৩৪ বছর আগে নগরীর অদূরে সোনাডাঙ্গায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় টার্মিনালটি ঘিরে গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা ও অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে বাড়তি জনসংখ্যার চাপ ও ছোট-বড় পরিবহনের যত্রতত্র পার্কিংয়ে টার্মিনালটি ঘিরে বর্তমান তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর। ভুক্তভোগীদের দাবি, দুর্ভোগ কমাতে অচিরেই এটি অন্যত্র স্থানান্তর করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ যানজট আরও প্রকট হবে। অবশ্য কেডিএ কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তঃজেলা টার্মিনালটি সোনাডাঙ্গায়ই থাকবে। তাই এটির আধুনিকায়নে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তবে এখানের চাপ কমাতে ও ভবিষ্যতে চাহিদার প্রেক্ষিতে পরিবহন বাসের জন্য অন্যত্র আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণে পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২-৮৩ সালে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর সোনাডাঙ্গায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। যার নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৮৫ সালে। পরবর্তীতে ১৯৯৬-৯৭ সালে অন্য প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে টার্মিনালটির মৌলিক সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়। বিশেষ করে নির্মাণ করা হয় নতুন টার্মিনাল ভবন, টিকিট কাউন্টার, রেস্ট হাউজ, ড্রেন, ক্যান্টিন, যন্ত্রপাতি বিক্রির স্থান, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা ইত্যাদি। কিন্তু শহর সম্প্রসারিত হওয়ায় বর্তমান সোনাডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি ঘিরে গড়ে উঠেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ফরটিস এসকটর্স হার্ট ইনস্টিটিউট, গাজী মেডিকেল কলেজ এ্যান্ড হাসপাতাল, আইসিএমএবি ইউনিভার্সিটিসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা। ফলে বর্তমানে টার্মিনালটির ব্যবহারের মাত্রা ও চাপ বেড়েছে বহু গুণে। এছাড়া স্থানটিতে মিলিত হয়েছে যশোর-খুলনা, এম এ বারী সড়ক, শিববাড়ী-সোনাডাঙ্গা ও গল্লামারী- সোনাডাঙ্গা সড়কের মুখ। সঙ্গত কারণে খুলনা থেকে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মোংলা, কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, দেবহাটা রুটের সকল বাস ও ট্রাকসহ অসংখ্য রিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান টার্মিনালে যত্রতত্র পার্কিং করছে। ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যাত্রী ও নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে ।
মোটর শ্রমিক ও ভুক্তভোগীরা জানান, শহর সম্প্রসারিত হওয়ায় বর্তমানে টার্মিনালটি নগরীর ভিতরে চলে এসেছে। এছাড়া টার্মিনালটি উপর চাপ বেড়ে গেছে বহুলাংশে। ফলে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকছে, বাড়ছে জনভোগান্তি। এমতাবস্থায় কেডিএ’র উচিত দূরবর্তী অন্য কোন স্থানে টার্মিনালটি স্থানান্তরিত করা।
নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন, আবাসিক এলাকায় কোন বাস টার্মিনাল থাকতে পারে না। এটি দূরবর্তী কোন স্থানে সরিয়ে নেয়া উচিত। আবাসিক এলাকায় টার্মিনাল থাকলে শব্দ দূষণ, যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়বে। নগরবাসী প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হবে।
কেডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মোরতোজা আল মামুন এ প্রতিবেদককে বলেন, আন্তঃজেলা টার্মিনালটি সোনাডাঙ্গায় আপাতত থাকবে।তবে এটির আধুনিকায়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ডিপিপি প্রস্তুতির কাজ চলছে। তবে এখানের চাপ কমাতে ও ভবিষ্যৎ চাহিদার প্রেক্ষিতে পরিবহনের জন্য অন্যত্র আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন অরেকটি টার্মিনাল নির্মিত হলে প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন চলে আসবে। পুরনো টার্মিনালের উপর চাপ ও যানজট কমবে, মানুষ স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারবে। এতে নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘব হবে।
সূত্র : সময়ের খবর









