মাহবুবুল আলম,শাহজাদপুর(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি:- সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের প্রাচীন হাট জামিরতা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না থাকায় জনদূর্ভোগে পরিণিত হয়েছে। অবজ্ঞা অবহেলায় আর সংস্কারের অভাবে নষ্ট হতে চলেছে হাটের চারপাশের পরিবেশ । সরে জমিনে ঘুরে দেখা যায়, জামিরতা হাটের সামনের প্রধান সড়কটি চলাচল অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টি হলেই কৃত্রিম বন্যা আর কাদায় ভরপুর হয়ে যায়। ফলে যানবহনতো দুরের কথা সাধারণ মানুষকে পায়ে হেটে চলা কঠিন হয়ে পরে। পূর্ব শাহজাদপুরের কয়েকটি ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র এই জামিরতাকে ঘিরেই ওই অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। ফলে জামিরতা হাটের এই প্রধান সড়ক দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ স্কুল কলেজ ছাড়াও উপজেলা শহরে যাতায়াত করে।
এখানে রয়েছে একটি ডিগ্রী কলেজ, একটি হাইস্কুল ও গার্লস হাইস্কুল, একটি ব্যাংক, একটি প্রাইমারী স্কুল ও ২টি কিন্ডারগার্টেন, এছাড়াও বেশ কয়েকটি বেসরকারি এন,জিও অফিসও রয়েছে। শাহজাদপুরের বৃহত্তম গরুর হাটও এই জামিরতা হাটে বসে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে জামিরতা হাটে পানি নিষ্কাষনের কোন ব্যবস্থা না তাকায় প্রধান সড়কটিতে পুরো বর্ষা মৌসুম পানি ও কাদাযুক্ত থাকে। এছাড়াও গরুর হাট ও মাছের হাট দীর্ঘদিন ধরে নোংরা আবর্জনায় ভরপুর হয়ে থাকলেও যেন কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই হাটের প্রতিটি অলি গলিতে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়। ফলে হাটে মালামাল ক্রয় ও বিক্রয় করতে আসা মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতি সপ্তাহের শনিবার জামিরতা হাটে আশে পাশের ১০ গ্রাম ছাড়াও বহিরাগত অনেক ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটলেও হাটের অপরিকল্পিত দোকানপাট গড়ে উঠার কারণে মানুষের তিল ধারনের জায়গা থাকেনা।
বিশেষ করে গরুর হাটের অবস্থা আরও নাজুক। মাছপট্টি, কাঠপট্টি,তরকারি পট্টি,চাউলপট্টিসহ বিভিন্ন পট্টিতে দোকানপাট করতে হচ্ছে সংকীর্ণ জায়গায় ফলে কেনাকাটা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে পোরজনা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল জানান, এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এই হাটটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম অবহেলিত এর সংস্কার প্রয়োজন। এজন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দরকার। তবে তিনি এর সামান্যতম সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছেন সাধ্যানুসারে। যমুনা তীরবর্তী এই হাটটি অবহেলিত থাকলেও আসলে কারোই কোন মাথাব্যথা নেই। এজন্য হাটের বেশ কিছু স্থানে সংস্কার ও বৃষ্টির জমাকৃত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলার প্রাচীন এই হাটটিকে সংস্কার করা হলে নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে পাবে ক্রেতা-বিক্রেতারা।









