খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের আলোচিত আনোয়ারা মৎস্য আড়ত ও হাসেম আলী পাইকারি কাঁচা বাজারসহ আশপাশের বেশ কিছু বসত বাড়িতে প্রবেশের রাস্তার জায়গা ঘিরে দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, খুলনার (পাউবো) কর্তৃপক্ষ। সীমানা পিলার ও জিআই তারের নেট দিয়ে ঘেরাবেড়া দেয়ায় আড়ত দু’টির অন্তত ৩ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা সাধারণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ আগে ধরে ডুমুরিয়া সদর ইউপি চেয়াম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু পাউবোর জমি ডি-রিকুইজেশন করে প্রতিষ্ঠা করেন আনোয়ারা মৎস্য আড়ত ও আলহাজ্ব হাসেম আলী পাইকারী কাঁচা বাজার। আড়ৎ দু’টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাছ ও শাক সবজি চাষী ও সাধারণ ভোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য বেচা-কেনা করে আসছে। এরই মধ্যে এলাকার একটি স্বার্থন্নেষী মহল উঠে পড়ে লেগেছে আড়ত দুটি ধ্বংস করার। এক পর্যায়ে ওই মহলটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে ইন্ধন যুগিয়ে আড়তের ভিতরে থাকা ৩.১৯ হেক্টর জমি তাদের দাবি করে আড়ত দু’টো উচ্ছেদের জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। প্রায় ২ বছর ধরে পাউবো কর্তৃপক্ষ আড়ত দু’টি উচ্ছেদের জন্যে দফায় দফায় অভিযান পরিচালনা করে। এক পর্যায়ে চলতি বছরের জানুয়ারি ও এপ্রিল মাসে প্রশাসনের উদ্যোগে বুলড্রেজার দিয়ে আড়তের স্থাপনা সমূহ ভেঙ্গে উচ্ছেদ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় পাউবোর দাবীকৃত ওই জায়গা জুড়ে সিমানা পিলার ও মজবুত জিআই নেট দিয়ে ঘেরাবেড়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এতে আড়ত দু’টিতে প্রবেশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় সেখানে অবস্হিত প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে আড়তের ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন, গাজী ইসহাকসহ আরো কয়েক জন ব্যবসায়ী ও ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন আড়তে চলাচলকারি ব্যবসায়ী ও প্রায় ৫ হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। তারা বলেন, সরকারি জায়গা দিয়ে সাধারন মানুষের চলাচলের জন্যে পথ বন্ধ করে দেয়া অমানবিক।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসনাতুজ্জামান বলেন,সরকারের প্রায় ৩শ কোটি টাকা মূল্যের ৬.১৯ হেক্টর সম্পত্তি দখলমুক্ত করা হল। তবে এই জায়গা অবমুক্ত করতে প্রায় ২বছর ধরে আমাদের প্রচেষ্টা চলে। বিভিন্ন সময়ে হামলার শিকারও হতে হয়েছে। সর্বশেষ আমরা শক্ত লোহার ঘেরাবেড়ার মাধ্যমে পুরোটা এরিয়া সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছি। আড়তের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু বলেন, আড়তের জায়গা উচ্ছেদের নামে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। আমার প্রতি প্রতিহিংসা পরায়ন হতে একটি স্বার্থন্নেষী মহলের প্ররোচনায় পাউবো এমন কঠিন অবিচার করছে আমার উপর। কিন্তু এর জন্য শুধু আমার একার ক্ষতি হয়নি। ক্ষতি হয়েছে খেটে খাওয়া মানুষের,যারা এখানে প্রতিদিন কুলির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো।ক্ষতিগ্রস্হ হচ্ছে সবজি চাষী কৃষক ও মাছ চাষীরা। তিনি বলেন, এই আড়তে প্রায় এক হাজার লোকের নিরাপদ রুটিরুজি ছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে তাদের মুখের আহার কেড়ে নেয়া হলো। তিনি বলেন, ডুমুরিয়ায় উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক জমি আছে, যা অবৈধ ভাবে দখলদাররা দখল করে সেখানে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে বহাল তবিয়তে রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের সে দিকে নজর নেই। অথচ যেখানে হাজার হাজার মানুষের জীবন জীবিকা চলে সেখানে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হল।
Please follow and like us:









