চলনবিল অধ্যুষিত শস্য ভান্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার হাটবাজার গুলোতে সবধরনের সবজি সহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি সরকারি ভাবে সারাদেশে খুচরা পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬ টি পন্যের মুল্য নির্ধারিত বেধে দেয়া দামের বেশি দামে উক্ত পন্য গুলো বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। তাড়াশ সদর বাজারে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, অথচ সরকারি রেট ৬৫ টাকা কেজি। আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা কেজি, অথচ সরকারি রেট ৩৫ টাকা কেজি। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, অথচ সরকারি রেট ১৩০ টাকা। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা, অথচ সরকারি রেট হালি ৪৮ টাকা। সোয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা লিটার, অথচ সরকারি রেট ১৬৯ টাকা লিটার। বি আর সি চলতি মাসের জন্য ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার ১২৮৪ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। শুধু তাই নয় অধিকাংশ দোকানে মুল্য তালিকা টানানো নেই। এদিকে বেগুন, শশা, পটল, ঢ়েড়স, মিষ্টি কুমড়া, নাজিনা ডাটা সহ সবরকম সবজির দাম আকাশ ছোয়া যা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। অপরদিকে কাঁচা বাজারের পাশাপাশি মাছ মাংস দুধ বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সবধরনের মাছের দাম নজির বিহীন বেশি। তবে ক্রেতা সাধারনের অভিযোগ সেই রমজানে একবার বাজার মনিটরিং করে গেছে আর কোন খবর নাই, তাদের দাবি নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
সবকিছুর দাম উর্দ্ধগতির জন্য মধ্যেবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের বেঁচে থাকায় দায় হয়ে পড়েছে। বাজার করতে আসা আঃ খালেক ও আবির নামের ব্যক্তিরা বলেন, মাছের বাজারে সবজির বাজারে আগুন একই জিনিস এই দোকানে এক দাম ঐ দোকানে আরেক দাম মনে হয় মগের মুল্লুক। তাড়াশ বাজারের এক ব্যবসায়ীরা জানান, এখনো পাইকারি বাজারে সরকারের বেধে দেয়া দামের বেশি দাম দিয়ে মাল কিনতে হচ্ছে, যার কারণে আমরা সরকারি নির্ধারিত মুল্যে মাল বিক্রি করতে পারছি না। মোকামে দাম কমলে আমরা অবশ্যই কম দামে মাল বিক্রি করবো। অবশ্য মাল কেনার রশিদ দেখতে চাইলে, দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আরেক কাঁচাসবজি ব্যবসায়ী বলেন বৃষ্টি হয়েছে কৃষক নতুন নতুন সবজির চাষ শুরু করেছে অনেকে শীতের আগাম সবজি রোপণ করেছে যা অল্প দিনের মধ্যে উত্তোলন শুরু হবে, নতুন সবজি বাজারে আসলে তখন দাম কমে আসবে। কৃষিবিদ সোলাইমান হোসেন বলেন, যে কোন ভোগ্যপন্য যখন উৎপাদন বা আমদানির চেয়ে চাহিদা বেশি হয় তখন তার দাম বেড়ে যায়, এক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে উৎপাদনমুখি হতে হবে তাহলে স্বাস্থ্য পুষ্টি ও আর্থিক ভাবে পরিপূর্ণ হতে পারবো। বাজার মনিটরিং বিষয়ে তাড়াশ সহকারী কমিশনার ভুমি মোঃ খালিদ হাসান মুঠো ফোনে জানান, বাজার মনিটরিং আমাদের চলমান বিষয়, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে জনদুর্ভোগ কৃত্রিম সিন্ডিকেট সৃষ্টিকারি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। খুব শিঘ্র তাড়াশ উপজেলার হাটবাজার গুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।









