, , ,

শিরোনামঃ-




জয়া ও সুরলা :  আদিল মাহমুদ

নয়া আলো অনলাইন ডেস্ক।

আপডেট টাইম : জুন ০৫ ২০২০, ০১:১৮ | 1039 বার পঠিত | প্রিন্ট / ইপেপার প্রিন্ট / ইপেপার

“জয়া ও সুরলা”

সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, সুন্দর আকৃতি দিয়ে। তিনি তার খেয়ালখুশি মতোই কাউকে সুন্দর ও কাউকে অসুন্দর করেছেন। তাই বলে বিশ্বপতির দোষ দেয়া কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। কারন, যার সৃষ্টি তারই ইচ্ছা!!তবে,এই শোভন আর অশোভনকে কেন্দ্র করে এই অচলায় নিত্য ঘটে যাচ্ছে কতইনা ঘটনা! আবার সুন্দর হলেই যে তার ভাগ্যে বিড়ম্বনা আসবেনা এমনও কোন কথা থাকে না । সুন্দর হয়েও অনেককে যন্ত্রনার স্বীকার হতে হয়েছে দিনের পর দিন।তাই, শুধু সুন্দর হলেই হবে না, সাথে থাকতে হবে একটি পবিত্র ও সুন্দর মন অন্তঃকরনে।

 

শুরুতে, আজ আপনাদেরকে বলবো এমন একটি ঘটনা যেখানে রম্যের অভাবে দুটি নিষ্পাপ মেয়ে চিরতরে তাদের ধরনীর সুখ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল!

তাই মনে পড়ে প্রখ্যাত টেনিসনের কথা। তিনি বলেছিলেন, “ভালবাসা যা দেয়, তার চেয়ে বেশী কেড়ে নেয়”।

আবার মনে আসে, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা। তিনি বলেছিলেন, “ক্ষমাই যদি করতে না পারো, তবে ভালোবাসো কেন”।

শ্রদ্ধেয় পাঠক, আমার এই গল্পে প্রধান চরিত্রে থাকা “জয়া”র জীবনে তাই ঘটেছিল। মৃত্যুর আগে সে তার ভালবাসার মানুষকে ক্ষমা করে দিয়েছিল।

 

জসিম সম্ভ্রান্ত ফ্যামিলির বড় ছেলে, ছোট এক ভাই ও এক বোন। সুখী পরিবার ওদের। বাবা/মা দুই জনেই স্কুল শিক্ষক। জসিম বাংলায় আনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিবে। ছোট ভাই জেবিন এইচ.এস.সি প্রথম বর্ষে ও বোন টুকটুক দশম শ্রেণীতে পড়ে। ওরা চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া করে থাকে, ছয়তলা বিল্ডিংয়ের তিন তলা। মাসে পনের হাজার টাকা বাসা ভাড়া, গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। অন্যদিকে পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকে “জয়া”নামের একটি সুন্দরী মেয়ে, বাবা/মার একমাত্র সন্তান, বাবা ব্যবসায়ী, মা গৃহিনী। একই বিল্ডিং এ থাকার সুবাদে দুই বাসার মধ্যে বেশ সখ্যতা ছিল। “জয়া”প্রায় সময়ই জসিমদের বাসায় আসতো এবং টুকটুকের সাথে গল্প করতো। এভাবে চলতে থাকাবস্থায় পরিচয় হয় জসিমের সাথে। জসিম ভালছাত্র, সুদর্শন, অন্যদিকে জয়াও সুন্দরী এবং এইচ.এস.সি পাস করেছে। আসা যাওয়ার মধ্যে দুইজনকেই দুইজনের ভাল লাগে। কিন্তু মেয়েদের মনতো সবাই জানে। তাই, একদিন জসিম একটি লাল টকটকে গোলাপ ফুল নিয়ে এসে “জয়া”কে ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়। দুই সংসারের যেই মিল ঝামেলা তো হওয়ার কথাই নেই। তাছাড়া “জয়া”ও জসিমকে ভালোবাসতো। ফলে, অনায়াসেই “জয়া” রাজি হয়ে গেলো।

 

