২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • নাগরিক দূর্ভোগ
  • কাজিপুরে বেপরোয়া বালি উত্তোলনে নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লকে ধস্ , পানিবন্দি একশ পরিবারের দুর্ভোগ




কাজিপুরে বেপরোয়া বালি উত্তোলনে নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লকে ধস্ , পানিবন্দি একশ পরিবারের দুর্ভোগ

মোহাম্মদ আশরাফুুল, কাজীপুর,সিরাজগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : এপ্রিল ০৫ ২০২০, ১৬:৩৭ | 1106 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

সারাদেশের মানুষ যখন করোনা আতঙ্কে ঘরবন্দি সেখানে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বালিখকোদের বালি তোলার ধুম ধামছেই না। একের পর এক সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে রাতদিন অবিরাম তুলছে এবং বেশকটি স্থানে স্তূপাকারে রাখছে। আর বালির স্তূপের নিংড়ানো পানিতে এখনও দুর্ভোগে রয়েছে একশ পরিবার। হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লকে দেখা দিয়েছে ধস্। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসি চরম শংকায় রয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও’ র নিকট প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা তা মানছে না। এই কাজের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও কাজিপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল আওয়াল ।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার মেঘাই ঘাট এলাকায় যমুনা নদী থেকে বালি তুলে প্রায় চল্লিশ বিঘা তিন ফসলী জমি দখল করে সেখানে রাখা হচ্ছে। এতে করে ওয়াপদা বাঁধের পাশে উত্তর মুসলিমপাড়া গ্রামের প্রায় একশ পরিবারের উঠোনে ও ঘরে বালির স্তূপের নিংড়ানো পানি প্রবেশ করেছে। রান্নাঘরের চুলায় পানি প্রবেশ করায় বিকল্প স্থানে রান্না করছেন অনেকে।
বাড়ির উঠোনে পানিবন্দি বিমল, বিনয় ও গোবিন্দ নাথের পরিবারের লোকজন নিজেরা ঘরের পানি নিষ্কাষণের চেষ্টা করছেন। এসময় বিমল জানান, “জায়গা জিরাত নেই। বাধের নিচে কোনমতে ঘর তুলে আছি। কিন্তু একমাস যাবৎ আমাদের তিন ভাইয়ের উঠোনে পানি। গতকাল রাতে শুয়ে আছি। মাঝরাতে বাইরে যাবার জন্যে জেগে দেখি ঘরের মেঝেতে পানি।” পাশের বাড়ির মঞ্জরিবালা নিজের রান্নাঘর দেখিয়ে বলেন, পানি ওঠায় আজ আর রান্না করতে পারিনি। ঘরে পানিবন্দি শহিদুলের স্ত্রী সখিনা বিবি জানান, ‘কিছু বলতে গেলে ওরা কয়, তোরা ইহিনে থাকোস ক্যা?  (তোরা এখানে থাকিস কেন?) দেহোস না  (দেখিস না) আমাগোরে বালু রাইখতে অসুবিধা হচ্ছে!  তাই ভয়ে আর কিছু কই না। একই কথা জানান পানিবন্দি রবীন্দ্রনাথ, জুড়ান, সালাম, শহিদুলরা।
এদিকে বালির পানিতে ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লকে অনেক স্থানে ধসে গেছে। এতে করে আসন্ন বর্ষায় ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে এলাকাবাসি মনে করছেন।
এ বিষয়ে আওয়াল মেম্বর মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে মুঠোফোনে জানান, “আমি ইজারাদার। ব্যবসা করতে গেলে এরকম কিছু হয়েই থাকে। তাছাড়া সেচ দিয়ে ওদের বাড়ির পানি বের করার ব্যবস্থা করেছি।” ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বাড়ি ঘরের কারণে তারই অনেক বালি নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি জানান।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, ‘নির্দেশের পরেও যদি আইন না মেনে বালি উঠায় তাহলে তাদের ইজারা বাতিল করা হবে।’
Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET