ধর্ষণের অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেছে ফকিরহাট থানা পুলিশ। নির্যাতিত ২১ বছর বয়সী এক তরুনী বাদী হয়ে ফকিরহাট থানায় দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে রবিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফকিরহাটের জাড়িয়া এলাকা থেকে ঐ নেতাকে আটক করা হয়। আটককৃত শাকিল সরদার ফেরদৌস উপজেলার জাড়িয়া-চৌমাথা এলাকার মোস্তাব সরদারের ছেলে। সে ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। মামলার অপর আসামী মেহেদী হাসান একই এলাকার শেখ মাসুমুল হকের ছেলে পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণে জানাগেছে, শনিবার বিকেলে দুই বান্ধবী মিলে তাদের চাচাতো ভাই ও বন্ধুর সাথে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, খানজাহান আলী মাজার ঘুরে খুলনার দিকে রওনা দেয়। পরে ফকিরহাটের জাড়িয়া চৌমাথা এলাকায় স্পিড ব্রেকার অতিক্রম করার সময় শাকিল সরদার এক তরুনীর ওড়না টেনে ধরে। এতে ওই তরুনী ও তার বন্ধু রাস্তার উপর পড়ে যায়। বিষয়টি দেখে অপর মোটরসাইকেলের চালক ও তরুনী মোটরসাইকেল থেকে নেমে আসে।
এক পর্যায়ে শাকিল ও মেহেদী তরুনীদেরকে মারপিট করে একজনকে চায়ের দোকানের বেঞ্চির উপর এবং অন্য জনকে পাশ্ববর্তী প্রশান্ত ব্যানার্জির দোকানের পিছনে নিয়ে ধর্ষণ করে। দুই তরুনীকে জাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে নিয়ে আবারও ধর্ষন করে তারা। নির্যাতনের শিকার এক তরুণ ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানালে রবিবার (১৪ জানুয়ারি) তরুণীদেরকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ধর্ষণের শিকার তুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে শাকিল সরদার নামের একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শাকিল সরদারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর আসামী মেহেদী হাসানকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
অপরদিকে ফকিরহাট উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক জয়ন্ত দাস এবং যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শরীফুল ইসলাম শরীফের ১৪ জানুয়ারি যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাগেছে, সংগঠন বহির্ভূত ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল সরদার ফেরদৌসকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে।
Please follow and like us:









