সকাল থেকে কয়েকদফা বৃষ্টি ও যানজট থাকায় টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা মুসুল্লীদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ইজতেমা মাঠে আসতে শুরু করেছে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীরা। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মুসুল্লীদের আগমনের এ ঢল থাকবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসুল্লীরা টঙ্গী রেল ষ্টেশন, উত্তরার কামারপাড়া ও ময়মনসিংহ থেকে আসা মুসুল্লীরা গাজীপুরের সালনা পর্যন্ত এসে যানজটে আটকে পড়েছেন। সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি থাকালেও মুসুল্লীরা এ বৃষ্টিকে কোনো দুর্ভোগ হিসেবে নিচ্ছেন না।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বেখৈরহাটি গ্রামের সিরাজুল ইসলাম। তিনি সকাল সাড়ে ৯টায় ইজতেমার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হয়েছেন। গাজীপুর পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে আসতে পারলেও সালনা থেকে জ্যাম থাকায় বাসে বসে থাকতে হচ্ছে।
অনেক মুসল্লি ময়দানে তাদের খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। তারা সবাই বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে পলিথিন-কাগজ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। বৃষ্টির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ময়দানে চটের নিচে অবস্থান নেয়া মুসল্লিরা দুর্ভোগে পড়বেন। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে রান্না-বান্না এবং খিত্তায় অবস্থান করাও কঠিন হয়ে যাবে।
টঙ্গী ষ্টেশন রোড এলাকায় কথা হয় নরসিংদী সদর উপজেলার গাবতলী গ্রামের রুহুল আমীন সাথে। তিনি বলেন, আমরা ২০ জনের একটি দল ইজতেমায় এসেছি। বৃষ্টি ও রাস্তায় কাদা থাকায় দোর্ভোগ পড়তে হয়েছে। তাদের ইজতেমায় আসার উদ্দেশ্য হলো নিজের ঈমান ও আমলকে মজবুত করা এবং দ্বীনের জন্য মানুষকে মেহনত করা।
নরসিংদীর রায়পুর উপজেলার পালাতরী গ্রামের আব্দুছ ছাত্তার বলেন, যানজট নিরসনে পুলিশের কোনো পদক্ষেপই লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন পুরিশ যানজট নিরসনে ভূমিকা না নেয়ায় ইজতেমায় আগত মুসুল্লীদের বিপাকে পড়তে হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজটের কারণে ঢাকা-বাইপাস ও ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কেরও যানজট লেগে রয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নিজ মাওনা গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল ৭টায় বোর্ড বাজার থেকে ইজতেমা মাঠের উদ্দেশ্যে বাসে চড়েন। বেলা ১১ টায় তিনি ইজতেমা মাঠের প্রদান ফটকে প্রবেশ করেন। যানজটের কারনে আধা ঘন্টার সড়ক পারি দেিত হয়েছে চার ঘন্টায়।
নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার প্রভাকরদি গ্রামের ইসমাইল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শৈতপ্রবাহ থাকবে, বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের আগেই জানার কথা। তারা ইজতেমায় আগত মুসুল্লেিদর কথা চিন্তা না করে শুধু ময়দানের কথা ভেবে সড়কে শৃঙ্খলার কথা ভুলে গেছেন। যার কারনে মুসুল্লীদের যানজটে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে, এবার পুরো ইজতেমা ময়দান এলইডি লাইট দিয়ে সজ্জিত করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। শেষ মুহূর্তে মুসল্লিদের যাতায়তের পথগুলো মেরামত, ময়দান পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। মুসল্লিদের সুবিধার সার্বিক দিক ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত থেকে দেখভাল করছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম।
ময়মনসিংহের ইসলাম পরিবহনের চালক জাকারিয়া হোসেন হৃদয় জানান, বেলা ১১টায় টঙ্গীর বোর্ড বাজার থেকে টঙ্গী বাজার পর্যন্ত ২০ মিনিটের রাস্তা আসতে সময় লেগেছে এক ঘন্টা। এত করে বাসের যাত্রী ও ইজতেমাগামী মুসুল্লীরা বিরক্তি পোষন করতেছে। কিন্তু, আমাদেও তো কিছুবি করার নেই, মহাসড়ক ভাঙ্গাচোরা ও যানজটের কারনে ভোগান্তিতে পরতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ইজতেমা ময়দানের পাশে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পগুলো উদ্বোধন করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। পুরো ইজতেমা ময়দানের চারপাশে সিসি ক্যামেরাগুলো সচল করা হয়েছে। মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এদিকে, চান্দনা চৌরাস্তা মোড়, ছয়দানা, বাসন সড়ক, চেরাগআলী, গাজীপুরা, বোর্ড বাজার, ভোগড়া বাইপাস ও টঙ্গী ব্রীজের পর থেকে, স্টেশন রোড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে তীব্র যানজট লেগেই রয়েছে।
টঙ্গী ষ্টেশন রোডে সকাল সাড়ে ৯টায় কথা হয় নরসিংদীর মেঘালয় পরিবহনের চালক ইসমাইল হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, রাস্তায় খানাখন্দ, বৃষ্টি এবং যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকালে মহাসড়কে পুলিশের সংখ্যা কম, সে কারণেও চালকেরা নেয়ম ভেঙ্গে সড়কে চলাচল করছে। এত করে যানজটে বেশি বোগান্তি হচ্ছে
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক জানান, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন ইজতেমাগামী মুসুল্লীদের দুর্ভোগে পড়তে না হয়। হঠাৎ করে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ায় সড়কে জমে থাকা ময়লা ও বালু জমে কাদা হয়ে গেছে। এ করানে মুসুল্লী ও বাস চালকেদও দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে থাকায় সড়কে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া হঠাৎ করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পোয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশ কাজ করছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইজতেমা ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ মুসল্লিদের সকল ধরণের সেবা প্রদানের জন্য সিটি কর্পোরেশন প্রস্তুত রয়েছে।