সারারাত জসিম পড়াশুনা করতো আর পাশের ফ্ল্যাটে “জয়া” জসিমের অপেক্ষা করতো কখন জসিম ঘুমাবে। জসিম না ঘুমালেতো তারও ঘুম আসবেনা। আবার সকালে “জয়া” জসিমকে ঘুম থেকে না উঠালে জসিমের ঘুমই ভাঙ্গবে না। মাঝে মধ্যেই কেও না থাকলে ওদের সাক্ষাৎ হতো নিবৃত্তে, কত কথাই না হতো দুজনের মধ্যে, তা না বলাই ভালো। উভয়ের ফ্যামিলিই তা জানতো তাই সুযোগও বেশী ছিল। এই ভাবে দিন পার হতে লাগলো আর “জয়া”অপেক্ষায় থাকলো কখন জসিমের পরীক্ষা শেষ হবে। দুইজন দুইজনকে এতো বেশী ভালবাসতো যে, কোন দিন “জয়া”কে না দেখলে জসিম খেতোই না, “জয়া”ও তা জানতো। তাই, ছলে বলে হলেও জয়া, খাওয়ার সময় একবার হলেও জসিমের বাসায় যেত। জয়া’র দোয়ায়, একসময় জসিমের পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলো। সে অর্থনীতিতে প্রথম ক্লাশে পাস করলো।

 

জসিমের এই রেজাল্টে জসিমের বাবা/মার চেয়ে জয়া’ই বেশী খুঁশি হলো। খুঁশিতে আত্মহারা “জয়া” সুযোগ বুঝে একদিন জসিমকে জড়িয়ে ধরলো। জসিমের মা দেখে ফেললো, কিন্তু ওনারা তো সবই জানে, চার/ছয় মাসের মধ্যেই ওদের বিয়ে হবে। কিন্তু কয়েক দিন পর হঠাৎ করে জসিম জানালো যে সে জাপানে স্কলারশিপ পেয়েছে। এই কথা শুনে জসিমের বাবা/মা খুশি হলেও জয়া’র মাথায় যেন বজ্র পড়লো! “জয়া” ভাবে ছেলে মানুষের মন, বিদেশ গিয়ে যদি জয়া’র কথা মনে না থাকে। তাই লজ্জা ভেঙ্গে নিজের মাকে বললো মা, বিদেশ যাওয়ার আগে আমাদের বিয়েটা হয়ে গেলে হয় না। মা ভাবলো, ভাল কথাইতো “জয়া” বলেছে। তাই প্রস্তাব দেয়, জসিমের বাবা/মার কাছে। জসিমের বাবা/মাও তাতে রাজি হয়। কিন্তু বাঁধ সাজে জসিম নিজে। সে বুঝাতে চায়, এখন বিয়ে হলে তার উচ্চ শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটবে।

 

“জয়া” মেয়ে মানুষ কত আর বলবে! তারপরও একদিন হাত জোর করে বলে জসিমকে, অন্তত কলমা’টা পড়ে যাও, যাতে আমি মনকে বুঝাতে পারি যে, তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু জাপানের অদৃশ্য মোহ জসিমকে অনেকটাই হয়তো পাল্টিয়ে দিয়েছে! তারপরেও জয়া’র মাঁথা ছুয়ে শপথ করে, ০৩ (তিন) বছর পর এসেই জয়া’কে বিয়ে করবে, আর ফোনে যোগাযোগ তো থাকবেই। কিন্তু নিরুপায় জয়া, কিছুই করার ছিলনা তার। অর্ধপাগলের মতো বলে, প্রতি সপ্তাহে একবার ফোন দিবে, পারলে বেশি দিবে। আর একটা কথা মনে রেখো, তোমার অপেক্ষায়ই আমি থাকবো। তাই তাড়াতাড়ি চলে এসো, এসে দেখবে, তোমার “জয়া” “বউ”সেজে তোমার জন্য বসে আছে।

 

একদিন রাত্রিতে বিদায়ের পালা, “জয়া” অনেক কান্নাকাটি করলো, তার মনে ভয় জাগতে লাগলো, যদি বা জসিম জাপান গিয়ে কোন মেয়ের পাল্লায় পড়ে, তবে তার কি হবে! নিজেই ভেবে নেয় ভরসা একটা আছে।

 

