কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রেলমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক এমপি বলেছেন, মাদক কারবারি ও সেবনকারীরা সমাজের বিষফোড়া। তাই মাদক ও কিশোর গ্যাং বলতে কোন শব্দ আমি আর শুনতে চাই না। এগুলো নির্মুলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। মাদক ও কিশোর গ্যাং মুক্ত স্মার্ট চৌদ্দগ্রাম বির্নিমানে সকলেই স্ব স্ব অবস্থান থেকে অগ্রণী ভুমিকা পালন করে যাবেন। তিনি আরও বলেন, গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মাদকাসক্তরা আমার গাড়িতে ডিল মেরেছে, এর আগে ইউএনও অফিসে তারা সিনক্রিয়েট করেছে। তাৎক্ষণিক পুলিশ তাদের কে ধাওয়া করে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ আমি এখনো দেখলাম না। যদি না নিয়ে থাকেন তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। আমি মাঠের কর্মী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী আমার গাড়ির ডিল মারার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
কিন্তু আমি তাদের কে নিষেধ করেছি, শপথ নিয়ে এসে সবকিছু আমি দেখবো বলে তাদেরকে আস্বস্ত করে পাঠিয়ে দিয়েছি। মুজিবুল হক এমপি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন দফতরে কি কাজ করতে হবে তার তালিকা তৈরি করে আগামী একমাসের মধ্যে ইউএনও এর মাধ্যমে আমার কাছে পাঠাবেন। আপনারা নিজ শিক্ষা ও যোগ্যতা বলে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চৌদ্দগ্রামে এসেছেন, আপনারা আমাদের মেহমান। নিজের কর্মদক্ষতা দিয়ে চৌদ্দগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমানে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমি আশা করছি। মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ান এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবিএম এ বাহার, সহকারী কমিশনার ভূমি তমালিকা পাল, পৌর মেয়র জিএম মীর হোসেন মীরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রহমত উল্যাহ বাবুল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জুবায়ের আহমেদ, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওসি ত্রিনাথ সাহা, মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম লোকমান হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন, জাফর ইকবাল, ফখরুল আলম ফরহাদ, খলিলুর রহমান মজুমদার, আবু তাহের, মোঃ মোস্তফা, একে খোকন, নায়মুর রহমান মজুমদার মাসুম, মাহবুব হোসেন মজুমদার, মাহফুজ আলম, জানে আলম ভূঁইয়া, মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আবদুল জলিল রিপন প্রমুখ। সভায় বিজিবি প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল, বাল্যবিবাহ, মাদক, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪৪ কিঃমিঃ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে বিকল্প সড়ক এবং উপজেলা সদরের লাকসাম রোডের মাথা থেকে উপজেলা পরিষদের রাস্তা মাথা পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবী তুলে ধরেন বক্তারা।









