকারের বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৩-৬টি। স্ত্রী-পুরুষ দুজনেই পালা করে ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটে ১৯-২২ দিনে। সদ্য ফোটা বাচ্চাগুলো সচরাচর মায়ের সঙ্গেই ঘোরে। বাচ্চারা ৩০-৩৩ দিনে বড় হয় ও উড়তে শেখে। তাই পাখিদের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার জন্য দায়িত্বশীল হতে হবে।
Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET