১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শিরোনামঃ-
  • হোম
  • নাগরিক দূর্ভোগ
  • বরগুনায় জীবনের ঝুকি নিয়ে উঠতে হয় খেয়া পারাপারে অথচ অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে যাত্রীদের থেকে




বরগুনায় জীবনের ঝুকি নিয়ে উঠতে হয় খেয়া পারাপারে অথচ অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে যাত্রীদের থেকে

Khorshed Alam Chowdhury

আপডেট টাইম : অক্টোবর ৩১ ২০১৯, ১৪:১১ | 864 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

মো.মিজানুর রহমান নাদিম,বরগুনা প্রতিনিধিঃ
বরগুনায় নদী পথে ১৮টি স্থানে খেয়া পারাপারে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ টাকা হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে কিন্তু নেই কোন ওঠানামার ব্যবস্থা। আতঙ্কে যাত্রীরা,মরণফাঁদ দিয়ে উঠতে হয় খেয়া পারাপারে।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী জনপ্রতি ১০ টাকা করে খেয়া ভাড়া নেয়ার কথা থাকলেও নেয়া হচ্ছে ১৫ টাকা। এসব পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পারাপার হয়ে জেলা শহরে আসে। বছরের পাঁচ মাস পরে এসব পথে খেয়া পারাপারে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে ইজারাদাররা অথচ যাত্রীদের খেয়া থেকে ওঠানামার জন্য নেই কোন জেটি বা টার্মিনাল। ইজারাদারদের দাবী জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ তাদের ভাড়া বাড়ানোর কথা বলেছে অথচ টার্মিনাল লক্কর ঝক্কর হয়ে আছে সেদিকে খেয়াল নেই।
বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক এসব খেয়াঘাটের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।তিন বছর পরপর এই ভাড়া বাড়ানোর নিয়ম থাকলেও আমরা কয়েক বছর ধরে সেটা করেনি। ভাড়া বৃদ্ধিতে আমাদের কোনো হাত নেই। বছর শুরুর ৫ মাস পরে আবার ভাড়া বাড়ানো বিষয়ে তিনি বলেন ইজারাদাররা যাত্রীপ্রতি ১৫ টাকা আদায়ের শর্তে তারা এই খেয়াঘাট ইজারা নিয়েছেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুসারে নদী পথের খেয়াঘাট গুলোতে যাত্রী বাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। সকল সরকারি নিয়ম নীতির মাধ্যমে এটা করা হয়েছে।এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি তিন বছর পরপর ভাড়া বৃদ্ধির নিয়ম আছে। এটা সেই প্রক্রিয়ার অংশ।
খোজ নিয়ে জানা গেছে ১৪২৬ বাংলা বছরে জন্য বরগুনা জেলা পরিষদ থেকে নদী পথে ১৮টি স্থানে খেয়াঘাটের ইজারার জন্য দরপত্র আহবান করা হয়।দরপত্রের শর্ত অনুসারে ১৪২৬ বাংলা বছরের জন্য প্রতিটি খেয়া ঘাটে জনপ্রতি ১০ টাকা হারে ভাড়া নেওয়া হবে এই শর্তে ইজারাদারা দরপত্র জমা দেন। সেই শর্ত অনুযায়ী ইজারাদারদের ঘাটগুলো ইজারা দেওয়া হয়।তবে ইজারাদারা বলেন যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া আদায়ের শর্তে জেলা পরিষদ থেকে আমাদের এই ঘাট গুলো ইজারা দেয়া হয়।যাত্রীপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া আদায় করলে আমাদের লোকসান হয়।তাই জেলা পরিষদ থেকে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
বরগুনা জেলা পরিষদের ইজারা শাখা সুত্রে জানা গেছে,জেলায় ছয়টি উপজেলা ১৮টি খেয়াঘাট রয়েছে। এর মধ্যে বেতাগী উপজেলা ছাড়া জেলা সদর সঙ্গে অন্য উপজেলাগুলোর নদী পথে যাতায়াতের করতে হয়। এগুলো হলো পুরাকাটা আমতলী, বড়ইতলা-বাইনচটকি
