টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী পদে চাকরি করেন সাদিয়াত হোসেন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সাদিয়াত কোনো ছুটিছাটা ছাড়া সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে মাসে ১৬ হাজার ১৩০ টাকা বেতন পান। একই পদে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি করেন মো মিজানুর রহমান একই পদ্ধতিতে নিয়োগ পেয়ে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে তিনি পান ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা। বেতন আসলে কত সে প্রশ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ৩৭ হাজার দপ্তরি কাম প্রহরীর।
গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীদের ১৬ হাজার ১৩০ টাকা বেতন দেয়া হয়। আবার লক্ষ্মীপুর, হবিগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দপ্তরিদের বেতন বাবদ ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় দপ্তরি কাম প্রহরীদের ১৬ হাজার ১৩০ টাকা বেতন দেয়া হয়। এ দুই উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানায়, আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালার আলোকে এ বেতন দেয়া হচ্ছে।
এদিকে মানিকগঞ্জ জেলায় দপ্তরিদের ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা বেতন ভাতা দেয়া হয়। এ জেলার একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, দপ্তরিদের বেতনের বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা আমরা পাইনি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি আউটসোর্সিং নীতিমালা জারি হয়েছে। কিন্তু সেখানে দপ্তরিদের পদটির বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কোনো কিছু বলা হয়নি। তাই আমরা আগের নিয়মেই বেতন-ভাতা দিচ্ছি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরি কাম প্রহরী সমিতির সভাপতি মামুন সরদার ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন হারে বেতন-ভাতা দেয়ায় দপ্তরের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। আবার কম বেতন পাওয়ায় অনেকের মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি সুরাহার দাবি জানাচ্ছি।
দৈনিক শিক্ষাডটকমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ডিসেম্বর আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালার আলোকে উন্নয়ন প্রকল্প ও স্কিমের সেবা গ্রহণ মূল্য নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ পরিপত্রে ৫ নম্বর ক্যাটাগরির হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সিকিউরিটি গার্ড বা নিরাপত্তা প্রহরীর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী এ ক্যাটাগরিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সিকিউরিটি গার্ড বা নিরাপত্তা কর্মীরা রাজধানী ঢাকার হলে ১৭ হাজার ৬১০ টাকা, সিটি কর্পোরেশন শহরে হলে ১৬ হাজার ৬২০ টাকা ও অন্যান্য এলাকায় হলে ১৬ হাজার ১৩০ টাকা বেতন পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রটি গত ১০ ফেব্রুয়ারি মাঠ পর্যায়ের সব জেলা উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ পরিপত্র পাওয়ার পর ৫ নম্বর ক্যাটাগরির হিসেবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত সিকিউরিটি গার্ড বা নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে অনেক উপজেলা শিক্ষা অফিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরীদের বেতন দিচ্ছে।
যদিও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা আউটসোর্সিংয়ের প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা-২০১৮ তে ১২টি সেবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে বলে নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু নীতিমালায় দপ্তরি কাম প্রহরী সেবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা যাবে বলে নির্ধারিত হয়নি। এ বিষয়টি উল্লেখ করে গত অক্টোবরে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দপ্তরি কাম প্রহরীদের পদ রাজস্ব খাতে সৃজনের প্রস্তাব পড়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, প্রাথমিকের দপ্তরিদের কেউ কেউ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত, আবার কেউ কেউ মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত। এ পদটিতে যেহেতু দিন হিসাব করে বেতন ভাতা নির্ধারণ করা হয় তাই তাতে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। তবে নীতিমালা নিয়ে যে কনফিউশন সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।
Please follow and like us:







