১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার, ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-




শ্রীপুরে পরিবেশ ছাড়পত্র নেই অধিকাংশ ইটভাটার

সাইফুল আলম সুমন, গাজীপুর করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ০৭ ২০১৯, ২২:৫৪ | 804 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে একের পর এক ইটভাটা। পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এসব ভাটার অধিকাংশেরই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। বর্তমানে উপজেলাটিতে মোট ২২টি ইটভাটা থাকলেও ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ছয়টির। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ভাটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের ফসলি জমি।
সরেজমিন উপজেলার লতিফপুর গ্রামে বানার নদের পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এলবিএম ব্রিকস, এসবিএম ব্রিকস, এবিএম ব্রিকসসহ বেশ কয়েকটি ইটভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। এসব ভাটার ৫০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে ফসলি জমি, আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইটভাটার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে আশপাশের এলাকা।
এছাড়া শীতলক্ষ্যার তীরে দেখা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশেই গড়ে উঠেছে কয়েকটি ইটভাটা। এর মধ্যে বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের শ্রাবণ, তালতলীর বিএবি, ভিটিপাড়া গ্রামের জেএম, আনাস-সাব্বির, মেসার্স শাহজাহান, এমএইচবি ও এমএসবি ব্রিকস অন্যতম। পুরো উপজেলায় এ রকম ২২টি ইটভাটা মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ভাটাগুলোর অধিকাংশই ব্যবহার করছে অনুমোদনহীন ছোট চিমনি।
লতিফপুর গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, ইটভাটায় সৃষ্ট ধোঁয়ায় গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে আশপাশের বাসিন্দাসহ স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর। বরকুল গ্রামের সোলায়মান বলেন, এখানে ইটভাটা স্থাপনের ফলে বাতাসে সবসময়ই ঝাঁজাল গন্ধ থাকে। এতে শিশু ও বৃদ্ধদের বেশি সমস্যা হয়। দিন দিন ইটভাটার আশপাশের জমিতে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এ গ্রামের আরো বেশ কয়েকজন বলেন, এসব ইটভাটা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাইরে স্থাপন করা যেত। কিন্তু তা না করায় গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
একই কথা জানান ভিটিপাড়া গ্রামের শেখ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, কৃষিজমির আশপাশে ইটভাটা থাকায় ফসলের উৎপাদন কমে গেছে। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এ অঞ্চলে একের পর এক ইটভাটা গড়ে উঠছে, যা পরিবেশের ক্ষতি তো করছেই, একই সঙ্গে স্থানীয়দের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
একই এলাকার মোহাম্মদ বাদল বলেন, এমনিতেই শ্রীপুরে যত্রতত্র কারখানা স্থাপনের ফলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে কালো ধোঁয়া সৃষ্টিকারী ইটভাটা স্থাপনের ফলে দূষণ আরো বাড়ছে। আমাদের দাবি, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ কিংবা অপসারণ করা হোক।
তবে বরমী এলাকার বাসিন্দা এএসবি ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী বাবুল আকন্দ দাবি করে বলেন, আমাদের ইটভাটায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে না। আমরা পরিবেশের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স নিয়েই ভাটা পরিচালনা করছিলাম। কিন্তু এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন করে কাগজপত্র নবায়ন করছে না। কিন্তু আমরা নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধ করছি। আমরা সরকারের নীতিমালা মেনেই ব্যবসা করতে চাই। এদিকে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বরমী ইটভাটার মালিক শাহজাহান ফকির বলেন, কাগজপত্র নবায়ন করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। কারণ আমরা পরিবেশের ক্ষতি না করেই ইটভাটা পরিচালনা করতে চাই।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুরের উপপরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, শ্রীপুরে ১৬টি ইটভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। লাইসেন্স হালনাগাদ করা আছে মাত্র দুটির। ফলে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই শ্রীপুরে অনেক ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। আমরা এসব ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি। শিগগিরই অবৈধ ভাটাগুলোয় উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হবে।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET