১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • মানবিক
  • পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী এতিম মেরিনার বাঁশের টঙের নিচে বসবাস : জমিসহ একটি ঘরের বড়ই অভাব




পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী এতিম মেরিনার বাঁশের টঙের নিচে বসবাস : জমিসহ একটি ঘরের বড়ই অভাব

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা করেসপন্ডেন্ট।

আপডেট টাইম : ফেব্রুয়ারি ১৩ ২০২১, ১৩:৫৩ | 937 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের আন্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা মা-বাবাসহ দেখ-ভাল করার মত পারিবারিক কোন সর্জ্জন না থাকায় জন্ম প্রতিবন্ধী এতিম মেরিনা খাতুন (২৮) শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে বাঁশের টঙের নিচে জীবন যাপন করছে।
প্রতিবন্ধী মেরিনা হাঁটতে-চলতে পারে না। পারেনা স্পষ্ট কথা বলতে। শরীরকে কাজে লাগিয়ে কোন রকমে মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে সামনে এগুতে পারে। হাত-পা সড়– প্রকৃতির। একদিকে বসে থাকতেও নিদারুন অমানবিক কষ্ট। আবার চলতে গিয়েও বড়ই কষ্ট। মুহুর্ত মুহুর্তেই শুধু কষ্ট আর কষ্ট। যেন নিস্তার নেই কষ্ট আদৌ লাঘব হবে কি-না? বিগত জন্মের পর থেকেই তার এমন অমানবিক জীবন যাপন। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তার ভীষন কষ্ট। এসময় পড়নের কাপড়েই প্রকৃতির কাজ সাড়তে হয়। তার দুঃখে ব্যতিত হয়ে উৎসুক মানুষজন এক নজর দেখতে গেলে মেরিনা তাদের দিকে শুধু ফ্যাল-ফ্যাল করে তাঁকিয়ে থাকে। অপরের সাহায্য ছাড়া তাঁর জীবন যাত্রা যেন দুঃসহ হয়ে উঠেছে। মেরিনার সবচেয়ে বড় সমস্যা একটি আবাসনের। মাথা গোঁজার নূন্যতম ঠাঁই না থাকায় শীতববস্ত্র বিহীন যবুথবু তীব্র শীতে কোন রকমে এভাবেই সে বছরের পর বছর বুকভরা কষ্টের আবর্তে আষ্টে-পৃষ্টে অমানবিক জীবন যাপন করছেন।
সরেজিমন গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এতিম মেরিনা খাতুন ওই গ্রামের মৃত সাইদুল ইসলামের মেয়ে। জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে সে একেবারে পঙ্গু। মেরিনা জন্মের পরপরই তার মা গুরুতর শারীরিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মেরিনার মা ছালেমার অসুস্থ জনিত কারণে বাবা সাইদুল দ্বিতীয় বিয়ে করে বসেন। তখন থেকে মেরিনার মা স্বামীগৃহ ছেড়ে বাবার বাড়ীতে বসবাস করতে থাকেন।
এদিকে; মেরিনার মায়ের কোল জুড়ে স্বাভাবিক ও সবল সুস্থ আরো এক বোনের জন্ম হয়। জন্মের ১৬ বছরের ব্যবধানে অসুস্থ মায়ের মৃত্যৃ ঘটে। মায়ের মত না হলেও মেরিনার দেখ-ভাল করতে থাকেন তার বাবা ও দাদীমা। এর পর-পরই প্রথমতঃ দাদী এবং পরবর্তীতে বাবার মৃত্যু ঘটে। এরই এক পর্যায়ে নানার বাড়ীতে থাকা অনুজ ছোট বোন সোনালী আকতার বিয়ে হলে সে স্বামীর ঘরে চলে যায়। মেরিনার পরিবারে সৎ মা এবং তার গর্ভের দুই মেয়ে, এক ছেলে ছাড়া আপন বলতে আর কেউ না থাকায় দেখ-ভালের অভাবে তার জীবন বিপন্ন হয়ে উঠে। বাবা-মা ও দাদীর মৃত্যুতে তার দেখ-ভালে কেউ না থাকায় একদিন মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে সে অতিকষ্টে নানার বাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। চলার পথে মেরিনার শরীর কাহিল-দুর্বল হওয়ায় মাঝপথে আটকা পড়ে। এ খবর পেয়ে তার খালা ছালেহা বেগম ওইস্থান থেকে কোলে করে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। কিন্তু দরিদ্র অসুস্থ খালা আম্মার সচ্ছলতাসহ পারিবারিক অবস্থান তেমন না থাকায় মেরিনার অবস্থা আরো চরমে উঠে। সেখানে ছোট্ট পরিসরের জির্ণশীর্ণ ঘরে শোবারমত তেমন কোন চৌকির সংস্থান ছিল না। বাঁশের টঙের উপরে জ্বালানী-খড়ি রেখে মেরিনা নিয়মিত ভাবে ওই টঙের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছে। এমন অসায়ত্ব দূরসহ স্বাভাবিক জীবন যাপনে সরকারী-বেসরকারী সংস্থা সমূহের পৃষ্টপোষকতায় স্থায়ী আশ্রয়নে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এতিম মেরিনা তার নিজের মত করে নূন্যতম মানবিক সুবিধাদি নিয়ে বেঁচে থাকতে বাসযোগ্য এক খন্ড জমিসহ ঘর পেতে স্থানীয় সাংসদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ইউএনও, ব্যবসায়ী এবং সমাজের দয়ালু-দানশীল ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সর্বোপরি মানবতার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET