আর কে আকাশ,পাবনা থেকে: পদ্মা নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনার সুজানগরে অসময়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে নদীর পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বেশ কিছু কাঁচা, পাকা রাস্তাঘাট এবং ফসলী জমি।সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপ জেলার চরভবানী পুর, চরসুজানগর,চরমানিকদীর, চরবিশ্বনাথপুর, লক্ষীপুর, গোপালপুর,নিশ্চিন্তপুর, সাতবাড়ীয়া, নারুহাটি, ফকিতপুর, তারাবাড়ীয়া নতুনপাড়া, জামাইপাড়া, গুপিনপুর মাছপাড়া, রাইপুর ও মালিফা, ইন্দ্রোজিতপুর, কামারহাট, নওগ্রাম, উদয়পুর, মহনপুর, মহব্বতপুর, হাসাম পুর, বরকাপুর, হুগলাডাঙ্গী, শ্রীপুর এবং চর খলিল পুরসহ প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে ওই সব গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ার ম্যান শামছুল আলম এবং মশিউর রহমান খান জানান। উপজেলার চরবিশ্বনাথপুর গ্রামের জাহেদ আলী জানান, বন্যায় তার চারটি বসতঘরই ডুবে গেছে। সে ঘরের মধ্যে মাচান তৈরী করে পরিবার পরি জন নিয়ে অতি কষ্টে বসবাস করছেন। বন্যা কব লিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী চরমানিকদীর গ্রামের ইউনুছ আলী জানান, বন্যায় তার বাড়ি-ঘরের পাশাপাশি একমাত্র টিউবওয়েলও ডুবে গেছে।এতে সে অন্যের বাড়ি থেকে পানি টেনে এনে খাচ্ছেন। স্থানীয় ইউপি মেম্বার মানিক হোসেন জানান,বন্যায় বাড়ি-ঘরের পাশাপশি এলাকার কাঁচা-পাকা রাস্তা ডুবে গেছে। এতে বানভাসি মানুষ পানিভেঙে দৈনন্দিন কাজ-কর্ম করছেন। বন্যাকবলিতএলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গৃহপালিত পশু নিয়ে। গৃহপালিত পশু রাখার জায়গা সংকট সহ তীব্র গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বন্যায় ওই সকল এলাকার শত শত একর আমন ধান, মাশকালাই এবং সবজি ডুবে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে বন্যাকবলিত গোপালপুর গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক আজাহার আলী ও খলিলুর রহমান জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ময়নুল হক সরকার জানান, বন্যায় ৮০হেক্টর আমন,২৭০হেক্টর মাশকালাই এবং ৩০হেক্টর সবজি ডুবে গেছে। এতে কৃষকের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিৎ দেবনাথ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে এবং আরো ত্রাণসামগ্রী চেয়ে সংমিশ্লষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।









