গাজীপুরের শ্রীপুরে এক পোশাক শ্রমিককে বাসা থেকে ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া এগারটার দিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মো. আলামিন(২৬) ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার বরইহাটি এলাকার মো. মমতাজ মোড়লের ছেলে। সে শ্রীপুর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকার ডার্ট কম্পোজিট কারখানার পোশাক কর্মী ছিলেন।
নিহতের চাচাতো ভাই হিরণ মিয়া জানান, আলামিন রাজেন্দ্রপুরের সাটিয়াবাড়ি এলাকায় ভাড়া থেকে ডার্ট কারখানায় চাকুরি করতো। স্থানীয় কিছু বখাটে যুবক তাকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করতো। তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নিতো। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার এক নারী সহকর্মীর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে আলামিনকে স্থানীয় সাইফুল ইসলামের বাড়িতে ডেকে নেয়া হয়। ওই সহকর্মী সাইফুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটে। পরে সেখান থেকে কতিপয় বখাটে আলামিনকে পাশের বাগানে নিয়ে মারধর করে চলে যায়। অচেতন অবস্থায় এলাকাবাসী আলামিনকে পরে থাকতে দেখে আলামিনের বোন রোজিনা খাতুনকে খবর জানায়। পরে হাসাপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রীপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, তালাকপ্রাপ্ত এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে আলামিন কয়েক মাস ধরে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন অজুহাতে আলামিন ওই নারীর ভাড়া বাসায় যেতো। পরবর্তীতে আলামিন বিবাহিত ও তার সন্তান রয়েছে জানলে ওই নারী সহকর্মী তাকে এ বাসায় আসতে বারন করেন। তারপরও আলামিন মাঝে মধ্যে ওই বাড়ি যেত এবং তাকে উত্যক্ত করতো। বিষয়টি এলাকাবাসী জানাজানি হওয়ার পর সোমবার রাতে আবারো আলামিন ওই নারীর বাসায় যায়। এসময় ওই নারী ডাকচিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী তাকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে রাজেন্দ্রপুর ক্লিনিকে ও পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।