নুতন দেশে জসিমের আগমন, সে দেশের চাকচিক্য জসিমকে বিমোহিত করে ফেলে। মাঝে মধ্যে জয়া’র কথা ভাবে, মা/বাবা, ভাই, বোন সবার কথা তার মনে পড়ে। প্রথম তিনমাস প্রায় সপ্তাহেই জসিম বাসায় ফোন দিতো, জয়া’র খবর নিতো, মাঝে মধ্যে জয়া’র সাথে কথা বলতো। এতে জয়া’র বিশ্বাস বেড়ে যেতো, ভাবে তার জসিম তারই আছে। একবার জসিমের বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দিতে টাকার দরকার পড়েছিল। বাবা/মা স্কুল শিক্ষক ছিলেন তাই বাংলাদেশী প্রায় চার লক্ষ টাকা ওদের জন্য কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু ভাবুনী বউ “জয়া” টাকার জন্য পাগল হয়ে গেলো। তাই দুই প্রিয় বান্ধবীর কাছ থেকে ০৩ (তিন) লক্ষ টাকা ব্যবস্থা করলো। বাকী এক লক্ষ টাকা জসিমের বাবা/মা দিলো। টাকা দিতে পেরে জয়া’র আনন্দ আর ধরে না, বান্ধবীদের কে বলতো, এই কয়টা টাকা তেমন আর কি, জসিম আসলেই দিয়ে দিবো। কিন্তু এই নিষ্পাপ “জয়া” কি কখনো ভেবেছিল, না আপনারাই ভেবে ছিলেন যে এই জসিমের সাথে জয়া’র আর কোনদিনও দেখা হবে না?

 

এদিকে জসিম পড়ালেখা করতে লাগলো। একদিন রাতে অনুমান এগারটার দিকে জসিমের ফোনে একটি ফোন আসলো। জসিম বললো আপনি কে বলছেন? মধুর কন্ঠে ভেসে আসলো আমি ‘সুরলা’ বলছি, বোধয় রং নাম্বার, আমি আমার বন্ধবী সাথীকে ফোন দিয়ে ছিলাম। জসিম বললো, ঠিক আছে তাতে কি হয়েছে আমি বাংলাদেশী। ঐ পাশ থেকে ‘সুরলা’ বললো আমিও, তবে আমার বাড়ী কলকাতা। ছেলেদের মন বলে কথা। সুরলা’র মধুর কন্ঠ জসিমের ভাল লাগলো। জাপানের মতো দেশে একা একা থাকে, একটি বান্ধবী পেলে ক্ষতি কি? তাই নিজ থেকেই জসিম মাঝে মধ্যে সুরলা’কে ফোন দিতে শুরু করে। অদেখা ভালবাসাও অনেক সয়ম ভালবাসা হয় তা সুরলা’র কাছ থেকে বুঝা গেলো। জসিমের প্রায়শই আবেগ প্রবণ কথা সুরলা’কে জসিমের প্রতি দূর্বল করতে থাকে, আর জসিমও আস্তে আস্তে জয়া’র কাছ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। মেয়েরা সহজ সরল হলে কি হবে, ওরা কিন্তু ঠিকই ওদের প্রেমিকের হাব ভাব বুঝে নিতে পারে। তাই জসিমের গত ছয় মাসের আচরণ জয়া’কে ভাবিয়ে তোলে। এখন আর জসিম কোন ফোন দেয় না। ফোন দিলেও বাবা/মার সাথে কথা বলে, কাজ আছে বলে শেষ করে দেয়। সবই “জয়া”বুঝতে পারে, তাই জসিমের বাবা/মাকে বাধ্য হয়ে বলে, ও ফোন দিলে আমাকে ডেকে দিয়েন। কিন্তু দিনের পর দিন পরিস্থিতি বদলাতে লাগলো, আর জয়াও অসুস্থ্য হতে থাকলো।

 