,গোলবুনিয়া-পচাকোড়ালিয়া,চালিতাতলী-বগী,আয়লা-গুলিশাখালী,লবণগোলা-বালিয়াতলী,তালতলী-বালিয়াতলী, লতাকাটা-বাইনসমথ- নকরী, নিশানবাড়িয়া- পাথরঘাটা, কালমেঘা- বান্দার গাছিয়া, কাকচিড়া-গুলিশা খালী, ফুলঝুরি -রামনা স্লুইজ, বদনী খালী- বামনা,অযোদ্বা-দক্ষিণ কালিকাবাড়ি, বেতাগির সৌজালিয়া ও বেতাগি কচুয়া খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পাঁচ টাকা ভাড়া আদায় করছেন ইজারাদারা।তিন বছর পরপর খেয়া ভাড়া বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে।বিভাগীয় কমিশনার অনুমতি নিয়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।ভাড়া বাড়ানোর কারণে সরকারি রাজস্ব হারানোর কোনো সুযোগ নেই বলেন জানান।
বরগুনা জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী হারুন অর রশিদ বলেন, ইজারাদাররা ১০টাকা হারে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়ার শর্তে ইজারাদারদের দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের থেকে ভাড়া বাড়ানো চিঠি জুন মাসে অনুমোদন হয়ে আসে। সেই কারণে ইজারাদাররা ভাড়া বাড়িয়েছে। এখন ৫টাকা হারে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে সে হারের কোন টাকা ইজারাদারদের কাছ থেকে পে অর্ডারের মাধ্যমে আদায় করা হয়নি।
সরেজমিনে বেতাগী-কচুয়া, বামনা -বদনীখালী ,নিশানবাড়িয়া-পাথরঘাটা, পুরাকাটা-আমতলী, বড়ই তলা-বাইনচকি এলাকার খেয়াঘাটের যাত্রীরা বলেন এসব ঘাটে যাত্রীপারাপারে কোনো সুবিধা নাই। ছোট খেয়ার ট্রলার, ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন যাত্রী বহন করে ঝুকি নিয়ে নদী পারাপার করে। এসবের মান উন্নতি না করেই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
ফুলঝুরি-রামনা খেয়াঘাটের যাত্রী মো. সুমন গোলদার বলেন ভাঙাচুরা কাঠের জোড়াতালি সিড়ি এবং লক্কর ঝক্কর জেটি দিয়ে খেয়ায় উঠতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।গত ১১ অক্টোবর সকালে খেয়া থেকে নামতে গিয়ে একটি বাচ্চার হাত ভেঙে গেছে। খেয়া পারাপারে যাত্রী সুবিধা না করেই,বছরের শেখ সময় ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে এটা কোন সংবিধানে আছে আমার জানা নাই।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ইজারাদার বলেন এসব ঘাটে লোকসান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।এটা তাদের ব্যবসায়ী কৌশল। আর জেলা পরিষদ কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগশাজসে ইজারাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা এই ভাড়া বাড়িয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন এই ঘাটগুলো চৈত্র-বৈশাখ মাসে ইজারা দেয়া হয়।বিভাগীয় কমিশনার কাছে ভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হয়। ভাড়া বাড়ানো অনুমতি পেতে তিন-চার মাস সময় লেগেছে।এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না ।
এ বিষয় জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন আমি এখানে নতুন আসছি।ভাড়া বাড়ানো বিষয়টি আমার জানা নেই।তবে স্বাভাবিক ভাবেই বছরের শুরুতে ভাড়া বাড়ানোর নিয়ম।মাঝ পথে ভাড়া বাড়ানো কথা না।
Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি- আলহাজ্ব আবদুল গফুর ভূঁইয়া,সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET