নাজিম হাসান,রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীতে শীত কালিন খেজুর গুড়ের সাথে কাপড়ের রং ও অন্যান্য উপকরণের সাথে মেশানো হচ্ছে চিনি।এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি চিনি মিশ্রিত খেজুর গুড় তৈরী করা হচ্ছে। এতে করে খেজুর গুড়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। বাজারে চিনির দামের চেয়ে খেজুর গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় অন্তত পাঁচ-সাত বছর ধরে গাছিরা এ প্রক্রিয়ায় ভেজাল খেজুর গুড় উৎপাদন ও বিক্রি করছে।ফলে জেলার পুঠিয়া,দুর্গাপুর,বাঘা,চারঘাট,বাগমারা,পবা,গোদাগাড়ী ও তানোরসহ সর্বত্র এভাবে প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি চিনি মিশ্রিত খেজুর গুড় উৎপাদন করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহীর পুঠিয়া, বাঘা, চারঘাটে সবচেয়ে বেশি খেজুর গুড় উৎপাদন হয়। এ ছাড়াও জেলার দুর্গাপুর, বাগমারা, পবা, গোদাগাড়ী ও তানোর এলাকায় গুড় উৎপাদন হয়। যা শীতকালে এ অ লের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। বাজারে যেসব খেজুর গুড় এখন পাওয়া যাচ্ছে, তার শতকরা ৯৯ ভাগই চিনি মেশানো।
গাছিরা জানান, শীত যত বেশি পড়ে, খেজুর গাছ থেকে তত বেশি রস সংগৃহীত হয়। এবার শীতের তীব্রতা শুরু থেকেই অনেক কম। ফলে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের পরিমাণও কম হচ্ছে। আবার আগের মতো ঝোঁপ-ঝাড় না থাকায় খেজুর গাছও কমেছে। পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ করা না হলেও ঝোঁপ-ঝাড়ের সঙ্গে ব্যাপক হারে খেজুর গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে আগের চেয়ে রস সংগ্রহের পরিমাণ অনেক কমেছে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাজারে গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে যোগান ঠিক রাখতে গাছিরা খেজুর রসের সঙ্গে চিনির মিশ্রণে বেশি গুড় তৈরি করছে। রাজশাহীর বাঘা গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, খেজুর রস গাছ থেকে সংগ্রহ করে এক কেজি গুড়ে পরিণত করতে যে পরিমাণ খরচ হয়, বর্তমান বাজার দামে বিক্রি করে তেমন খুব একটা লাভ হয় না। এর অন্যতম কারণ হলো জ্বালানির দামও বেড়েছে। আর এ কারণেই অধিকাংশই কৃষক রস জাল করার সময় তাতে চিনি মিশিয়ে সেগুলো খেজুর গুড়ে পরিণত করছে। দুর্গাপুরের আমগাছি গ্রামের কৃষক বুলবুল হোসেন বলেন,শতকরা এখন ৯৯ জনই খেজুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে গুড় করছে। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে। তবে তিনি আসল গুড়ই বিক্রি করছেন। আর তার গুড় বাজারে বিক্রি হচ্ছে বেশি দামেই। ফলে তিনি চিনি না মিশিয়ে আসল গুড়ই বিক্রি করছেন। পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে আশা ঢাকার পাইকারী ব্যবসায়ী মানিক হোসেন বলেন,বাজারে এখন প্রায় সব গুড়েই চিনি মেশানো থাকে। এটি ক্ষতিকারক না হলেও ভোক্তারা হচ্ছেন প্রতারিত। কারণ ভোক্তারা খেজুর গুড় মনে করেই বাজার থেকে সংগ্রহ করছেন গুড়। কিন্তু তাতে যে চিনি মেশানো থাকছে তা তারা টের পাচ্ছেন না। ফলে গুড়ের দামে চিনি কিনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা দিয়ে। এবিষয়ে রাজশাহী সিভিল সার্জন বলছেন,খেজুর গুড়ের সঙ্গে চিনি মেশালে স্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে খেজুর গুড় খেজুর গুড় হিসেবেই বাজারজাত করা উচিত। গুড়ের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে সেগুলোও গুড় হিসেবে বিক্রি করায় ভোক্তারা প্রতারিত হয়। কাজেই এ ধরনের কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের খুঁজে বের করে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। তাহলে এ অসাধু প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে।