এদিকে আবার সুরলার প্রেমে নিভে গেল জয়ার ভালোবাসা । বেচারী সুরলাও জানত না হতভাগিনী জয়া’র কথা। মানুষের মন বলে কথা, যতই দূর্বলতা সুরলার জসিমের প্রতি থাকুক না কেন, সুরলা জানতো জসিম কোন দিনও তাকে বিয়ে করবেনা। তাই সে তার সমস্ত ভালবাসাকে ফোনের মধ্যেই রাখতে চেয়েছিল। জসিম কথা বলা বন্ধ করে দিবে এই ভেবে সে তার গোপন কথা জসিমের কাছে গোপন রেখেছিল। কথায় আছে Mind is changeable( মন পরিবর্তনশীল ), আবার Out of sight out of mind(চোখের আড়াল হলে মনের আড়লও হতে হয়। আর সেই অবাক করা ঘটনাই ঘটলো জসিমের জীবনে। ভুলে গেল সে দেশে ফেলে আসা সব স্মৃতিকে, “জয়া” নামে যে মেয়েটি পাগলের মতো প্রহর গুণছিল-সেও মন থেকে মুছে গেলো, তাই এখন নতুনের পালা।

 

একদিন ফোনে ‘সুরলা’কে বললো, এতোদিনের সম্পর্ক অথচ তুমি কোন দিনও তোমার ছবি দিলেনা, আমার সাথে দেখা করলে না, এটা কি মেনে নেয়া যায়! সুরলা বললো, ভালবাসতে হলে দেখা করতে হবে এমন তো কোন কথা নেই, না দেখেও তো ভালবাসা যায়। কিন্তু কিছুতেই জসিমকে বুঝাতে পারলো না ‘সুরলা’ ,বাধ্য করালো ‘সুরলা’কে তার সাথে সাক্ষাৎ করাতে। কিন্তু বিনয়ী সুন্দরী সুরলা জানতো, তাকে দেখার পড়ে জসিমের ভালবাসা হয়তো আর থাকবে না! কারণ, প্রকৃত ভালবাসা এখন আর মানুষের মাঝে থাকেনা। ফলে, একদিন চূড়ান্ত হলো দু’জনের দেখা হবে কোন এক শপিংমলে। সহজ সরল ‘সুরলা’ প্রতিজ্ঞা করায় জসিমকে এই বলে যে, কথা দিতে হবে, সুরলাকে দেখে জসিম তার ভালবাসাকে অবহেলা করতে পারবে না। কথামতো জসিম প্রতিজ্ঞা করলো এবং বলে ভালবাসা ভালবাসাই, তুমি যে রকমই দেখতে হওনা কেন আমি তোমাকেই ভালোবাসি। কিছুটা বিশ্বাস করে ‘ললনা’। সুতরাং, একটি শপিংমলে সকাল ১০.০০ টায় তাদের দেখা হওয়ার সময় নির্ধারিত হলো। কথা থাকে ‘সুরলা’ তার হাতে একটি ফুলের তোড়া রাখবে এবং একটি নীল ছেলোয়ার কামিজ পড়ে থাকবে।

 

যথারীতি, ঠিক সময় সুরলা নীল ড্রেস পড়ে ও হাতে গোলাপ ফুলের তোড়া নিয়ে এসে শপিংমলের সিঁড়ির পাশে দাঁড়িয়ে জসিমের অপেক্ষা করতে থাকলো। সুরলাও বোকা, সেতো আর জসিমকে চিনে না। এক ঘন্টা, দুই ঘন্টা করতে করতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো, জসিমকে ‘সুরলা’ দেখতেই পেল না! এভাবে শপিংমল বন্ধ হওয়া পর্যন্ত ‘সুরলা’ ফুল হাতে জসিমের অপেক্ষায় থাকল। একসময় অসুস্থ হয়ে পড়লে লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল। সুরলা কোন দিনও আর জসিমকে দেখতে পেল না। আগে যাও একটুও ফোনে কথা হতো তাও চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। একেই বলে নিয়তি, স্রষ্টার সৃষ্টি। জসিমের ফোন চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গেল।

 

প্রিয় পাঠক সুরলার ঘটনা আমি এখানে ব্যাখ্যা করবো না, জসিমের এখানকার প্রতারনাও আনবো না। কারন, ‘সুরলা’ “জয়া”র মতোই একটি নিষ্পাপ সুন্দরী মেয়ে ছিল তবে? সুরলারও —-!

