ফেনী প্রতিনিধি:
সোনাগাজী উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌরসভার মেয়র এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন ফেনী-২ আসনের সাংসদ, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর একনিষ্ঠ ও আস্থার হাতিয়ার। সুদক্ষ সংগঠক, সুমধুর বক্তা। শব্দ চয়ন ও কর্মী বান্ধব শেখ হাসিনার হিরন্ময় হাতিয়ার। দলীয় স্বার্থে কট্টর পন্থি আ.লীগ নেতা হিসেবে সর্বত্র তিনি বিএনপি জামায়াতের বিরাগভাজন।
কর্মীদের পেছনে অর্থ ব্যয় এবং কর্মীদের বিপদে ছুটে যাওয়া এক নেতার নাম মেয়র খোকন। বিপদগ্রস্তদের ত্রাণকর্তা হিসেবে সবার বিপদে ছুটে যান তিনি।
ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেই বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা আওয়ামী লীগের ত্যাগী তৃণমূলের নেতা ছিলেন। তিনি সিলেট ফেন্সুগঞ্জ সারকারখানার কর্মকর্তা ছিলেন। পিতার সিলেটে চাকরির সুবাদে সেখানেই বড় হন খোকন। স্কুল ছাত্র লীগ থেকে শুরু করে ফেন্সুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে দলের জন্য ছাত্র লীগের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ১৫/২০টি মামলার হুলিয়া নিয়ে সোনাগাজী পৌর শহরে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। সোনাগাজী বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে তার বাড়ি হওয়ার সুবাদে থানায় ও হাসপাতালে বিপদে পড়া নেতাকর্মীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে পারেন তিনি। খুব সহজেই নেতাকর্মীদের উপকারে ছুটে আসেন তিনি। আওয়ামী লীগের জন্য তাঁর ত্যাগ অবদান কেউই খাটো করে দেখে না। তাঁর চরম শত্রুরাও মনে করেন খোকন দলের জন্যই বড় একটা সম্পদ। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে কেউ কোন প্রশ্ন তোলে না। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই স্বীকার করেছেন যে আওরঙ্গজেব আরু মিয়া, এনাম মিয়া, রাজ্জাক মিয়া, মাস্টার শফি উল্যাহ, ফয়েজ কবিরের পর সোনাগাজীতে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সফল সংগঠক হলো খোকন। খোকন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যে, যেকোন সময় সোনাগাজীতে হাজারো লোক জোগাড় করা তাঁর জন্য কোন ব্যাপারই না।
রাজনীতির মাঠে যারা সংগঠনের জন্য দিন রাত কাজ করে তাদের ভুল হতে পারে আবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে পারে। তবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি, নিজাম হাজারী, আলা উদ্দিন নাসিম, ওবায়দুল কাদের বা শেখ হাসিনার একজন হিরন্ময় হাতিয়ার। তিনি যেমন আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও শেখ হাসিনার জন্য জীবন দিতে সব সময় প্রস্তুত। যে কোন ত্যাগ স্বীকারে বদ্ধ পরিকর খোকন।
তাঁকে সোনাগাজী উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বা সভাপতি পদের যে কোন একটি পদে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। যে কোন পদের জন্য তিনি একজন যোগ্য ব্যক্তি। তার প্রতিটি রক্ত কণিকা আর শিরা-উপশিরায় বয়ে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শ এবং শেখ হাসিনার চেতনা।
নানা অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে বিগত বিএনপি সরকারের আমলে দুই বার দলীয় প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দলের জন্য একাধিকবার কারাবরণ করেছেন তিনি। দলের দু:সময়ে কর্মীদের যখন খোঁজ নেয়ার কেউ ছিলনা তখন কর্মীদের পাশে থেকে সাধ্যমত সহযোগিতার হাত প্রসারিত রেখেছিলেন।
বিএনপি সরকার তথা ১/১১ সরকারের আমলে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বার বার হামলা মামলার শিকার হয়েছিলেন খোকন।
সাংগঠনিক দক্ষতায় সবার মন জয় করে ফেলেন খোকন। তার ভালো গুণ ছিল যেকোন মানুষের বিপদে ঝাপিয়ে পড়া, বিপদে সাহায্য করা। এভাবেই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু। শুধুমাত্র রাজনৈতিক সহকর্মী না, যেকোন একজন মানুষ অসুস্থ হয়ে গেল, তাঁর রক্তের দরকার, কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য কাউকে নিতে হবে কিংবা একজন গরীব মানুষের সহায়তা দরকার কিংবা একজন শিক্ষার্থীর বেতন বা পরীক্ষার ফিস বাকী পড়ে গেছে তাকে সহায়তা করা এই কাজগুলোর মাধ্যমেই খোকন সোনাগাজীর আওয়ামী রাজনীতিতে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোটের তাণ্ডবে আওয়ামী লীগ যখন দিশেহারা তখন সেই সময়ে সোনাগাজীতে আওয়ামী লীগের সংগঠন টিকিয়ে রাখাই দায়, তখন দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে দলের হাল ধরেন খোকন।
দল তথা দলের কর্মীদের পেছনে ব্যয় করতে নিজের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বহু জমি বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।
একজন রাজনৈতিক কর্মী, যার সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশ্নাতীত, যিনি একজন আদর্শ রাজনীতিবিদ। শুধুমাত্র জনপ্রিয়তার কারণে তার বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করতে পারে।
দীর্ঘ ৬৪ বছরের আওয়ামী রাজনীতির ইতিহাসে সোনাগাজী আ.লীগ ছিল ঠিকানা বিহীন। তার বুদ্ধিমাত্তা আর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সোনাগাজী আ.লীগ পেয়েছেন নি:শ্বাস ফেলার ঠিকানা। যেটি বেশ কয়েক জন নেতার আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত হয়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা তথা তৎপূর্ববর্তী সময়ে সাংসদ হাজী রহিম উল্যাহর সাথে সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী তথা দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে বিরোধ কালীণ সময়ে লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে নিজাম হাজারীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে সুদক্ষ কারিগরের ভূমিকায় থেকে নেতৃত্বে দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সাংসদ নিজাম হাজারীর বুদ্ধি মাত্তা ও অভিজ্ঞতা কে কাজে লাগিয়ে পুরো উপজেলায় রক্তপাতহীন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভা আ.লীগের কমিটিগুলো গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন।
নিজাম হাজারীর হাতে ফেনী জেলা আ.লীগের নেতৃত্ব যেমন নিরাপদ আর সোনাগাজী আ.লীগের নেতৃত্বও তেমনি খোকনের কাছে নিরাপদ মনে করছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
তবে এসব ব্যাপারে একেবারেই সিদ্ধান্ত হীনতায় রয়েছেন খোকন। তার দাবি তার রাজনৈতিক অভিভাবক জেলা আ.লীগের কান্ডারী, সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যদি তাকে যোগ্য মনে করেন, তিনি সিগন্যাল পেলে প্রার্থী হবেন। অন্যথায় নিজাম হাজারীর মত যোগ্য নেতার কর্মী হয়ে তার সাথে কাজ করবেন বলে জানান।
সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী ও তৃণমূলের সিদ্ধান্তই তার কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন।
নেতৃত্ব দিতে গিয়ে মনের অজান্তে তিনি যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, তাদের কাছে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।
শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে তিনি সবাইকে সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
Please follow and like us:









