আগৈলঝাড়া প্রতিনিধিঃ- বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিদ্যালয়ের সরকারী জায়গা এলাকাবাসীর বাধার মুখে দখল নিতে পারেনি প্রভাবশালী দখলদাররা। সরেজমিনে জানা গেছে, ১৯৪৩ সালে ৪২ নং দক্ষিণ বাগধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার করিম খান, তোফেল খান, আজিমউদ্দিন খান, মফেল মীর, হাচেন আলী তালুকদার ও হাজী নৈমদ্দিন সরদার দক্ষিণ বাগধা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালের ভায়াবহ বন্যায় বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলিন হওয়ায় অন্যত্র স্থান্তরিত করে একই এলাকার করিম খান, ইমাম উদ্দিন খান, সাহেব আলী খান, ইসমাইল বাহাদুর, হাচেন সরদার ও আব্দুল হামিদ তালুকদারসহ ২১ জন দাতা ১৯৮৩ ইং সালের ৩০ জুলাই ২৩৩৭ নং দলিলে ৪১ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করে। বর্তমান হাল মাঠ জরিপে ৪১ শতাংশ সম্পতির মধ্যে ৩৪ শতাংশ বিদ্যালয়ের নামে রের্কড পায়। এর কিছুদিন পর থেকে দাতাদের ওয়ারিশগন বিদ্যালয়ের সম্পত্তির অংশ দাবি করে আসছে। ৪২ নং দক্ষিণ বাগধা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সামচুল হক খান চলতি বছরের ১০ আগষ্ট মারা যাওয়ার পরে গত মঙ্গলবার একই এলাকার প্রভাবশালী হাবিবুর রহমান, রবিউল তালুকদার, শহিদ তালুকদার, মোকসেদ তালুকদার, বেলায়েত তালুকদারসহ তাদের ওয়ারিশগন বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে বাঁশ, গাছ, লাঠি সোটা, বাশের চাটাই, সাবল নিয়ে স্কুল মাঠে গর্ত করে বেড়া দিয়ে দখল নেয়ার প্রস্তুতি নেয়। এসময় বিদ্যালযের জমিদাতা আব্দুল হামিদ তালুকদার, পিটিএ সভাপতি মতিয়ার রহমান, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আক্কাস সরদার, মীর মোশারফ হোসেন, প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় বিদ্যালয়ের জায়গা দখল নিতে পারেনি। এ ঘটনায় গত বুধবার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই এর সভাপতিত্বে জরুরী বৈঠক বসে। এসময় ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মো. আফসার মিয়া, মতিয়ার রহমান তালুকদার, মীর মোশারফ হোসেন, মো. আক্কাস সরদার ও নুপর খানম উপস্থিত ছিলেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা বিদ্যালয়ে সম্পত্তি দান করেছেন। দেখা গেছে পিতার ৫ সন্তানের মধ্যে ২ সন্তান বিদ্যালয়ে জমি দান করেছে তাদের বাকি ৩ জন ওয়ারিশ জমির মালিকানা দাবি করেছে। এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল হক তালুকদার জানান, স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের জায়গা দান করেছে। ৪১ শতাংশ সম্পত্তির মধ্যে ৩৪ শতাংশের রের্কড পাওয়া গেছে। বাকি সম্পত্তির জন্য সেটেলমেন্ট অফিসে আপত্তি কেস করা হয়েছে। শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হবে।









