দীর্ঘ ১৯ মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন তুলছেন বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার বিসি ভাষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভূপাতি রঞ্জন রায় এবং তার ছেলে অফিস সহায়ক সাগর রায়। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী হাসান অনেক আগেই বেতন বন্ধের নির্দেশনা দিলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্দেশনা অমান্য করে বেতনে স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে অনেকেই বলছেন বেতনের ৫০ শতাংশ শিক্ষককে দেওয়া হয় বাকি ৫০ শতাংশ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, উপজেলা ও জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাগন নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। ঘটনার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুজ্জামান এর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং অনিয়মে নীরব ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা, উপস্থিতি এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে তার সঠিক ধারণা নেই, ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যোগসাজশের কারণে বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা হারায়। প্রশাসন কিংবা শিক্ষা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় যে কোন সময় বিদ্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক তার ছেলেকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দিয়ে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা সরকারি বিধিমালার পরিপন্থি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জানাগেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তার ছেলে ৫ই আগস্টের পর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে। হাজিরা খাতায় তাদের কোন স্বাক্ষর নাই। তারা কেন অনুপস্থিত তারও কোন ব্যাখ্যা নাই। এতকিছুর পরেও দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে বেতন তুলছেন প্রধান শিক্ষক ভূপতি রঞ্জন রায় এবং তার ছেলে সাগর রায়। আর এসব কাজে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। ঘটনার বিষয় জানতে প্রধান শিক্ষক ভূপতি রঞ্জন রায়ের মোবাইলে কল করা হলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকেই বলেন প্রধান শিক্ষকের নাম্বার প্রায়ই বন্ধ থাকে। তবে মাঝে মাঝে খোলা পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আনিসুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক এবং তার ছেলে অফিস সহায়ক দুজনেই বিদ্যালয়ে না এসেও ১৯ মাস যাবত বেতন তুলছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বেতন বন্ধ না করলে আমার কিছু করার নেই। বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউই আমাকে তাদের বেতন বন্ধের জন্য নির্দেশনা দেন নাই। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হাজীরা খাতায় স্বাক্ষর নেই তারপরেও বেতন দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বেতন নিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত কিংবা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর লাগে না।
কচুয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মোর্শেদের সাথে কথা বলে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে সংবাদ কর্মীদের জানান।
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হাসান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। বিদ্যালয়ে না এসে প্রধান শিক্ষক ও তার ছেলে অফিস সহায়ক নিয়মিত বেতন তুলছেন। অনেক আগেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আনিসুজ্জামানকে বেতন বন্ধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হলেও তিনি তা করেন নাই।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে আবেদন করতে বলেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন জেলায় এরকম সমস্যা অন্তত ৫০ টি স্কুলে রয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় নাই।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল।









