গাজীপুরের শ্রীপুরে এলপি গ্যাসের ট্যাংকের টুলবক্স মেরামতের সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরিত হয়ে তিন নারী দগ্ধসহ চারজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের রাজাবাড়ী বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় গুরুতর আহত নারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
আহতরা হলেন, ১.লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দইখোয়া গ্রামের সামসুল হকের স্ত্রী হালিমা আক্তার (৪০) ২. হালিমা খাতুনের পুত্রবধূ রিতা আক্তার (২০) ৩. বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার খারকুলিয়া গ্রামের এমদাদুল হকের স্ত্রী হেলেনা আক্তার (৪৫) ও ৪.মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ (৩৫)। তাঁরা সবাই রাজাবাড়ীর স্থানীয় মোহাম্মদ আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া।
স্থানীয়রা জানান, রাজাবাড়ি বাজারের উত্তর পাশের ওই স্থানে এক ব্যবসায়ীর একটি এলপি গ্যাসের ট্যাংকার রাখা ছিল। ওই গাড়ির ট্যাংকার লিকেজ হয়ে গ্যাস বের হচ্ছিল। হঠাৎ ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটলে পাশের বাড়িতে গিয়ে আঁচড়ে পড়ে। আগুন লাগার খবরে আশপাশের ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনজন নারী বাড়িতে কাজ করার সময় আগুনে দগ্ধ হয়। এ সময় এক পথচারিও আহত হয়। আশপাশের লোকজন আগুন নেভানো কাজে ব্যস্ত থাকার সময় গ্যাস বহনকারী ট্যাংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে আশপাশের বাঁশঝাড়, ঘরবাড়ি ও গাছগাছালি পুড়ে গেছে। সড়কের পাশের একটি দোকানও পুড়ে গেছে।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক আবু সাঈদ সজিব জানান, তিনজন অগ্নিদগ্ধের মধ্যে হালিমার শরীরের ৫০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাঁর অবস্থা সংকটময়। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজন নারীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহত যুবককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, গ্যাস বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আহত পরিবারের সদস্যদেও আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