 

এদিকে জসিমের প্রতারনা দেশের কারোর কাছেই আর গোপন রহিল না। “জয়া”র বাবা/মা, জসিমের বাবা/মা এমনকি ছোট টুকটুকও জয়ার জন্য কান্না কাটি করতে থাকলো কিন্তু বাবা, মা বলে কথা। মেয়ে বড় হয়েছে বিয়েতো দিতেই হবে। তাই “জয়া”র আপত্তি সত্ত্বেও “জয়া”র বিয়ের জন্য ইঞ্জিনিয়ার, দেখতে সুন্দর পাত্র ঠিক করলো। “জয়া”র কান্না আর থামছে না, তবে “জয়া”র সিদ্ধান্ত আগেই নেয়া ছিল। গোপনে, সুন্দর করে একটি চিঠি জসিমকে লিখলো এবং টুকটুকের কাছে দিয়ে বললো, জসিম যদি কোনদিন ফিরে আসে তবে তাকে যেনো চিঠিটা দেয়। ছোট্ট মানুষ টুকটুক চিঠির মর্ম বুঝতে পারল না। তাই, চিঠিটা নিজের কাছে সংগোপনে রেখে দিল। ঐদিকে ‘সুরলা’কে হারানোর বেদনা জসিমকে পূর্বের স্মৃতিতে ফিরিয়ে আনলো। তার মনে পড়তে লাগলো দেশে রেখে আসা সেই “জয়া”র কথা যার সাথে দুই বৎসর কোন যোগযোগ ছিলোনা। তাই সিদ্ধান্ত নেয়, দেশে ফিরে আসবে এবং “জয়া”র কাছে মাফ চেয়ে তাকে বিয়ে করবে। কিন্তু মনে রাখা উচিত, Time and tide waits for none(সময় এবং স্রোত কাহারো জন্য অপেক্ষা করে না!

 

আজ সন্ধ্যায় “জয়া”র বিয়ে, পুরো বিল্ডিং সাজানো হলো, সবাইকে দাওয়াত করা হলো। কিন্তু পাত্রীকে তো সাজাতে হবে! পাত্রী কোথায়!পাত্রীর রুম বন্ধ, রুম আর খোলা যাচ্ছে না। বাবা/মা সবাই মিলে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকলো। দেখলো হতভাগিনী “জয়া”সিলিং ফ্যানে গলায় দঁড়ি দিয়ে ঝুলে আছে। “জয়া”কে নিয়ে সারা বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে গেলো। তখন টুকটুক দৌঁড়ে গিয়ে চিঠিটা আনলো, সবাই চিঠিটা পড়তে লাগলো আর কান্না করতে থাকলো। চিঠিতে লিখা ছিল,

 

আমি তোমায় মুক্তি দিবো,মাফ করিবো,

প্রেমকে ক্ষমা করিয়া, শিখাইতে হয়।

কবরে আসিয়াই, ক্ষমা নিতে হইবো,

যাকে বিয়ে করিবা, যেন সুন্দরী হয়।

আমি ক্ষমা করার, অপেক্ষায় থাকিবো,

ঘুরে যেন আর, পথ চাহিতে না হয়।

আমায় কষ্ট দিয়াছ, অন্যকে দিও না,

তোমায় অন্ধের মতো, ভালোবাসিতাম।

মেয়েরা অসহায়া, প্রতারণা বুঝে না,

সত্যি ভুলিয়া যাইবে, নাহি জানিতাম!

তাই মিনতি, আর ছলনা করিও না,

মেয়ে না হইলে, ফিরাইয়া আনিতাম।

তুমি ছিলে জান-প্রাণ, আমি যে কল্পনা,

যদি হে পারিতাম, জাপান যাইতাম”!!

 

ইতি- তোমার আদরের “বউ””জয়া”।

 

লেখক: মোঃ আদিল মাহমুদ ।

Please follow and like us:

সর্বশেষ খবর

এ বিভাগের আরও খবর

প্রধান সম্পাদক- খোরশেদ আলম চৌধুরী, সম্পাদক- আশরাফুল ইসলাম জয়,  উপদেষ্টা সম্পাদক- নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

 

ঢাকা অফিস : রোড # ১৩, নিকুঞ্জ - ২, খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯,

সম্পাদক - ০১৫২১৩৬৯৭২৭,০১৬০১৯২০৭১৩

Email-dailynayaalo@gmail.com নিউজ রুম।

Email-Cvnayaalo@gmail.com সিভি জমা।

প্রধান সম্পাদক কর্তৃক  প্রচারিত ও প্রকাশিত।

 

সাইট উন্নয়নেঃ ICTSYLHET