করোনাভাইরাস বা Covid 19 বর্তমান বিশ্বে এক আতঙ্কের নাম। হাতে গোনা কয়েকটা দেশ ছাড়া বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই কম বেশি ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ এবং ৩ লাখের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে৷ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি ও মৃতের সংখ্যা।
করোনাভাইরাসের দুর্যোগের ফলে বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে মহা সংকট। কর্মহীন হয়ে পড়ছে লাখ লাখ মানুষ, অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে হাজারো পরিবার, স্কুল-কলেজ বাদ দিয়ে বন্দী জীবনযাপন করছে লাখো শিক্ষার্থী। মসজিদে মুসল্লী নেই, মাঠে নেই খেলোয়াড়, রাস্তায় নেই যানযট, মার্কেটে নেই ভিড় ! এ যেনো এক ভিন্ন পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করছে মানুষ।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানেই মৃত্যু নয়, ভয় ও আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করার মাধ্যমে করোনা জয় করা সম্ভব। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ। বাংলাদেশের মানুষ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলার ফলেই আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত !
করোনাভাইরাস ভাইরাস এর সংক্রমণ থেকে পরিবার ও নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে বেশকিছু করনীয় রয়েছে। যেগুলো যথাযথ পালনের মাধ্যমে সুস্থ্য থাকা সম্ভব। বাড়ির বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে৷ অনেকে মনে করে থাকে যে, শুধু দামী মাস্ক ব্যবহার করার মাধ্যমেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ হয় ! আসলে এই ধারণা পুরোপুরি ভুল। সাধারণত কাপড়ের মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্ক, N95 মাস্কসহ হাতে বানানো যেকোনো মাস্ক ব্যবহার করার মাধ্যমেই ভাইরাস ও ধুলোবালি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত পরিস্কার রাখতে হবে। চোখে চশমা ব্যবহার করা যেতে পারে। হ্যান্ডশেক বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একসাথে ঘেষাঘেষি করে যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকুন। হাতের নখ ছোট রাখুন এবং প্রতিদিন গোসল করার চেষ্টা করুন।
বাড়ির বাইরে থেকে ফেরার পর পরিহিত জামাকাপড় আলাদা রাখুন এবং যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিস্কার করে ফেলুন। টং দোকানে চা পান করা থেকে বিরত থাকুন। কারন ঐসব দোকানে একই কাপে শতশত মানুষ চা পান করে থাকে এতে করে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সিগারেট এবং সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করুন, কারন এসব দ্রব্য মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বেশি বেশি পানি পান করুন।
জ্বর, সর্দি বা কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যাথা, শরীর ব্যাথা বা শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে গেলে দ্রুত নিকটতম হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিন। শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা জমা দিয়ে ভাইরাস আছে কিনা পরীক্ষা করান। মাছ, মাংস বা ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ করে পরিবেশন করুন। শাকসবজি, ফলমূল, দুধ, ভিটামিন সি জাতীয় খাবার, জিংক ও তরল খাবার বেশি খান। নিজ বাড়িতে অবস্থান করুন। অপরিহার্য কাজ ব্যতীত বাড়ির বাইরে যাওয়া পরিহার করুন। হাচি বা কাশি দেওয়ার সময় রুলাম বা ট্যিশু ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও নিজ বাড়ির আঙিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
আমাদের সকলের মনে রাখতে হবে করোনাভাইরাস মানেই মৃত্যু নয়, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরার মাধ্যমে নিজেকে ও পরিবারকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। ভয় নয়, সকলে একসাথে মিলে করোনাভাইরাস’কে জয় করতে হবে। যার যার স্থান ও ধর্মীয় অবস্থান থেকে মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করতে হবে যাতে তিনি আমাদেরকে এই মহা দুর্যোগ থেকে মুক্তিদান করেন।









